হাসমত আলী : মাছ শিকার- কারো পেশা, কারো শখ বা নেশা। যাদের পেশা তাদের বলে জেলে। তারা পুরো বছর জুড়েই মাছ শিকার করে তা বিক্রি করায় ব্যস্ত থাকেন। আর অন্যরা মাছ শিকার করেন বিশেষ মৌসুমে। এদের সৌখিন মাছ শিকারী বলে। তাদের মাছ শিকারের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার বড়শি। বড়শি দিয়ে তারা বর্ষার মৌসুমে উন্মুক্ত জলাশয়ে আর অন্য সময় টিকিট কেটে পুকুরে বা খামারে মাছ শিকারে অংশ নেন।
সৌখিন মাছ শিকারীরা সাধারণত গায়ে পানি লাগাতে চান না। কেউ কেউ প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, মোটরসাইকেলে চড়ে আসেন মাছ শিকারে। তারা জলাশয়ের ধারে বসে আবার কেউ কেউ ডিঙ্গি নৌকায় চড়ে জলাশয়ের সুবিধাজনকস্থানে গিয়ে মাছ শিকার করে থাকেন। অনেকে বেশি মাছ আহরণের জন্য আধার (টোপ) তৈরিতে শত/হাজার টাকাও ব্যয় করেন। মাছ শিকারে ছুটে যান ভিন্ন জেলায়ও।

যদিও আমাদের দেশে মাছ শিকারের উপযুক্ত সময় বিবেচিত হয় বর্ষাকাল। তখন উন্মুক্ত জলাশয় তথা খাল-বিল,নদী নালা পানিতে টুই টুম্মুর থাকে। সে সময় গুলোতে মাছ শিকারে পেশাদার জেলেদের সাথে যোগ দেন সৌখিন মাছ শিকারীরাও। অন্য সময়গুলোতে সৌখিন মাছ শিকারীরা টিকিট কেটে পুকুরে বা জলাশয়ে মাছ শিকারে অংশ নেন। বিভিন্ন পুকুর বা জলাশয়ে টিকিটে মাছ ধরার উপযুক্ত সময় বিবেচিত হয় অক্টোবর/নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি/মার্চ পর্যন্ত। এ সময় গুলোতে পুকুর বা জলাশয়ে মালিকরাও এর (মাছ ধরার) অয়োজন করে থাকেন। এ দিন গুলোতে শিকারীদের মধ্যে যেন মাছ ধরার অলিখিত প্রতিযোগিতা চলে। উৎসুক জনতার মাছ ধরা উপভোগ করতে পুকুর বা জলাশয়ে পাড়ে ভীড় জমায়।

গত শনিবার গাজীপুর সিটি করপোরেশনের তিতারকুল এলাকার নিজাম উদ্দিনের পুকুরে টিকিটে মাছ ধরার আয়োজন করা হয়। এতে ২৩ জন সৌখিন মাছ শিকারী অংশ নেন। প্রতিটি সিটের মূল্য দুই হাজার টাকা। মাছ শিকারীরা সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত একটি সিটে দুটি বড়শি দিয়ে মাছ ধরতে পারবেন। এখানে মাছ ধরতে আসেন গাজীপুর সিটি করপোরেশনের চাননা (চান্দনা) এলাকার আব্দুল করিম। তিনি মূলত বাংলাদেশ কৃষি গবেষণায় ইনস্টিটিউটে চাকুরি করেন। তার সঙ্গী একই এলাকার সিএনজি অটোরিকশা চালক শামীম মিয়া। মাছ ধরার জন্য তারা ফজরের অজানের পর বাড়ি রওনা দিয়েছিলেন। সকাল ১০টার দিকে তিনি আনুমানিক ৮ কেজি একটি গ্রাসকার্ব ধরেন। তিনি জানান, আধার (টোপ) তৈরিতে তার আরো প্রায় দুই হাজার টাকা খরচ হয়েছে। জেলার আশপাশ এলাকা ছাড়াও তারা কিশোরগঞ্জ, হবিগঞ্জ, দিনাজপুর জেলায় টিকিটে মাছ ধরেছে। দূরে তথা অন্য জেলায় মাছ ধরতে গেছে আগের দিন বাড়ি থেকে রওনা হন। এক প্রশ্নের জবাবে তারা জানান, বেশিরভাগ সময়ই খরচের টাকা ওঠে না। আননন্দ উপভোগ করতে মাছ ধরতে যান।

আরেক সিটের মাছ শিকারী হাজী ফরজুল্লাহ পুকুরে বড়সি ফেলে টং কাঠির দিকে এক দৃষ্টিতে চেয়ে ছিলেন। তার বাড়ি সিটি করপোরেশনের হাড়িনাল এলাকায়। পেশায় ব্যবসায়ি। তার সঙ্গে একই সিটে বড়শি ফেলে বসে আছেন অপর মাছ শিকারী আনোয়ার হোসেন। হাজী ফরজুল্লাহ জানান, মাছ ধরা তার ছোট বেলা থেকেই শখ। এ বছর অন্ত ৫০ স্থানে টিকিটে মাছ ধরেছেন। স্থানেভেদে টিকিটের মূল্য দুই থেকে পাঁচ হাজার টাকা। ফেসবুক, হ্যান্ডবিল, বড়সির দোকান বা সাথী মাছ শিকাদের মাধ্যমে কখন কোথায় টিকিটে মাছ ধরা যায় তা জানাতে পারেন। এবার বোয়াল মাছ ধরতে তিনি ময়মনসিংহের শম্ভুগঞ্জের নদীতেও গিয়েছিল। তার মতে, বড় সাইজের মাছ শিকারের আনন্দই আলাদা। খরচের হিসেব করলে সে আনন্দ পাওয়া যাবে না।