চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি: কালীগঞ্জে নামাজ থেকে ফেরার পথে প্রবাসীকে তুলে নিয়ে হামলা-লুট

গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : কালীগঞ্জে দাবিকৃত চাঁদা না দেয়ায় নামাজ থেকে ফেরার পথে হৃদয় (২১) নামে এক প্রবাসীকে হাত-পা এবং চোখ বেঁধে তুলে নিয়ে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে ও ছুরি দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে নগদ টাকা, মোবাইল ও স্বর্ণালংকার লুটের ঘটনা ঘটেছে। তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে হামলা ও শ্লীলতাহানির শিকার হয়েছে তার দুই বোন।

মঙ্গলবার (৬ জুলাই) সন্ধ্যায় কালীগঞ্জের মোক্তারপুর ইউনিয়নের দড়িবাগুন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় আহত হৃদয়ের বোন মিম্মা আক্তার বাদী হয়ে জড়িত ৭ কিশোরসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে।

অভিযুক্তরা হলো, দড়িবাগুন এলাকার নুর ইসলামের ছেলে শাকিল (২৭), আবুল হোসেনের ছেলে রুবেল (২৩), সাফিজ উদ্দিন সরকারের ছেলে জায়েদুল ইসলাম সরকার (২৭), বড়গাঁও এলাকার মৃত আলা উদ্দিনের ছেলে শাকিল (২৭) ও রকি (১৮), মনু পালোয়ানের ছেলে জুবায়ের (২০), মজিব পালোয়ানের ছেলে বাইতুল্লাহ (১৮), আমির উদ্দিনের ছেলে মুন্না (২১), জামির উদ্দিনের ছেলে রুবেল (২০), শাহার ছেলে হোসেন আলী (২০) এবং তোতা মিয়ার ছেলে ইয়াসিন (১৯)।

এদের মধ্যে  প্রধান আসামি শাকিলকে আটক করেছে পুলিশ।

হামলার শিকার প্রবাসী হৃদয় দড়িবাগুন এলাকার মৃত ইব্রাহিম খানের ছেলে। সে পাঁচ বছর পর মরিশাস থেকে সম্প্রতি দেশে ফিরে এই হামলার শিকার হয়েছে। হৃদয় আহতাবস্থায় গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

থানায় দায়ের করা এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হৃদয় পাঁচ বছর প্রবাস থেকে সম্প্রতি দেশে ফিরে বাড়িতে বিল্ডিং নির্মানের কাজ করছে। অভিযুক্তরা হৃদয়ের কাছে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করে বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখিয়ে তাকে হুমকি দিচ্ছিল। কিন্তু হৃদয় দাবিকৃত চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে হত্যার হুমকি দেয় অভিযুক্তরা। মঙ্গলবার (৬ জুলাই) সন্ধ্যায় দড়িবাগুন বড় মসজিদে মাগরিবের নামাজ আদায় করে বাড়ি ফিরছিল হৃদয়। সে সময় অভিযুক্তরা হৃদয়ের কাছে চাঁদার পাঁচ লাখ টাকা দাবি করে। তখন চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে হৃদয়ের হাত-পা ও চোখ বেঁধে জোড়পূর্বক আটোতে তুলে তাকে বড়গাঁও এলাকায় জনৈক হেকিম পালোয়ানের বাড়ির উত্তর পাশে থাকা একটি পাকা বেঞ্চে নিয়ে শুয়িয়ে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে ও ছুরি দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে অভিযুক্তরা। সে সময় হৃদয়ের সঙ্গে থাকা আইফোন ও একটি স্বর্ণের চেইন ও নগদ টাকা লুট করে অভিযুক্তরা। খবর পেয়ে হৃদয়ের বোন মিম্মা আক্তার (১৮) ও তার চাচাতো বোন সুরাইয়া আক্তার (১৬) ঘটনাস্থলে গেলে তাদের মারধর ও শ্লীলতাহানি করে এবং স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেয় অভিযুক্তরা।সে সময় আহতদের ডাক চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে তাদের হত্যার হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায় অভিযুক্তরা। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে।

বাদী মিম্মা আক্তার বলেন, ”ঘটনার পর পুলিশ প্রধান আসামি শাকিলকে আটক করেছে। পাঁচ লাখ টাকা চাঁদার দাবিতে হামলা, লুট ও শ্লীলতাহানির অভিযোগে আমি বাদী হয়ে জড়িত ১১ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত আরো ৮ জনের বিরুদ্ধে থানায় এজাহার দায়ের করেছি। অভিযুক্তরা এখনো আমাদের লাগাতার হুমকি দিচ্ছে।”

ঘটনা তদন্তের দায়িত্বে থাকা কালীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শামীম মিয়ার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করলেও তিনি রিসিভ না করায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

তবে কালীগঞ্জ থানার কর্তব্যরত ডিউটি অফিসার উপপরিদর্শক (এসআই) মনিরুজ্জামান বলেন, ‘ওই ঘটনায় জড়িত একজনকে আটক করা হয়েছে। ভুক্তভোগীর বোন বাদী হয়ে থানায় এজাহার দায়ের করেছে।’

অপর দিকে কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এ কে এম মিজানুল হক বলেন, ‘এ বিষয়ে এখনো পর্যন্ত লিখিত কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’