গাজীপুর-২ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী সবাই নতুন মুখ

গাজীপুর-২ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী সবাই নতুন মুখ

হাসমত আলী : আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গাজীপুর-২ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী অর্ধডজনের বেশি নতুন প্রার্থী মাঠে নেমেছেন। তফসিল এখনো ঘোষণা না হলেও সম্ভাব্য প্রার্থীরা এলাকায় প্রচারণা চালাচ্ছেন। তারা অনুসারী কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে বিএনপি ঘোষিত ৩১ দফার লিফলেট বিতরণ, গণসংযোগ ও দোয়া মাহফিলে অংশ নিচ্ছেন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আসন পুনর্বিন্যাসের ফলে এবার গাজীপুর-২ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সবাই জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নতুন মুখ।

রাজধানীর পাশের শিল্প অধ্যুষিত ও জনবহুল জেলা গাজীপুরে আগে সংসদীয় আসন ছিল পাঁচটি। নির্বাচন কমিশনের আসন পুনর্বিন্যাস ও সীমানা পুনর্নির্ধারণের ফলে এখন আসনের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ছয়টিতে।

দেশের রাজনীতিতে গাজীপুরের গুরুত্ব বরাবরই বিশেষ। জেলার রাজনীতিতে সবচেয়ে আলোচিত ও গুরুত্বপূর্ণ আসন হচ্ছে গাজীপুর-২, যা গাজীপুর শহরকেন্দ্রিক।

আগে গাজীপুর সদর ও টঙ্গী এলাকা নিয়ে গঠিত ছিল এই আসন। ১৯৯৬ সাল থেকে এটি আওয়ামী লীগের নিয়ন্ত্রণে ছিল। তবে বিএনপি অংশ নেওয়া প্রতিটি নির্বাচনে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল।

গত বছরের ছাত্র–জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের পতনের পর বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিএনপি এই আসনে তুলনামূলকভাবে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তাছাড়া আসন পুনর্বিন্যাসের পর বর্তমান গাজীপুর-২ এলাকার অধিকাংশ অঞ্চলই বিএনপি-ঘেঁষা ভোটার অধ্যুষিত বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

পূর্বের গাজীপুর-২ আসন থেকে বিএনপির টিকিটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন প্রয়াত অধ্যাপক এম এ মান্নান, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা হাসান উদ্দিন সরকার এবং শ্রমিক দলের নেতা সালাউদ্দিন সরকার।

হাসান উদ্দিন সরকার ও সালাউদ্দিন সরকারের বাড়ি টঙ্গীতে, আর অধ্যাপক এম এ মান্নানের বাড়ি বর্তমান গাজীপুর-২ এর কাউলতিয়া এলাকায়।

অধ্যাপক মান্নান এখন আর জীবিত না থাকায় বিএনপিকে এই আসনে নতুন প্রার্থীদের নিয়েই লড়াইয়ে নামতে হচ্ছে।

নির্বাচন কমিশনের পুনর্বিন্যাস অনুযায়ী, নতুন গাজীপুর-২ আসন গঠিত হয়েছে গাজীপুর মহানগরের ২৫টি ওয়ার্ড (সাবেক গাজীপুর পৌরসভা, কাশিমপুর, বাসন ও কাউলতিয়া ইউনিয়ন) এবং সদর উপজেলার বাড়িয়া ইউনিয়ন নিয়ে। এই আসনের ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৩০ হাজার ৪৫৭ জন।

আগামী ডিসেম্বর মাসে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে বলে জানা গেছে।

দলীয় মনোনয়ন এখনো ঘোষণা না হলেও গাজীপুর-২ আসনে বিএনপির অন্তত সাতজন নেতা নির্বাচনী মাঠ গোছাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তারা নিয়মিতভাবে তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং কেন্দ্রীয় হাইকমান্ডের সঙ্গেও যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছেন।

মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ডা. মাজহারুল আলম, গাজীপুর মহানগর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মো. শওকত হোসেন সরকার, প্রয়াত অধ্যাপক এম এ মান্নানের ছেলে ও মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম মনজুরুল করিম রনি, মহানগর বিএনপির সাবেক সহসভাপতি আলা উদ্দিন চৌধুরী, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর হান্নান মিয়া হান্নু, মহানগর বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আফজাল হোসেন কায়সার ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শাহাদাত হোসেন শাহিন উল্লেখযোগ্য।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা চলতি মাসেই ঘোষণা করা হতে পারে।

বিএনপির একাধিক নেতার প্রার্থী হওয়ার কারণে তৃণমূল নেতাকর্মীদের কদর বেড়েছে। সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিয়মিত তাদের খোঁজখবর নিচ্ছেন, মতামত নিচ্ছেন এবং পাশে থাকার আহ্বান জানাচ্ছেন। স্থানীয় নেতাদের মতে, এতে দলীয় কর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে।

সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গাজীপুর-২ আসনের নির্বাচনী মাঠে শুধু বিএনপি নয়, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), জাতীয় পার্টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, গণ অধিকার পরিষদ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, এবি পার্টি, সিপিবি, বাসদ ও বাম গণতান্ত্রিক জোটের নেতারাও সক্রিয় রয়েছেন।

পোস্টার, ব্যানার, বিলবোর্ড ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে প্রার্থীরা নিজেদের উপস্থিতি জানান দিচ্ছেন। নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় গাজীপুর-২ আসনের রাজনীতি ইতিমধ্যে প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে।