রেজাউল সরকার, গাজীপুর কণ্ঠ
বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি কথা বহু বছর ধরে প্রায় সত্যি বলে মেনে নেওয়া হয়েছিল, দল যে-ই আসুক, গাজীপুর থেকে মন্ত্রিপরিষদে অন্তত একজন থাকবেনই। এটা কোনো সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা ছিল না, কোনো দলীয় প্রতিশ্রুতিও নয়।
এটা ছিল একটি বাস্তব স্বীকৃতি। যে জেলা দেশের শিল্পের হৃদস্পন্দন, যেখানে প্রায় ৫০ লক্ষেরও বেশি শ্রমিকের বাস, যে জেলার কারখানা থেকে রপ্তানির টাকা আসে দেশের কোষাগারে, সেই জেলার একটি কণ্ঠস্বর মন্ত্রিসভায় থাকা উচিত।
১৯৭৩ থেকে ২০২৪, একান্ন বছরের ইতিহাস সেই স্বীকৃতিকে প্রায় অলিখিত নিয়মে পরিণত করেছিল। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে সেই নিয়ম ভাঙল।
পাঁচটির মধ্যে চারটি আসনে বিএনপির বিজয়ের পরেও তারেক রহমানের পঞ্চাশ সদস্যের মন্ত্রিসভায় গাজীপুরের একটি নামও নেই।
এটা কি কেবল রাজনৈতিক অঙ্কের ফল? নাকি এর পেছনে আছে ক্ষমতার অন্দরমহলের কোনো গভীর সমীকরণ, যার হদিস বাইরে থেকে মেলে না?
প্রথম কথা: প্রাপ্যতার প্রশ্নটা আগে মেটানো দরকার
শূন্যতার কারণ খোঁজার আগে একটি মৌলিক প্রশ্নের উত্তর দেওয়া জরুরি। গাজীপুর কি আদৌ মন্ত্রিত্বের দাবিদার ছিল, নাকি দাবিটা কেবল আবেগের?
উত্তরটা তিনটি আলাদা মাপকাঠিতে খোঁজা দরকার।
ঐতিহাসিক মাপকাঠিতে: ১৯৭৩ সাল থেকে ২০২৪ পর্যন্ত প্রায় প্রতিটি নির্বাচিত সরকারের মন্ত্রিপরিষদে গাজীপুরের প্রতিনিধি ছিলেন। ব্যতিক্রম হয়েছে মাত্র দুইবার, একবার স্বৈরতন্ত্রে, একবার নির্বাচনী পরাজয়ে। দুটো ক্ষেত্রেই কারণ ছিল পরিস্থিতির চাপ, সচেতন উপেক্ষা নয়।
তাজউদ্দীন আহমদ থেকে শুরু করে মোজাম্মেল হক পর্যন্ত — এই ধারাটি বলে দেয় যে গাজীপুরের মন্ত্রিত্ব ব্যতিক্রম নয়, এটাই স্বাভাবিক। ব্যতিক্রম হলো অনুপস্থিতি।
নির্বাচনী মাপকাঠিতে: পাঁচটির মধ্যে চারটি আসনে জয়। শতকরা আশি ভাগ। গাজীপুরে বিএনপির ইতিহাসের সেরা ফল। আগে কখনো চারটি আসন একসঙ্গে পায়নি দলটি। এই অর্জনের স্বীকৃতি মন্ত্রিত্বের মাধ্যমে আসা উচিত ছিল। অন্তত সেটাই প্রত্যাশিত ছিল। প্রশ্নটা তখনই স্বাভাবিকভাবে ওঠে, এই সংখ্যা যদি যথেষ্ট না হয়, তাহলে কোন সংখ্যাটা যথেষ্ট?
অর্থনৈতিক ও জনসংখ্যাগত মাপকাঠিতে: এটাই সবচেয়ে শক্তিশালী যুক্তি। গাজীপুর শুধু একটি প্রশাসনিক জেলা নয়। এটি বাংলাদেশের অর্থনীতির একটি মূল স্তম্ভ। পোশাক, ওষুধ, সিরামিক, ইলেকট্রনিক্স — দেশের রপ্তানি আয়ের উল্লেখযোগ্য অংশ আসে এই জেলার কারখানাগুলো থেকে। পঞ্চাশ লক্ষেরও বেশি শ্রমিক এখানে কাজ করেন, যাঁদের বেশিরভাগই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা। দেশের সর্বোচ্চ ভোটার-ঘনত্বের জেলাও এটি। এই জেলার মন্ত্রিপরিষদে প্রতিনিধিত্ব না থাকা মানে একটি বিশাল জনগোষ্ঠীর কণ্ঠস্বর সরাসরি নীতিনির্ধারণের প্রক্রিয়া থেকে বাদ পড়ে যাওয়া।
তিনটি মাপকাঠিতেই গাজীপুর প্রাপ্যতার দাবিদার। অথচ মন্ত্রিসভায় শূন্য। এই বৈপরীত্যটাই আলোচনার কেন্দ্রে।
দ্বিতীয় কথা: চার বিজয়ী, চারটি পৃথক দাবি — সবই উপেক্ষিত
চারজন বিজয়ীর প্রত্যেকেই আলাদা কারণে মন্ত্রিপরিষদে স্থান পাওয়ার যোগ্য দাবিদার ছিলেন। এই চারটি দাবি একসঙ্গে বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায়, গাজীপুরের বঞ্চনাটা কতটা বহুস্তরীয় এবং কতটা অন্যায্য।
এ কে এম ফজলুল হক মিলন — গাজীপুর-৫
দলের প্রতি দীর্ঘ ত্যাগ, সাংগঠনিক অবদান ও পূর্ব সংসদীয় অভিজ্ঞতার দাবি
ফজলুল হক মিলনের দাবিটা সবচেয়ে পুরনো, সবচেয়ে গভীর এবং সবচেয়ে জোরালো।
কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি হিসেবে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে তিনি সম্মুখসারিতে ছিলেন। যখন রাজপথে থাকাটাই ছিল সাহসের পরীক্ষা, যখন গ্রেফতার-নির্যাতন ছিল নিত্যসঙ্গী — তখন তিনি সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিলেন বারবার। দলের প্রতি আনুগত্য ও ত্যাগের ইতিহাস তাঁর দীর্ঘ এবং প্রমাণিত।
২০০১ সালের নির্বাচনে সারা গাজীপুরে বিএনপির বিপর্যয়ের মাঝেও তিনি একমাত্র বিজয়ী ছিলেন। সেটি শুধু ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার প্রমাণ নয় — সংগঠন গড়ার দক্ষতারও। বর্তমানে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হিসেবে দলকে এই ঐতিহাসিক জয়ের দিকে নিয়ে আসার নেপথ্যে তাঁর ভূমিকা অস্বীকার করার উপায় নেই। সংসদ সদস্য হিসেবে আগের অভিজ্ঞতা আছে — মন্ত্রিসভার কাজকর্ম, সংসদীয় প্রক্রিয়া, প্রশাসনিক দায়িত্ব — এই সব বিষয়ে তিনি সম্পূর্ণ অপরিচিত নন। চারজনের মধ্যে তিনিই ছিলেন সবচেয়ে স্বাভাবিক পছন্দ। কিন্তু হলেন না।
এটি বিশেষভাবে লক্ষণীয়, কারণ ২০০১ সালেও একমাত্র বিজয়ী হয়েও তিনি মন্ত্রী হননি। দুইবারের এই পুনরাবৃত্তি একটি প্যাটার্নের দিকে ইঙ্গিত করে। প্রশ্নটা তীক্ষ্ণভাবে উঠে আসে — দলের প্রতি এত দীর্ঘ আনুগত্য, এত ত্যাগ, এত সাংগঠনিক অবদানের পরেও যদি স্বীকৃতি না মেলে, তাহলে দলের কাছে ‘প্রাপ্যতা’র মাপকাঠিটা আসলে কী?
ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু — গাজীপুর-৩
ঐতিহাসিক প্রথম জয় এবং দলের সাংগঠনিক বিস্তারের স্বীকৃতির দাবি
গাজীপুর-৪ আসনটি বরাবর বিএনপির জন্য দুর্ভেদ্য ছিল। এই আসনে দলটি কখনো জিততে পারেনি। ছাত্ররাজনীতি থেকে উঠে আসা ডা. বাচ্চু সেই ইতিহাস ভাঙলেন।
এই জয়ের গুরুত্ব শুধু সংখ্যায় নয়। এটা প্রমাণ করে যে বিএনপি গাজীপুরে সত্যিকার অর্থেই বিস্তৃত হয়েছে — শুধু পুরনো শক্তিশালী আসনগুলোতে সীমাবদ্ধ নেই। এই ধরনের ঐতিহাসিক প্রথম জয়কে পুরস্কৃত করাটা শুধু ব্যক্তির প্রতি ন্যায্যতা নয়, দলের সাংগঠনিক শক্তির স্বীকৃতিও।
রাজনীতিতে এমন সাংকেতিক পুরস্কারের গুরুত্ব আছে। একটি কঠিন আসনে প্রথমবার জয়ী হলে যদি দল মূল্যায়ন না করে, তাহলে ভবিষ্যতে কঠিন আসনে লড়াই করার প্রণোদনা কমে যায়। কিন্তু মন্ত্রিসভায় সেই স্বীকৃতি এল না।
এম মঞ্জুরুল করিম রনি — গাজীপুর-২
পারিবারিক রাজনৈতিক উত্তরাধিকার, প্রথম নির্বাচনেই জয় এবং নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধিত্বের দাবি
রনির দাবিটা দুটো আলাদা দিক থেকে শক্তিশালী।
একদিক থেকে পারিবারিক উত্তরাধিকার। তাঁর পিতা অধ্যাপক এম এ মান্নান ১৯৯১ সালে সারা দেশে সর্বোচ্চ ভোট পেয়েছিলেন — এটা নিছক নির্বাচনী সাফল্য নয়, গণমানুষের ভালোবাসার প্রমাণ। খালেদা জিয়ার সরকারে প্রতিমন্ত্রী ছিলেন, গাজীপুর সিটির জনপ্রিয় মেয়র হয়েছিলেন। বিএনপির প্রতি এই পরিবারের অবদান দীর্ঘদিনের এবং প্রমাণিত।
আরেকদিক থেকে নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধিত্ব। রাজনীতিতে তরুণ মুখ আনার কথা বিএনপি বলে আসছে বহুদিন। রনি প্রথম নির্বাচনেই জিতেছেন। এছাড়াও তিনি গাজীপুর মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দীর্ঘদিন ধরেই দলকে নেতৃত্বে দিচ্ছেন। মন্ত্রিসভায় তাঁকে রাখলে বার্তাটা হতো স্পষ্ট — দলটি সত্যিই নতুন রক্তকে সুযোগ দিচ্ছে। সেই বার্তা এল না।
মুজিবুর রহমান — গাজীপুর-১
দীর্ঘ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা এবং নির্বাহী দক্ষতার প্রমাণিত ইতিহাসের দাবি
প্রশাসনিক দক্ষতা মন্ত্রিত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাপকাঠি — এবং এই মাপকাঠিতে মুজিবুর রহমানের দাবিটা বিশেষভাবে শক্তিশালী।
কালিয়াকৈর পৌরসভার বহুবারের নির্বাচিত মেয়র হিসেবে তিনি নির্বাহী দায়িত্বে সত্যিকার অর্থেই পোড়-খাওয়া। মেয়র হওয়া মানে শুধু নির্বাচিত হওয়া নয় — বাজেট তৈরি করা, প্রকল্প বাস্তবায়ন করা, নাগরিক অভিযোগ নিষ্পত্তি করা, বিভিন্ন সরকারি দফতরের সঙ্গে সমন্বয় করা। এই কাজগুলো একজন মন্ত্রীর কাজের সঙ্গে সবচেয়ে কাছের।
প্রথমবার সংসদ সদস্য হওয়াটা তাঁর বিরুদ্ধে যুক্তি হতে পারে। কিন্তু দীর্ঘ স্থানীয় সরকার প্রশাসনের অভিজ্ঞতা সেই ঘাটতি পূরণ করে দেয়। মন্ত্রিসভায় এমন মানুষের দরকার থাকে যাঁরা বাস্তব প্রশাসন জানেন — শুধু রাজনীতির কৌশল নয়। তবু মন্ত্রিত্ব এল না।
