গাজীপুর ভাওয়াল বনে পাতায় পাতায় দুর্নীতি, তদন্তের নামেও হয় ঘুষ বাণিজ্য!

গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : বেপরোয়া দুর্নীতি জোঁকের মতো লেপটে আছে গাজীপুর ভাওয়াল বনের রেঞ্জ এবং ফরেস্ট বিট অফিসগুলোতে। সাবেক প্রধান বন সংরক্ষক (সিসিএফ) সফিউল আলম চৌধুরীর আমলে গাজীপুরে চাঞ্চল্যকর বন দখলের ঘটনাগুলোর তদন্ত হয়েছে নামমাত্র। শুধু তাই নয়, তার আমলে গাজীপুরে একাধিক ফরেস্টারের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা একটি প্রভাবশালী চক্র দুর্নীতি করেও থেকে গেছে অধরা। এই সিন্ডিকেটের সদস্যদের বন বিধ্বংসী বিভিন্ন অপকর্ম খতিয়ে দেখার তদন্তের নামেও হয়েছে ঘুষ বাণিজ্য। এতে রাতারাতি বিপুল অর্থ ভৈববের মালিক বনে যান ওই সিন্ডিকেটের সদস্যরা। এ সুযোগে পার পেয়ে যান জেলার কুখ্যাত বনখেকোরা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ঢাকা বন বিভাগের অধীন রাজেন্দ্রপুর রেঞ্জের রাজেন্দ্রপুর পূর্ব বিট। এই বিটের তিনটি মৌজার ৩১টি সিএস দাগে বিশাল আয়তনের বনভূমি বেহাত হয়েছে। অথচ বেহাত বনভূমি উদ্ধারের পরিবর্তে উচ্ছেদের হুমকি দিয়ে সংশ্লিষ্ট বিট অফিসের বিরুদ্ধে দফায় দফায় ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ দীর্ঘদিনের।

এসব অভিযোগের ব্যাপারে রাজেন্দ্রপুর পূর্ব বিট কর্মকর্তা মো. আইয়ুব আলী শেখ জানান, ‘তার আমলে বনভূমি দখল হয়নি।’ আপনার আমলেই শামসুল, হানিসহ আরও অনেকেই বনে ঘরবাড়ি নির্মাণ করেছেন এমন মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি বলেন, ‘সুফল প্রকল্পের কাজে ব্যস্ততা থাকায় তিনি খোঁজ নিতে পারেননি।’

বন দখলকারী শামসুল জানান, ‘স্থানীয় এক ইউপি সদস্যর মাধ্যমে বিট অফিসার মো. আইয়ুব আলী শেখকে ঘুষ দিয়ে তিনি বনে বাড়ি নির্মাণ করেছেন।‘ একই কথা জানিয়েছেন শামসুলের পার্শ্ববর্তী কুমুর উদ্দিন নামে বন দখলকারী আর এক ব্যক্তি।

অনুসন্ধান বলছে, গাজীপুরে বন দখলের কায়দা ভিন্ন ধরনের। দখলকারীরা প্রথমে স্থানীয় বন দালাল বা প্রভাবশালীদের দিয়ে তদবির করিয়ে বিট অফিস ম্যানেজ করে। পরে বনে বাড়ি নির্মাণ করে নতুন ঢেউটিনে আলকাতরা লেপে দেওয়া হয়। এটি মূলত নতুন বাড়ি পুরাতন বলে তদন্তে চালিয়ে দেওয়ার অপকৌশল। তবে ২০১৯ সালের শুরুর দিকে গাজীপুরের বনাঞ্চলে অবাধে রঙিন ঢেউটিন দিয়ে ঘরবাড়ি নির্মাণকাজ শুরু হয়।

রঙিন ঢেউটিন দিয়ে বনে তিন কক্ষের বাড়ি নির্মাণে সংশ্লিষ্ট বিট অফিসে ঘুষ দিতে হয় ১ লাখ থেকে দেড় লাখ টাকা। বনে টিউবওয়েল স্থাপনে ঘুষ ৫-১০ হাজার, শৌচাগার নির্মাণে ঘুষ ১০-১৫ হাজার এবং বর্ষা মৌসুমের আগে পুরাতন বাড়ি মেরামতে ঘুষ দিতে হয় ২০-৩০ হাজার টাকা। মাস শেষে এই ঘুষের টাকা রেঞ্জ কর্মকর্তা, বিট কর্মকর্তা এবং বিটের স্টাফদের মাঝে তিনটি ভাগে বন্টন করা হয়।

অনুসন্ধান আরও বলছে, ২০১৬-২০১৯ সাল পর্যন্ত গাজীপুরে চাঞ্চল্যকর বন দখলের অগণিত সচিত্র প্রতিবেদন দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে ফলাও করে প্রকাশিত হয়। তবে তদন্তের নামে অগণিত বন দখলের ঘটনা ধামাচাপা দিয়ে গেছেন ঢাকা বন বিভাগের সাবেক সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) এনামুল হক। এ ছাড়া ঢাকা বন বিভাগ থেকে সিলেটে বদলী হওয়া এক ফরেস্টারের বদলি ঠেকিয়ে চেক স্টেশনে পোস্টিং, দুর্নীতির পাহাড়ের চূড়ায় থাকা এক ফরেস্টারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো তাকে গুরুত্বপূর্ণ দুই বিটের দায়িত্ব দিয়ে পুরস্কৃত করার ঘটনা ঘটেছে বিগত দিনে।

 

আরো জানতে…….

গাজীপুরে একদিকে বনায়ন, অন্যদিকে বন দখল!

 

 

সূত্র: খোলা কাগজ