পাকিস্তানে শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হলে ইরানে ফের হামলা : ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি

পাকিস্তানে শান্তি আলোচনা চলাকালেই যুদ্ধজাহাজে অস্ত্র বোঝাইয়ের নির্দেশ মার্কিন প্রেসিডেন্টের

পাকিস্তানে শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হলে ইরানে ফের হামলা : ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি

গাজীপুর কণ্ঠ, আন্তর্জাতিক ডেস্ক

পাকিস্তানের ইসলামাবাদে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনা শুরুর প্রাক্কালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, আলোচনা ব্যর্থ হলে ইরানে ফের সামরিক হামলা চালানো হবে। 

শুক্রবার (১০ এপ্রিল) নিউ ইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, যুদ্ধজাহাজে ইতিমধ্যে উন্নত অস্ত্রশস্ত্র বোঝাই শুরু হয়েছে।

ট্রাম্প বলেন, “আমরা জাহাজ ভরছি। এখন পর্যন্ত তৈরি সেরা অস্ত্র দিয়ে ভরছি — আগে যা ব্যবহার করেছিলাম তার চেয়েও উন্নত। চুক্তি না হলে সেগুলো ব্যবহার করা হবে, এবং অত্যন্ত কার্যকরভাবে করা হবে।”

দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির পর চূড়ান্ত শান্তিচুক্তির লক্ষ্যে ইসলামাবাদে আলোচনা শুরু হচ্ছে। মার্কিন পক্ষে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জেরেড কুশনার। ইরানের পক্ষে আলোচনায় অংশ নেবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ।

ট্রাম্প অভিযোগ করেন, ইরানি কর্মকর্তারা মুখোমুখি বৈঠকে পারমাণবিক কর্মসূচি ছেড়ে দেওয়ার আশ্বাস দিলেও পরে গণমাধ্যমে ভিন্ন কথা বলছেন।

তিনি বলেন, “মুখের সামনে বলছে — সব পারমাণবিক অস্ত্র বিদায়। তারপর বাইরে গিয়ে বলছে — না, আমরা সমৃদ্ধকরণ চাই। আগামী ২৪ ঘণ্টায় সব পরিষ্কার হয়ে যাবে।”

উল্লেখ্য, যুদ্ধপূর্ব আলোচনায় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণকে ইরানের ‘অলঙ্ঘনীয় অধিকার’ বলে দাবি করেছিলেন।

ইসলামাবাদ বৈঠকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে। এর মধ্যে রয়েছে ইরানের কাছে মজুত প্রায় ৪৫০ কিলোগ্রাম সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তর, হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক নৌপরিবহনের জন্য উন্মুক্ত রাখা, আঞ্চলিক প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোতে ইরানের সমর্থন বন্ধ করা এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নির্ধারণ। পাশাপাশি মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়টিও আলোচনায় আসবে, যা ইরানের দীর্ঘদিনের দাবি।

ট্রাম্প স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নিরাপদ পথ নিশ্চিত করা যেকোনো চুক্তির অপরিহার্য শর্ত। তবে যুক্তরাষ্ট্র বোমা হামলা বন্ধ করার পর থেকে এখন পর্যন্ত এই প্রণালি দিয়ে খুব কম জাহাজ চলাচল করেছে।