চারজনের এই তালিকাটি বিশ্লেষণ করলে একটি বিষয় স্পষ্ট — অভিজ্ঞ সংসদ সদস্য, ঐতিহাসিক প্রথম বিজয়ী, প্রশাসনিক দক্ষতাসম্পন্ন মেয়র এবং রাজনৈতিক উত্তরাধিকারী — এই চারটি ভিন্ন পরিচয়ের মানুষ একসঙ্গে থাকার পরেও দলের কাছে জেলাটি মন্ত্রিত্বের যোগ্য বিবেচিত হলো না। এটা শুধু গাজীপুরের ব্যর্থতা নয়, এটা দলের বিচারবোধের প্রশ্নও বটে।
তৃতীয় কথা: তিনটি শূন্যতার তুলনামূলক পাঠ
পঞ্চাশ বছরে মাত্র তিনবার গাজীপুর মন্ত্রিপরিষদের বাইরে ছিল। তিনটির পাশাপাশি রাখলে ২০২৬ সালের শূন্যতার অস্বাভাবিকতা আরও স্পষ্ট হয়।
১৯৮৬–১৯৯০ — ব্যবস্থার শিকার: এরশাদের স্বৈরতন্ত্রে গণতন্ত্র স্থগিত। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নির্বাচন বর্জন করেছিল। গাজীপুর থেকে প্রকৃত রাজনৈতিক শক্তির কোনো প্রতিনিধিত্বই তৈরি হয়নি। এটা কারো সিদ্ধান্তের ফল নয়, ব্যবস্থার বিকৃতির অনিবার্য পরিণতি।
২০০১–২০০৬ — পরিস্থিতির অনিবার্যতা: সারা দেশে বিএনপির ঐতিহাসিক জোয়ারেও গাজীপুরে দলটি চারটির মধ্যে পেয়েছিল মাত্র একটি। দুর্বল নির্বাচনী ফলের কারণে পরিস্থিতিগত ব্যাখ্যা ছিল — যদিও সেটা সম্পূর্ণ সন্তোষজনক ছিল না।
২০২৬ — বিশুদ্ধ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত: পাঁচটির মধ্যে চারটিতে জয়। গাজীপুরে বিএনপির সর্বোচ্চ ফল। না আছে স্বৈরতন্ত্রের অজুহাত, না আছে নির্বাচনী পরাজয়ের যুক্তি। এটা বিশুদ্ধ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত — এবং সেই সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা এখনো অনুপস্থিত।
এই পার্থক্যটাই ২০২৬ সালের শূন্যতাকে আগের দুটো থেকে সম্পূর্ণ আলাদা করে তোলে। আগের দুটো ছিল পরিস্থিতির ফল। এটা সিদ্ধান্তের ফল — এবং সেই সিদ্ধান্তের দায়বদ্ধতা দলকেই নিতে হবে।
চতুর্থ কথা: শূন্যতার সম্ভাব্য ব্যাখ্যা — কোনোটাই সম্পূর্ণ সন্তোষজনক নয়
রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা কয়েকটি ব্যাখ্যা দিচ্ছেন। কিন্তু প্রতিটিতেই একটি না একটি ফাঁক আছে।
ভৌগোলিক ভারসাম্যের যুক্তি বলে, পঞ্চাশ আসনে সব জেলাকে জায়গা দেওয়া যায় না। যুক্তিটা সত্যি। কিন্তু প্রশ্ন হলো — ঢাকা বিভাগের কোন জেলাগুলো পেল এবং কেন? দেশের সর্বোচ্চ ভোটার-ঘনত্বের শিল্পজেলা বাদ পড়াটা ‘ভৌগোলিক ভারসাম্য’র নামে কতটা ন্যায্য?
ভবিষ্যৎ পুনর্গঠনের কৌশল বলে, প্রথম মন্ত্রিসভায় বাদ রেখে পরে পুরস্কৃত করাটা বিএনপির পরিচিত পদ্ধতি। কিন্তু এই ‘কৌশল’ কতটা কৌশল, কতটা অজুহাত? কতদিন অপেক্ষা করতে হবে, কতটা আনুগত্য দেখাতে হবে — সেই মাপকাঠিটাও অস্পষ্ট।
কেন্দ্রীয় সম্পর্কের দুর্বলতার যুক্তি বলে, গাজীপুরের নেতাদের দলের কেন্দ্রে যোগাযোগ যথেষ্ট মজবুত নয়। কিন্তু তাহলে প্রশ্ন হলো — মন্ত্রিত্ব কি যোগ্যতার পুরস্কার, নাকি লবির ফল?
