গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : কাপাসিয়ায় গত ৪ আগস্ট ডাম্প ট্রাক চাপায় পিষ্ট হয়ে সাংবাদিক মঞ্জুর হোসেন মিলনের (৫৮) মৃত্যুর ঘটনায় ডাম্প ট্রাকের চালক আহাদ মিয়াকে (২৬) মুন্সিগঞ্জে লৌহজং থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
চালকের মাঝারী যানবাহন চালানোর ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকলেও ভারী যানবাহন চালানোর কোন বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স ছিল না। এছাড়াও ট্রাকটির ধারণ ক্ষমতা ৮ টন থাকা সত্ত্বেও সে আনুমানিক ১৪ টন ওজনের বালু বোঝাই করে গাড়িটি চালিয়ে আসছিল।
সোমবার (০৭ আগস্ট) র্যাব-১ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে।
গ্রেপ্তার চালক আহাদ মিয়া কালীগঞ্জের চৌড়া এলাকার আতিক মিয়ার ছেলে।
র্যাব জানায়, গ্রেপ্তার আহাদ গত ৪ আগস্ট সকালে বালু ভর্তি ড্রাম ট্রাক নিয়ে কাপাসিয়া থেকে চাঁদপুর যাওয়ার উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল। ট্রাকটিতে অতিরিক্ত ওজনের বালু বোঝাই থাকা সত্ত্বেও সে দ্রুত পৌঁছানের জন্য বেপরোয়া গতিতে ট্রাক চালাতে থাকে। সকাল সোয়া ৯টার দিকে কাপাসিয়া উপজেলার কোর্টবাজালিয়া এলাকায় পৌছলে বিপরীতদিক থেকে মোটরসাইকেলযোগে আসা সাংবাদিক মিলনকে চাপা দিলে ভিকটিম ঘটনাস্থলেই মারা যায়। দুর্ঘটনার পর ঘাতক ট্রাক চালক ঘটনাস্থলে ট্রাকটি ফেলে কৌশলে পালিয়ে যায়।
জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার আহাদ র্যাবকে জানিয়েছে, গত ৭ বছর ধরে মাহিন্দ্রা, পিকআপসহ বিভিন্ন ধরণের গাড়ি চালিয়ে আসছিল। তার মাঝারী যানবাহন চালানোর ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকলেও ভারী যানবাহন চালানোর কোন বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স ছিল না। এছাড়াও ট্রাকটির ধারণ ক্ষমতা ৮ টন থাকা সত্ত্বেও সে আনুমানিক ১৪ টন ওজনের বালু বোঝাই করে ট্রাকটি চালিয়ে আসছিল। দুর্ঘটনার পর সে পালিয়ে মুন্সিগঞ্জে লৌহজং এলাকায় এক আত্মীয়ের বাড়িতে আত্মগোপন করে।
উল্লেখ্য : গত ৪ আগস্ট (শুক্রবার) সকালে সাংবাদিক মঞ্জুর হোসেন মিলন মোটরসাইকেলযোগে কাপাসিয়া যাচ্ছিলে। পথে কাপাসিয়া উপজেলার কোর্টবাজালিয়া এলাকায় পৌঁছলে বিপরীত দিক থেকে আসা বালুবোঝাই একটি ড্রাম্প ট্রাকের চাপায় তার মার্মান্তিক মৃত্যু হয়। তবে মোটরসাইকেলটি ছিল অল্পদূরে স্ট্যান্ড করা। মিলনের পরিবারের দাবি, ড্রাম ট্রাক মিলনের মোটরসাইকেলকে সাইট না দিলে তিনি রাস্তার পাশে মোটরসাইকেল রেখে এ প্রসঙ্গে চালককে জিজ্ঞাসা করেন। এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। এ পর্যায়ে চালক তার উপর দিয়ে ডাম্প ট্রাক উঠিয়ে দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই সাংবাদিক মঞ্জুর হোসেন মিলনের মৃত্যু হয়।
সাংবাদিক মঞ্জুর হোসেন মিলন গাজীপুর থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক পত্রিকা গাজীপুর দর্পণ-এর সম্পাদক ও প্রকাশক ছিলেন। এ ছাড়া তিনি দৈনিক ভোরের দর্পণ ও দৈনিক করতোয়ার গাজীপুর প্রতিনিধি ছিলেন। একই সঙ্গে তিনি গাজীপুর সিটি প্রেসক্লাবের সভাপতি ছিলেন। তাঁর সাংবাদিকজীবনের শুরু ১৯৯০ সালের দিকে। তিনি বিভিন্ন সময় দৈনিক দিনকাল, দৈনিক সমকাল, দৈনিক যুগান্তর, বৈশাখী টেলিভিশনসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে কাজ করেছেন।