হোয়াটসঅ্যাপের বিভিন্ন প্রতারণা থেকে সুরক্ষিত থাকার উপায়

হোয়াটসঅ্যাপের বিভিন্ন প্রতারণা থেকে সুরক্ষিত থাকার উপায়

গাজীপুর কণ্ঠ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্ক : স্ক্যামার বা প্রতারকদের অন্যতম পছন্দের প্লাটফর্ম এখন হোয়াটসঅ্যাপ। সাম্প্রতিক সময়ে সাইবার অপরাধ বেড়ে যাওয়ায় ব্যবহারকারীরা নানা ধরনের প্রতারণার শিকার হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন।

ভুয়া বার্তা পাঠানোর পাশাপাশি কল করে প্রতারণা করলেও সম্প্রতি হোয়াটসঅ্যাপে স্ক্রিন শেয়ারিং ফিচারের মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের ফোন বা কম্পিউটার থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চুরি করে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে প্রতারকরা। হোয়াটসঅ্যাপের এসব স্ক্যাম বা প্রতারণা থেকে সুরক্ষিত থাকতে বেশকিছু বিষয়ের কথা জানিয়েছেন নিরাপত্তাবিদরা।

১. পরিচয় নকল বা ছদ্মবেশ ধারণ: স্ক্যামাররা প্রায়ই প্রতারণার জন্য পরিচয় নকল বা ছদ্মবেশ ধারণ করে থাকে। এর পরিপ্রেক্ষিতে একজন ব্যবহারকারীর আত্মীয় বা প্রিয়জনের কাছে জরুরি সাহায্য হিসেবে অর্থ দাবি করে থাকে। এ অবস্থায় টাকা পাঠানোর আগে ভিডিও কলের মাধ্যমে পরিচয় যাচাই করে নেয়া জরুরি।

২. ভেরিফিকেশন কোড স্ক্যাম: অধিকাংশ ব্যবহারকারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে, ব্যাংক অ্যাকাউন্টসহ বিভিন্ন ওয়েবসাইটের অ্যাকাউন্ট সুরক্ষিত রাখতে টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশনে ফোন নাম্বার ব্যবহার করে থাকে। তাই হোয়াটসঅ্যাপে কোনো অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে ভেরিফিকেশন কোড শেয়ার করা যাবে না। যদি এ ধরনের কোড শেয়ার করা হয় তাহলে স্ক্যামার বা হ্যাকাররা অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করে পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করতে পারে। তাই এ ধরনের কোনো রিকোয়েস্ট এলে ওই অ্যাকাউন্ট রিপোর্ট করতে হবে।

৩. ফ্রি গিফট কার্ড ও ভাউচার: পরিচিত ব্র্যান্ডের ফ্রি গিফট ভাউচারবিষয়ক অফার থেকে সতর্ক থাকতে হবে। হোয়াটসঅ্যাপে কোনো অপরিচিত নম্বর থেকে কোনো লিংক এলে তাতে ক্লিক করা যাবে না।

৪. অপরিচিত কিউআর কোড: হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীদের কোনো অপরিচিত সোর্স থেকে আসা কিউআর কোড স্ক্যান করা থেকে বিরত থাকা উচিত। বিশেষ করে যদি কোনো লটারিতে পুরস্কারের জেতার প্রলোভন দেখানো হয়। এ প্রক্রিয়ায় প্রতারণার মাধ্যমে সংবেদনশীল তথ্য হাতিয়ে নেয়া হয়।

৫. হোয়াটসঅ্যাপ গোল্ড স্ক্যাম: ব্যবহারকারীদের হোয়াটসঅ্যাপ গোল্ড নামের প্রিমিয়াম অ্যাপে প্রচারমূলক মেসেজ থেকে সাবধান থাকতে হবে। মূলত এমন কোনো অ্যাপ অফিশিয়ালভাবে হোয়াটসঅ্যাপ তৈরি করেনি। তাই এসব লিংকে ক্লিক করে অ্যাপ ডাউনলোড করতে গেলে ম্যালওয়্যার বা ডাটা চুরির শিকার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

৬. লটারি স্ক্যাম: লটারি জিতেছেন, হোয়াটসঅ্যাপ থেকে এমন মেসেজ এলে সতর্ক হতে হবে। মূলত এ ধরনের মেসেজের মাধ্যমে প্রলোভন দেখিয়ে ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নেয়ার চেষ্টা করা হয়। এর মধ্যে ব্যাংকের তথ্য, ব্যক্তিগত পরিচয়পত্র, ঠিকানা, ই-মেইলও থাকে।

৭. ক্রিপ্টোর মাধ্যমে দ্রুত ধনী হওয়ার স্ক্যাম: অজানা ব্যক্তিদের কাছ থেকে ক্রিপ্টো কারেন্সিতে বিনিয়োগে উচ্চ মুনাফার প্রলোভন থেকে সাবধান থাকতে হবে। যেকোনো বিনিয়োগ করার আগে ভালোভাবে তথ্য যাচাই করে নিতে হবে।

৮. দান বা চ্যারিটির নামে প্রতারণা: হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে কোনো এনজিও বা অলাভজনক প্রতিষ্ঠানকে অর্থ প্রদানে সতর্ক থাকতে হবে। প্রযুক্তির উৎকর্ষের যুগে বিভিন্ন কোম্পানির লোগো নকল করে পেজ বা অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। তাই লেনদেনের আগে সঠিকভাবে তথ্য যাচাইয়ের জন্য প্রতিষ্ঠানের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট, চ্যানেল বা সরাসরি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করা যেতে পারে।

৯. ব্ল্যাকমেইল: হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীদের অজানা বা অপরিচিত নম্বর থেকে ভিডিও বা অডিও কল রিসিভ করা থেকে সাবধান থাকতে হবে। কারণ অপরিচিত নম্বর থেকে অনেক সময় সাইবার অপরাধীরা অনৈতিক কনটেন্ট পাঠিয়ে ব্ল্যাকমেইল করতে পারে। এজন্য অপরিচিত নম্বর থেকে কোনো কিছু আসলে তা ব্লক করে হোয়াটসঅ্যাপে রিপোর্ট করা উচিত।