দ্বিতীয়টা হলে গণতন্ত্র সম্পর্কে একটা গুরুতর প্রশ্ন উঠে আসে।
তিনটি ব্যাখ্যার কোনোটিই গাজীপুরের প্রাপ্যতার প্রশ্নটার সৎ উত্তর দেয় না। বরং প্রতিটি ব্যাখ্যাই পাশ কাটিয়ে যায় মূল বিষয়টি — চার আসনে জয়ের পর এই জেলা মন্ত্রিত্বের দাবিদার ছিল, এবং সেই দাবি উপেক্ষিত হয়েছে।
পঞ্চম কথা: মন্ত্রিত্বহীনতার বাস্তব মূল্য
গাজীপুরের এই শূন্যতার কেবল প্রতীকী ক্ষতি নেই — বাস্তব মূল্যও আছে এবং সেই মূল্য চোকাতে হবে সাধারণ মানুষকে।
মন্ত্রিপরিষদ শুধু প্রশাসনিক কেন্দ্র নয়, এটা নীতি তৈরির জায়গা। শ্রম আইনের সংশোধন, শিল্পাঞ্চলে পরিবহন অবকাঠামোর উন্নয়ন, নদীদূষণ রোধে কার্যকর পদক্ষেপ — এই বিষয়গুলো মন্ত্রিসভার টেবিলে ওঠে। গাজীপুরের কেউ সেই টেবিলে না থাকলে জেলার সমস্যাগুলো সরাসরি তুলে ধরার সুযোগ থাকে না।
বার্ষিক উন্নয়ন বাজেটের দর-কষাকষিতে জেলাটি দুর্বল অবস্থানে থাকবে। পঞ্চাশ লক্ষেরও বেশি শ্রমিকের মজুরি ও নিরাপত্তার প্রশ্নে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে সরাসরি কথা বলার জায়গা থাকবে না।
ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের দীর্ঘস্থায়ী যানজট, তুরাগ ও বালু নদীর শিল্পদূষণ, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নগর পরিকল্পনার সংকট — এই সমস্যাগুলো বছরের পর বছর ধরে চলছে। মন্ত্রিপরিষদে প্রতিনিধি না থাকলে এগুলো জাতীয় অগ্রাধিকারের তালিকায় জায়গা পাবে কিনা, সন্দেহ থেকে যায়।
ষষ্ঠ কথা: সোহেল তাজের বিরল দৃষ্টান্ত — নৈতিকতার উত্তরাধিকার
গাজীপুরের মন্ত্রিত্বের ইতিহাসে একটি বিশেষ অধ্যায় আছে, যা এই আলোচনায় না এলে অসম্পূর্ণ থাকে। ২০০৯ সালে তাজউদ্দীন-পুত্র সোহেল তাজ স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হয়েছিলেন। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই স্বেচ্ছায় সেই পদ ছেড়ে দেন এবং প্রাপ্য সমস্ত ভাতাও ফিরিয়ে দেন।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে যেখানে মন্ত্রিপদ ধরে রাখতে যেকোনো আপোষের নজির ভূরি ভূরি, সেখানে এই সিদ্ধান্ত সত্যিই বিরল। এটা নিছক ব্যক্তিগত অবস্থান নয় — এটা একটি নৈতিক ঘোষণা, যার শিকড় তাঁর পিতা তাজউদ্দীন আহমদের জীবনদর্শনে। তাজউদ্দীন নিজেও কখনো ক্ষমতার জন্য নীতির সঙ্গে আপোষ করেননি।
এই দৃষ্টান্তটি এই কারণে প্রাসঙ্গিক — যে জেলা মন্ত্রিত্ব পেয়েও নীতির কারণে ছেড়ে দিতে পারে, সেই জেলাকে মন্ত্রিত্ব না দেওয়ার প্রশ্নটা আরও তীক্ষ্ণ হয়ে ওঠে।
সপ্তম কথা: গণতন্ত্রের গভীরতর প্রশ্ন
গাজীপুরের এই শূন্যতা একটি বৃহত্তর সংকটের দিকে আঙুল তোলে। বাংলাদেশে মন্ত্রিসভার গঠন কখনোই জনসংখ্যার প্রতিনিধিত্বের নীতিতে হয়নি। এটা হয় দলের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার বিন্যাসে — নেতার ব্যক্তিগত সম্পর্ক, আঞ্চলিক ভারসাম্যের হিসাব এবং অভ্যন্তরীণ লবির শক্তির মিশ্রণে। ফলে মানুষ ভোট দেন একটি প্রত্যাশা নিয়ে, কিন্তু মন্ত্রিত্বের বণ্টনে সেই প্রত্যাশার কোনো গ্যারান্টি নেই।
গাজীপুরের মানুষ ভোট দিয়েছেন, চারটি আসন জিতিয়েছেন — কিন্তু মন্ত্রিসভায় তাঁদের কণ্ঠ নেই। এটা কি শুধু একটি জেলার বঞ্চনা, নাকি দেখিয়ে দেয় যে ভোট দেওয়া এবং প্রতিনিধিত্ব পাওয়ার মধ্যে যে সংযোগটা গণতন্ত্রে থাকার কথা, সেটা বাংলাদেশে এখনো সম্পূর্ণ হয়নি?
