পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগ

শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চাইছেন।

পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগ

গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক

পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান পদত্যাগ করেছেন। 

সোমবার (০১ জুন) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন। 

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন সংবাদ মাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

পদত্যাগপত্রে দীপেন দেওয়ান জানান, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চাইছেন।

বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-ধর্মবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের সর্বোচ্চ ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেন। এরপর গত ১৭ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিপরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেন তিনি।

দীপেন দেওয়ানের বাবা সুবিমল দেওয়ান সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মন্ত্রী পদমর্যাদায় উপদেষ্টা ছিলেন এবং রাঙামাটি জেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন সাধারণ সম্পাদক ও পরবর্তীকালে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ছাত্রজীবন থেকেই ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত থাকলেও রাঙামাটি সরকারি উচ্চবিদ্যালয়, রাঙামাটি সরকারি কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষে পরিবারের চাপে বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নেন দীপেন। সপ্তম বিসিএসে জুডিশিয়াল সার্ভিসে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে চাকরিতে যোগ দেন তিনি।

২০০৬ সালে চারদলীয় জোট সরকারের শেষ সময়ে তৎকালীন উপমন্ত্রী মনিস্বপন দেওয়ান দলত্যাগ করলে যোগ্য নেতার প্রয়োজনে খালেদা জিয়ার আহ্বানে সাড়া দিয়ে প্রায় ২০ বছরের বিচার বিভাগীয় চাকরি ছেড়ে রাজনীতিতে যোগ দেন দীপেন। তবে এরপরই শুরু হয় প্রতিকূলতা। ওয়ান-ইলেভেনের পট পরিবর্তনে নির্বাচন আটকে যায়। নতুন নির্বাচনি আইনের বাধায় ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনেও অংশ নিতে পারেননি তিনি। ২০১০ সালে জেলা বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হন এবং ২০১৬ সাল থেকে কেন্দ্রীয় কমিটিতে ধর্মবিষয়ক সহ-সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

দুঃসময়েও দলের পাশে থাকা দীপেন দেওয়ান শেষ পর্যন্ত প্রথমবার সংসদ সদস্য হয়েই পূর্ণমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। রাঙামাটি জেলার ইতিহাসে তিনিই প্রথম পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী।

১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির পর ১৯৯৮ সালের ১৫ জুলাই পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠিত হয়। খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য কল্পরঞ্জন চাকমা হন এই মন্ত্রণালয়ের প্রথম মন্ত্রী। এরপর পর্যায়ক্রমে মনিস্বপন দেওয়ান, দীপংকর তালুকদার ও বীর বাহাদুর এই মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ দ্বাদশ সংসদের পর খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য কুজেন্দ্রলাল ত্রিপুরাকে প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছিল। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পর রাঙামাটি আসন থেকে নির্বাচিত দীপেন দেওয়ানকে এই মন্ত্রণালয়ের পূর্ণমন্ত্রী করা হয়।