গাজীপুর কণ্ঠ, আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রেসিডেন্ট একটি অন্তর্বর্তীকালীন যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরান চুক্তি লঙ্ঘন করলে তিনি আবার হামলা শুরু করতে পারেন।
ফ্রান্সের ভার্সাই প্রাসাদে জি৭ সম্মেলনে যোগ দিয়ে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, “চুক্তি লঙ্ঘন করলে আমরা তাদের ওপর বোমা ফেলব। আমি চাই না এমন পরিস্থিতি তৈরি হোক। আমি চাই তারা চুক্তি মেনে চলুক।”
এর আগে তিনি আরও কঠোর ভাষায় বলেন, “যদি আমি সন্তুষ্ট না হই, যদি তারা সুবিধামতো আচরণ না করে — তাহলে আমরা সোজা ফিরে যাব এবং তাদের মাথার মধ্যে বোমা ফেলব।”
চুক্তিতে যা আছে
- সব রণাঙ্গনে তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতি, লেবাননসহ
- হরমুজ প্রণালিতে সামুদ্রিক যান চলাচল বিনা বাধায় পুনরায় চালু
- ইরানি বন্দরে মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহার
- যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা স্থগিত ও জব্দ সম্পদ মুক্তি
- ইরানের যুদ্ধোত্তর পুনর্গঠনে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ তহবিল
- পরবর্তী ৬০ দিনে স্থায়ী যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে আলোচনা চালিয়ে যাওয়া
- ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে এবং আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) তত্ত্বাবধানে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ হ্রাস করতে সম্মত হয়েছে।
ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে বলেন, “সামরিক অভিযানের মাধ্যমে যা পেতাম, আলোচনার মাধ্যমে তার চেয়ে বহুগুণ বেশি পেয়েছি — তুলনাই হয় না।”
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বুধবার থেকেই চুক্তি কার্যকর হয়েছে। দুই দেশের প্রেসিডেন্ট চুক্তিটিতে ডিজিটাল স্বাক্ষর করেছেন — ইংরেজি ও ফার্সি উভয় ভাষায়। ১৯৭৯ সালে ইসলামিক প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পর এটিই প্রথম চুক্তি যেখানে উভয় দেশের প্রেসিডেন্ট একসঙ্গে স্বাক্ষর করলেন।
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা শুরু করে। প্রথম দিনেই ৮৬ বছর বয়সী সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও সামরিক কর্মকর্তাদের হত্যা করা হয়। সংঘাতটি দ্রুত আঞ্চলিক রূপ নেয় এবং এ পর্যন্ত সাত হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই ইরান ও লেবাননের।
এই যুদ্ধের ফলে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে, মূল্যস্ফীতির চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোতে খাদ্য সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্প যুদ্ধের শুরুতে যে লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করেছিলেন, তার কোনোটিই অর্জিত হয়নি। ইরানের ধর্মতান্ত্রিক সরকার টিকে আছে, উচ্চ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ হস্তান্তর করা হয়নি, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস হয়নি এবং হেজবোল্লাহর মতো মিলিশিয়াগুলোর প্রতি সমর্থন বন্ধ হয়নি।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ট্রাম্প ফেব্রুয়ারিতে ইরানের সব ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, বুধবার তা থেকে সরে এসে বলেন, “অন্য দেশের কাছে ক্ষেপণাস্ত্র থাকলে ইরানের না থাকাটা একটু অন্যায্য।”
হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার সম্ভাবনায় বুধবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমে ব্রেন্ট ক্রুড ব্যারেলপ্রতি ৮০ ডলারের নিচে নামে — যা যুদ্ধ শুরুর পর সর্বনিম্ন। তবে ট্রাম্পের পুনরায় হামলার হুমকির পর দাম আবার ১ শতাংশেরও বেশি বেড়ে যায়।