এই প্রশ্নটা শুধু গাজীপুরের নয়। এটা বাংলাদেশের গণতন্ত্রের একটি কাঠামোগত দুর্বলতার প্রশ্ন।
পাঁচ দশকের মন্ত্রিত্বের ইতিহাস
প্রথম সংসদ · ১৯৭৩–১৯৭৫
আওয়ামী লীগ সরকার · শেখ মুজিবুর রহমান
তাজউদ্দীন আহমদ, মন্ত্রী, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়, আসন: তৎকালীন ঢাকা-২০, কাপাসিয়া।
কাপাসিয়ার দরদরিয়া গ্রামের সন্তান। ১৯৭১ সালে মুজিবনগর সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করেছিলেন। ভারত থেকে কূটনৈতিক স্বীকৃতি আদায়, মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত করা, আন্তর্জাতিক সমর্থন নিশ্চিত করা — এই বিশাল দায়িত্বগুলো তিনি অসাধারণ দক্ষতায় সামলেছিলেন। স্বাধীনতার পর দেশের প্রথম বাজেট ও পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা প্রণয়নে তাঁর ভূমিকা ছিল নির্ণায়ক। ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে তাঁকে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করা হয়।
শামসুল হক
মন্ত্রী, স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় এবং পাট মন্ত্রণালয়, আসন: তৎকালীন ঢাকা-১৬ কালিয়াকৈর।
কালিয়াকৈরের কৃতী সন্তান, বীর মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৭৩ সালের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে দুটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে সোভিয়েত ইউনিয়নে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
একটি জেলা থেকে একই সঙ্গে দুজন মন্ত্রী — গাজীপুরের মন্ত্রিত্বের যাত্রাটা শুরু থেকেই ছিল অসাধারণ। শুধু সংখ্যায় নয়, মানের দিক থেকেও। তাজউদ্দীন আহমদ ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের মূল সংগঠক, স্বাধীন বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি গড়ার কারিগর। গাজীপুরের মন্ত্রিত্বের ইতিহাস তাই শুরু থেকেই জাতীয় ইতিহাসের সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িয়ে আছে।
দ্বিতীয় সংসদ · ১৯৭৯–১৯৮২
বিএনপি সরকার · জিয়াউর রহমান
চৌধুরী তানভীর আহমেদ সিদ্দিকী, প্রতিমন্ত্রী, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় (টেকনোক্র্যাট কোটা) কালিয়াকৈর।
১৯৭৫-পরবর্তী রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরেও গাজীপুরের ধারায় ছেদ পড়েনি। জিয়াউর রহমানের বিএনপি সরকারে কালিয়াকৈরের এই কৃতী সন্তান টেকনোক্র্যাট কোটায় বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান।
ক্ষমতার দল বদলেছে — আওয়ামী লীগ থেকে বিএনপি। কিন্তু গাজীপুরের প্রতিনিধিত্ব বজায় থেকেছে। এটা প্রমাণ করে যে গাজীপুরের মন্ত্রিত্ব কোনো একটি দলের রাজনৈতিক পুরস্কার ছিল না — এটা ছিল জেলার রাজনৈতিক ওজনের দলনির্বিশেষ স্বীকৃতি।
তৃতীয় ও চতুর্থ সংসদ · ১৯৮৬–১৯৯০
জাতীয় পার্টি · হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ
প্রথম শূন্যতা: ব্যবস্থার শিকার —আওয়ামী লীগ ও বিএনপি উভয়েই এই নির্বাচন বর্জন করেছিল। গণতন্ত্র স্থগিত থাকায় গাজীপুর থেকে কার্যকর রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব তৈরিই হয়নি।
উল্লেখ্য, ১৯৮২ থেকে ১৯৮৬ সালের মধ্যে সংসদ-বহির্ভূত এরশাদ সরকারের মন্ত্রিসভায় শামসুল হক ছিলেন বলে জানা যায় — তবে সেটি ছিল সামরিক শাসনের আমল।
