নিরাপত্তা স্তরে পরিবর্তন আনবে না হোয়াটসঅ্যাপ

নিরাপত্তা স্তরে পরিবর্তন আনবে না হোয়াটসঅ্যাপ

গাজীপুর কণ্ঠ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্ক : অনলাইনে ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে নতুন বিল পাস করেছে যুক্তরাজ্য। তবে এ নিয়ম মেনে চলতে নারাজ মেটা মালিকানাধীন মেসেজিং প্লাটফর্ম হোয়াটসঅ্যাপ। এর পরিবর্তে দেশটিকে কার্যক্রম গুটিয়ে নিতেও রাজি প্লাটফর্মটি। খবর বিবিসি।

প্লাটফর্মটির প্রধান উইল ক্যাথার্ট জানান, নতুন আইনের মাধ্যমে যদি এনক্রিপ্টেড মেসেজিং সেবার নিরাপত্তা কমানোর কথা বলা হয় তাহলে আপস করা হবে না। তবে দেশটির সরকার বলছে নতুন আইনের অধীনে ব্যক্তি নিরাপত্তা ও শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব।

যুক্তরাজ্যের যোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা অফকমের তথ্যানুযায়ী, যুক্তরাজ্যে প্রতি ১০ জন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে সাতজনের বেশি হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করে থাকে। সেই সঙ্গে এটি দেশটিতে সর্বাধিক ব্যবহৃত মেসেজিং প্লাটফর্ম। এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশনের কারণে দুজনের মধ্যে মেসেজে যে কথোপকথন হয়ে থাকে সেগুলো একেবারেই সুরক্ষিত থাকে। এমনকি হোয়াটসঅ্যাপের পক্ষেও সেগুলো যাচাই করা সম্ভব নয়। কিন্তু অনলাইন সেফটি বিলের সমালোচকরা বলছেন, এটি অফকমকে ব্যক্তিগত এনক্রিপ্টেড-মেসেজিং অ্যাপস ও অন্যান্য পরিষেবায় শিশু-নির্যাতনমূলক বিষয়বস্তু শনাক্ত ও অপসারণের সক্ষমতা দিয়ে থাকে।

উইল ক্যাথার্ট বলেন, ‘‌আইন মেনে যদি নিরাপত্তা লেভেল কমানো হয় বা সীমিত করা হয় তাহলে সব ব্যবহারকারীই প্রভাবিত হবে।’ তিনি বলেন, ‘‌পুরো বিশ্বে আমাদের যত ব্যবহারকারী আছে তারা নিরাপত্তাকেই প্রাধান্য দিয়ে থাকে। আমাদের মোট ব্যবহারকারীর ৯৮ শতাংশই যুক্তরাজ্যের বাইরের। তারা কেউই নিরাপত্তা স্তর কমানোর পক্ষে নয়।’ সে হিসেবে আইন না মানলে যুক্তরাজ্যে প্লাটফর্মটি নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারে। বিবিসিকে আগে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে সিগন্যালের প্রেসিডেন্ট মেরেডিথ হুইটেকার জানান, নতুন অনলাইন নিরাপত্তা বিলের মাধ্যমে যদি এনক্রিপ্টেড মেসেজিং সেবার নিরাপত্তা স্তর কমাতে বলা হয় তাহলে দেশটি থেকে তারা কার্যক্রম গুটিয়ে নেবে। সিগন্যালের মতো উদ্যোগ নেয়া হবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে ক্যাথার্ট বলেন, ‘হোয়াটসঅ্যাপের নিরাপত্তা স্তর কমানো হবে না। আমরা কখনই এমন কিছু করিনি। এছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে আমাদের কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়ার বিষয় মেনে নিয়েছি। যুক্তরাজ্যও যে এমন কিছু করবে সেটিও আমাদের চিন্তায় রয়েছে।’

যুক্তরাজ্য সরকার ও শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিতে কার্যক্রম পরিচালনাকারী দাতব্য সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন থেকেই এনক্রিপশনের বিরোধিতা করে আসছে। তাদের দাবি মেসেজিংয়ের এনক্রিপশন অনলাইনে শিশু নির্যাতনের ক্রমবর্ধমান সমস্যা মোকাবেলায় বাধা দিচ্ছে।