রয়টার্স
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ থামাতে আলোচনার অচলাবস্থা কাটাতে নতুন প্রস্তাব পাঠিয়েছে তেহরান।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ও পাকিস্তানের একজন কর্মকর্তা শুক্রবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পাকিস্তানি মধ্যস্থতায় সম্পৃক্ত ওই কর্মকর্তা জানান, বৃহস্পতিবার রাতেই প্রস্তাবটি পাকিস্তানের হাতে পৌঁছায় এবং পরে তা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। তবে প্রস্তাবের বিস্তারিত বিষয়বস্তু প্রকাশ করেননি তিনি।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনাও বিষয়বস্তু জানায়নি। হোয়াইট হাউস মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে, তবে আলোচনা চলছে বলে নিশ্চিত করেছে।
নতুন প্রস্তাবের খবরে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কিছুটা কমেছে, যদিও তা এখনো প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলারের উপরেই রয়েছে।
হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের ২০ শতাংশ আটকে গেছে, যা জ্বালানি বাজারে এযাবৎকালের সবচেয়ে বড় বিপর্যয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই অবরোধ বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার আশঙ্কাও বাড়িয়ে তুলেছে।
মার্কিন নৌবাহিনী ইরানি অপরিশোধিত তেলের রপ্তানি বন্ধ রেখেছে। শুক্রবার মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ জাহাজ মালিকদের সতর্ক করেছে যে, প্রণালী পার হতে ইরানকে টোল দিলে তারা মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়বেন।
গত ৮ এপ্রিল থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও পরিস্থিতি এখনো অস্থির। বৃহস্পতিবার ইরানকে আলোচনায় বাধ্য করতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নতুন সামরিক অভিযানের পরিকল্পনা নিয়ে ব্রিফ করার খবরে তেলের দাম চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলার পর ইরান উপসাগরীয় দেশগুলোতে মার্কিন ঘাঁটি, অবকাঠামো ও মার্কিন-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোতে পাল্টা হামলা চালায়। পাশাপাশি ইরান-সমর্থিত লেবাননের হিজবুল্লাহ ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করলে ইসরায়েলও লেবাননে পাল্টা আঘাত হানে।
ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সতর্ক করেছেন, যেকোনো নতুন মার্কিন হামলা হলে — তা সীমিত হলেও — যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক অবস্থানে ‘দীর্ঘ ও বেদনাদায়ক’ পাল্টা আঘাত নামিয়ে আনা হবে। বাহিনীটির মহাকাশ বিভাগের কমান্ডার মাজিদ মুসাভি বলেন, মার্কিন আঞ্চলিক ঘাঁটিগুলোর যা পরিণতি হয়েছে, রণতরিগুলোর ক্ষেত্রেও তা-ই হবে।
দুই জ্যেষ্ঠ ইরানি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছেন, তেহরান পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে দেখেছে যে স্বল্পমেয়াদি ও তীব্র মার্কিন হামলার পর ইসরায়েলি আক্রমণও আসতে পারে। সে অনুযায়ী বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে।
অ্যাক্সিয়স জানিয়েছে, ট্রাম্পের সঙ্গে শীর্ষ মার্কিন সামরিক কমান্ডারদের বৃহস্পতিবারের বৈঠকে প্রণালীর একটি অংশ স্থল সেনা দিয়ে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পুনরায় চালুর পরিকল্পনাও ছিল। ট্রাম্প মার্কিন অবরোধ বাড়ানো বা একতরফা বিজয় ঘোষণার বিষয়টিও বিবেচনা করছেন বলে জানা গেছে।
১৯৭৩ সালের ওয়ার পাওয়ার্স রেজোলিউশন অনুযায়ী শুক্রবার ছিল যুদ্ধ শেষ করার বা কংগ্রেসে বাড়তি সময়ের যৌক্তিকতা তুলে ধরার আনুষ্ঠানিক সময়সীমা। তবে হোয়াইট হাউসের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এপ্রিলে যুদ্ধবিরতির ফলে সংঘাত কার্যত থেমে গেছে বলে প্রশাসন মনে করছে।
একইসঙ্গে কূটনৈতিক সমাধানের প্রস্তুতিও নিচ্ছে ওয়াশিংটন। ১ মে সহযোগী দেশগুলোকে পাঠানো একটি মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বার্তায় ‘মেরিটাইম ফ্রিডম কনস্ট্রাক্ট’ নামের নতুন জোটে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে, যার লক্ষ্য হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল নিরাপদ করা। ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যসহ বেশ কয়েকটি দেশ এ নিয়ে আলোচনা করছে, তবে তারা জানিয়েছে, সংঘাত শেষ হলেই কেবল তারা প্রণালী খুলতে সহায়তা করবে।
ট্রাম্প মঙ্গলবার জানিয়েছিলেন, ইরানের আগের প্রস্তাবে তিনি সন্তুষ্ট নন। পাকিস্তানও নতুন বৈঠকের কোনো তারিখ নির্ধারণ করেনি। এই যুদ্ধে এ পর্যন্ত হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, যাদের বেশির ভাগ ইরান ও লেবাননের নাগরিক।