এই শূন্যতার চরিত্র আলাদা। এটা কারো সিদ্ধান্তের ফল নয়, ব্যবস্থার বিকৃতির ফল। অগণতান্ত্রিক পরিবেশে গণতান্ত্রিক প্রতিনিধিত্ব আশা করা যায় না।
পঞ্চম সংসদ · ১৯৯১–১৯৯৬
বিএনপি সরকার · বেগম খালেদা জিয়া
ব্রিগেডিয়ার আ স ম হান্নান শাহ, মন্ত্রী, পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়, আসন: কাপাসিয়া।
মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সামরিক কর্মকর্তা থেকে রাজনীতিতে আসা। কাপাসিয়া থেকে নির্বাচিত হয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান।
অধ্যাপক এম এ মান্নান, প্রতিমন্ত্রী, ধর্ম মন্ত্রণালয় এবং পরে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, আসন: গাজীপুর-২।
এই নির্বাচনে সারা দেশে সর্বোচ্চ ভোট পেয়েছিলেন — একটি অসাধারণ গণ-আস্থার প্রমাণ। পরে গাজীপুর সিটির জনপ্রিয় মেয়রও হয়েছিলেন।
গণতন্ত্রে প্রত্যাবর্তনের সঙ্গে সঙ্গেই গাজীপুর ফিরে এল — এবার একজন নয়, দুজন। মান্নানের সারা দেশে সর্বোচ্চ ভোট পাওয়াটা শুধু ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার প্রমাণ নয়, গাজীপুরের রাজনৈতিক শক্তির গভীরতার স্বীকৃতিও।
সপ্তম সংসদ · ১৯৯৬–২০০১
আওয়ামী লীগ সরকার · শেখ হাসিনা
আফসার উদ্দিন আহমদ, প্রতিমন্ত্রী, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, আসন: কাপাসিয়া।
ছয় মাস পর ১৯৯৭ সালে পদত্যাগ করেছিলন।
রহমত আলী, প্রতিমন্ত্রী, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়, আসন: তৎকালীন গাজীপুর-১ ।
বিএনপি থেকে আওয়ামী লীগের হাতে ক্ষমতা গেল। কিন্তু গাজীপুরের প্রতিনিধিত্ব বজায় থাকল — এবারও দুজন। এই ধারাবাহিকতা আর কেবল একটি প্রবণতা নয়, একটি প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছিল।
অষ্টম সংসদ · ২০০১–২০০৬
বিএনপি সরকার · বেগম খালেদা জিয়া
দ্বিতীয় শূন্যতা: পরিস্থিতির অনিবার্যতা —
সারা দেশে বিএনপির ঐতিহাসিক জোয়ারেও গাজীপুরে দলটি পেল মাত্র একটি আসন। তৎকালীন গাজীপুর-৩ থেকে একমাত্র বিজয়ী এ কে এম ফজলুল হক মিলন সেই মেয়াদে মন্ত্রিসভায় যাননি।
নির্বাচনী দুর্বলতার কারণে পরিস্থিতিগত ব্যাখ্যা ছিল। তবু প্রশ্ন থাকে — একমাত্র বিজয়ী হয়েও কেন মন্ত্রী হলেন না মিলন? এই প্রশ্নের উত্তর সেই সময়ও স্পষ্ট ছিল না। এবং একই প্রশ্ন ২০২৬ সালে আবার ফিরে এসেছে।
নবম সংসদ · ২০০৯–২০১৪
আওয়ামী লীগ সরকার · শেখ হাসিনা
তানজিম আহমেদ সোহেল তাজ, প্রতিমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আসন: কাপাসিয়া-৪।
তাজউদ্দীন আহমদের পুত্র। স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিলেন — কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করলেন এবং প্রাপ্য সমস্ত ভাতা ফিরিয়ে দিলেন।
সোহেল তাজের পদত্যাগ বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে একটি বিরল নৈতিক দৃষ্টান্ত। যে জেলা মন্ত্রিত্ব পেয়েও নীতির কারণে ছেড়ে দিতে পারে, সেই জেলাকে মন্ত্রিত্ব না দেওয়ার প্রশ্নটা পরবর্তীকালে আরও তীক্ষ্ণ হয়ে ওঠে।
মেহের আফরোজ চুমকি, প্রতিমন্ত্রী, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়, আসন: গাজীপুর-৫।
একাদশ সংসদের শেষ সমেয়ে মন্ত্রিত্ব পেয়েছিলেন।
দশম সংসদ · ২০১৪–২০১৮
আওয়ামী লীগ সরকার · শেখ হাসিনা
আ ক ম মোজাম্মেল হক, মন্ত্রী, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, আসন: গাজীপুর-১।
মেহের আফরোজ চুমকি
