গাজীপুর কণ্ঠ, খেলা ডেস্ক
দেশের ক্রিকেট অচল হয়ে পড়েছিল আমিনুল ইসলাম বুলবুলের মেয়াদে। বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে পর্যন্ত খেলতে পারেনি বাংলাদেশ দল। অবশেষে এই ঘটনা তদন্তে নেমেছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, যা আগেই ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল আমিনুল হকের বক্তব্যে।
গত ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ মার্চ পর্যন্ত ভারত এবং শ্রীলঙ্কার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। টুর্নামেন্টে সরাসরি খেলার যোগ্যতা অর্জন করেও শেষ পর্যন্ত অংশ নিতে পারেনি বাংলাদেশ দল। তৎকালীন সরকার এবং ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের সিদ্ধান্তে। তাদের সঙ্গে সুর মেলান তখনকার বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলও।
পুরো ঘটনা তদন্তে গঠন করা হয়েছে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি। কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. এ. কে. এম অলি উল্যাকে। অপর দুই সদস্য হলেন- সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশার সুমন এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার ফয়সাল দস্তগীর, যিনি একজন ক্রীড়া সংগঠকও।

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী তদন্ত কমিটির কার্যপরিধি হলো- আইসিসি ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল অংশগ্রহণ না করার বিষয়ে পর্যালোচনাপূর্বক প্রণয়ন, বিষয় সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় পর্যালোচনা এবং কমিটি আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় বরাবর দাখিল করবে।
বিশ্বকাপের আগ মুহুর্তে মোস্তাফিজুর রহমানকে ঘিরে শুরু হয় বহুমাত্রিক সংকট। চলমান আইপিএলের আগে নিলামে টাইগার কাটার মাস্টারকে কিনেছিল কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর)। এরপরই ভারতে আন্দোলনে নামে একটি উগ্র ধর্মীয় গোষ্ঠী। বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার দাবি জানিয়ে মোস্তাফিজকে আইপিএল থেকে বাদ দিতে আন্দোলন শুরু করে।
আন্দোলনের তীব্রতা বাড়ায় ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড অব কন্ট্রোলের (বিসিসিআই) নির্দেশে মোস্তাফিজকে বাদ দেয় কেকেআর। তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় ভারতে বিশ্বকাপের জন্য দল না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে নেয় বাংলাদেশ সরকার, যা জানান তৎকালীন ক্রীড়া ও আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। বুলবুলের বোর্ডও তাদের পক্ষে ছিল।
আইসিসি কিংবা বিসিসিআই, কারো সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই শুরুতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেন আসিফ নজরুল। এমনকি আলোচনা করা হয়নি দেশের ক্রিকেটারদের সঙ্গেও। পরবর্তীতে নিরাপত্তা ইস্যু দেখিয়ে ভারতের পরিবর্তে শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ আয়োজনের জন্য আইসিসির কাছে আবেদন করে বিসিবি।
আইসিসি ভারতে বাংলাদেশের জন্য কোনো হুমকি পায়নি। তাই ভেন্যু পরিবর্তন করেনি। এমনকি আইসিসির বোর্ড সভাতেও বাংলাদেশের পক্ষে রায় দেয়নি অন্যান্য ক্রিকেট খেলুড়ে দেশগুলো (পাকিস্তান বাদে)। সংস্থাটি ভারতেই বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ খেলতে বলে। কিন্তু আসিফ নজরুল এবং বুলবুল তাদের সিদ্ধান্তে অটল থাকলে বাংলাদেশকে সরিয়ে স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপে অন্তর্ভুক্ত করে আইসিসি।