শ্রীপুরে মাদ্রাসায় হুজুরের ‘বর্বরতার শিকার’ শিশু ইয়াছিন!

বিশেষ প্রতিনিধি : ছোট্ট শিশু ইয়াছিন, বয়স মাত্র সাত বছর। দুষ্টুমিতে মাতিয়ে রাখতো মুদি দোকানী বাবা মফিজুল ইসলাম ও গৃহিনী মা শারমিন আক্তারের সংসার। সন্তানকে শিক্ষিত মানুষ করার আশায় ময়মনসিংহের গফরগাঁও থেকে শ্রীপুরে দাদীর কাছে পাঠিয়ে দেন তারা। দাদী ভাড়া বাড়ির পাশের একটি মাদ্রাসায় ভর্তি করিয়ে দেয়ায়, কিছুটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন ইয়াছিনের মা-বাবা।

কিন্তু সম্প্রতি মাদ্রাসায় হুজুরের চাহিদামতো পড়া দিচ্ছিলো ইয়াছিন। পড়া না দেয়ার অজুহাতে ইয়াছিনকে বেত দিয়ে নির্মম ভাবে কয়েকদফা মারধর করেন। হুজুরের হিংস্রতায় এখন সারা শরীরেই আঘাতের চিহ্ন শিশুটির। একপর্যায়ে হুজুরের বর্বরতা সহ্য করতে না পেরে বুধবার সকালে সে মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে চলে আসেন দাদী ভাড়া বাড়ীতে। আর হুজুরের এমন আচরণে শিক্ষায় বাধা হয়ে দাঁড়ালো ইয়াছিনের।

বুধবার (৩রা মার্চ) ভোরে শ্রীপুর পৌর এলাকার কেওয়া পূর্বখন্ড এলাকার ‘মদিনাতুল উলুম মাদ্রাসায়’ এ ঘটনাটি ঘটেছে।

নির্যাতনের শিকার শিশুর বাড়ী ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও উপজেলার কান্দিপাড়া গ্রামে। তার বাবা মফিজুল ইসলাম নিজ এলাকায় মুদির ব্যবসা পরিচালনা করেন।

অভিযুক্ত শিক্ষক মোহাম্মদ আলী ওই মাদ্রাসার মুহতামিম। তার বাড়ীও ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানার দাইরগাঁও গ্রামে। তার বাবার নাম ফিরোজ রশিদ। শ্রীপুরের কেওয়া পূর্ব খন্ড গ্রামে তার ভাইয়ের সাথে মিলে নিজ ভবনে মদিনাতুল উলুম মাদরাসা গড়ে তুলেন তিনি। উক্ত মাদ্রাসায় নুরানী, নাজেরা ও হেফজ বিভাগের শিক্ষার্থীদের নিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে।

শিশুর পরিবার জানান, মা-বাবার দিনভর ব্যস্ততার কারণে এক বছর আগে ইয়াসিনকে হাফেজ হিসেবে গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে ওই মাদ্রাসার আবাসিক ছাত্র হিসেবে ভর্তি করেন। সম্প্রতি পড়ালেখার চাপ বেড়ে যাওয়ায় সে হুজুরকে পড়া দিতে পারছিল না। এরজেরে কয়েকদফা মারধর করা হয় তাকে। বুধবার সকালে হুজুরের মারধরের কারণে সে কান্নাকাটি করে, তার স্বজনের বাড়ীতে চলে আসে।

শিশুর মা শারমিন আক্তার বলেন, এভাবে কোন মানুষ কোন পশুকে মারতে পারেনা। অথচ তাঁর শিশু সন্তানকে মারধর করেছে। সন্তানকে লেখাপড়া করানোর জন্য এখানে দিয়েছিলাম, কিন্তু তা আর হলো না। হুজুরের বিচার তো আর আমরা করতে পারবো না তাই এর বিচারের ভারটা আল্লাহর কাছেই দিয়েছি।

শিশুর বাবা মফিজুল হক বলেন, হজুর ক্ষমা চেয়েছে, এর সাথে স্থানীয়রাও আমাদের বুঝিয়ে দিয়েছে তাই ছেলেকে নিয়ে বাড়ীতে চলে যাচ্ছি।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক মোহাম্মদ আলী বলেন, সে পড়া দিচ্ছিলো না, তাই তাকে মারধর করেছি। কিন্তু বিষয়টা এত বড় হয়ে যাবে বুঝতে পারিনি।

শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) তাসলিমা মোস্তারী বলেন, শিশুটিকে নিয়ে তার স্বজনরা দুপুরে আমার কার্যালয়ে এসেছিল। তাদের থানায় অভিযোগের পরামর্শ দিয়েছি।

শ্রীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খোন্দকার ইমাম হোসেন বলেন, এ বিষয়টি নিয়ে এখনো থানায় কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।