প্রতিমন্ত্রী, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়, আসন: গাজীপুর-৫ দ্বিতীয়বার মন্ত্রিত্ব।
মোজাম্মেল হকের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় পাওয়াটা তাৎপর্যপূর্ণ। তাজউদ্দীন আহমদ থেকে শুরু করে অগণিত মুক্তিযোদ্ধার জেলা গাজীপুর —এই মন্ত্রণালয়টি সেই ঐতিহ্যের সঙ্গে গভীরভাবে সংগতিপূর্ণ।
একাদশ সংসদ · ২০১৮–২০২৩
আওয়ামী লীগ সরকার · শেখ হাসিনা
আ ক ম মোজাম্মেল হক, মন্ত্রী, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, আসন: গাজীপুর-১, টানা দ্বিতীয় মেয়াদ।
জাহিদ আহসান রাসেল, প্রতিমন্ত্রী, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, আসন: গাজীপুর-২।
দ্বাদশ সংসদ · ২০২৪
আওয়ামী লীগ সরকার · শেখ হাসিনা
আ ক ম মোজাম্মেল হক, মন্ত্রী, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় গাজীপুর-১, টানা তৃতীয় মেয়াদ।
সিমিন হোসেন রিমি
প্রতিমন্ত্রী, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়, আসন: গাজীপুর-৪, কাপাসিয়া (তাজউদ্দীন আহমদের কন্যা)।
রুমানা আলী টুসি
প্রতিমন্ত্রী, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, আসন: গাজীপুর-৩, শ্রীপুর।
গাজীপুরের মন্ত্রিত্বের ইতিহাসের সর্বোচ্চ বিন্দু। একসঙ্গে তিনজন মন্ত্রী — স্বাধীনতার পর কোনো একটি জেলায় এমন নজির আগে ছিল না। বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ সিমিন হোসেন রিমির অন্তর্ভুক্তি। তাজউদ্দীন আহমদের কন্যা সেই কাপাসিয়া আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে মন্ত্রী হলেন — যে আসন থেকে তাঁর পিতা ১৯৭৩ সালে যাত্রা শুরু করেছিলেন। ইতিহাস যেন একটি বৃত্ত সম্পন্ন করল।
ত্রয়োদশ সংসদ · ২০২৬
বিএনপি সরকার · তারেক রহমান
তৃতীয় শূন্যতা: বিশুদ্ধ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত —
পাঁচটির মধ্যে চারটি আসনে বিএনপির জয়। গাজীপুরে দলটির ইতিহাসের সেরা ফল। তবু পঞ্চাশ সদস্যের মন্ত্রিসভায় গাজীপুরের কোনো প্রতিনিধি নেই।
আগের দুটি শূন্যতার একটি পরিস্থিতিগত ব্যাখ্যা ছিল। এবারের শূন্যতার কোনো ব্যাখ্যা নেই — অন্তত দলের তরফ থেকে এখনো আসেনি। এটা বিশুদ্ধ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, এবং সেই সিদ্ধান্তের দায়বদ্ধতা দলকেই নিতে হবে।
৪ আসনে জয়েও শূন্য — ব্যাখ্যাহীন
তাজউদ্দীন আহমদ যে যাত্রা শুরু করেছিলেন ১৯৭৩ সালে — সেই উত্তরাধিকার বহন করার দায় শুধু গাজীপুরের নয়, প্রতিটি নির্বাচিত সরকারেরও।
গাজীপুরের প্রতিনিধিত্ব কেবল একটি জেলার সাংগঠনিক দাবি নয়। এটা বিশ লক্ষ শ্রমিকের কণ্ঠস্বর। দেশের রপ্তানি অর্থনীতির একটি অপরিহার্য অংশের দাবি। সেই মানুষদের প্রতিনিধিত্বের প্রশ্ন, যাঁরা ভোর থেকে রাত পর্যন্ত কারখানায় কাজ করেন এবং মন্ত্রিসভায় কেউ তাঁদের কথা বলবেন — এই প্রত্যাশায় ভোট দেন।
চার আসনে জয়ের পর এই শূন্যতার ব্যাখ্যা এখনো আসেনি। অবহেলা না কৌশল, পুরস্কার মুলতবি না শাস্তি — যাই হোক, এর একটি উত্তর গাজীপুরের মানুষ পাওয়ার অধিকার রাখেন।
রাজনীতি কৃতজ্ঞতা চেনে না, এটা সত্যি। কিন্তু গণতন্ত্রের একটা ন্যূনতম দায়বদ্ধতা থাকে — যাঁরা ভোট দেন, তাঁদের কণ্ঠস্বর যেন নীতিনির্ধারণের কক্ষে পৌঁছায়। গাজীপুরের ক্ষেত্রে সেই দায়বদ্ধতা এবার পালিত হয়নি।
এই অনুপস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী না হোক।