সিএনএন
রাশিয়ার রাজধানীর আকাশে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী, ক্রেমলিন থেকে মাত্র ১৬ কিলোমিটার দূরে একের পর এক জ্বালানি পরিশোধনাগারে আঘাত হেনেছে ইউক্রেনের ড্রোন। মস্কোর আকাশরেখা এখন ঘন কালো ধোঁয়ায় ঢাকা।
বৃহস্পতিবার একের পর এক বিস্ফোরণে কেঁপে উঠেছে রুশ রাজধানী।
ইউক্রেনের সস্তা ও গণ-উৎপাদিত ড্রোন ভেদ করে দিয়েছে মস্কোর তিন স্তরের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।
রাশিয়া এক সময় ইউক্রেনের ওপর এ ধরনের ড্রোন হামলা চালাত। এখন কিয়েভ প্রতি রাতে সেই একই অস্ত্র রাশিয়ার দিকে ছুড়ে দিচ্ছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় রুশ নাগরিকদের পোস্ট করা ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, একটি পরিশোধনাগারের ছাদ পুরোপুরি উড়ে গেছে, একাধিক স্থানে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। পরিবেশবিদরা বলছেন, পরিস্থিতি বড় ধরনের পরিবেশ বিপর্যয়ের দিকে যাচ্ছে। জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় মস্কোর পেট্রোল পাম্পগুলোতে দীর্ঘ সারির আশঙ্কাও দেখা দিচ্ছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই হামলাকে রাশিয়ার অবিরাম রাতের বোমাবর্ষণের পাল্টা জবাব হিসেবে বর্ণনা করেছেন। সোমবার রাশিয়া কিয়েভের প্রাচীনতম ও পবিত্রতম গির্জা কমপ্লেক্সে হামলা চালিয়েছিল।
২০২৩ সালের মে মাসে একটি ড্রোন ক্রেমলিনে আঘাত হানার পর থেকেই মস্কোর আকাশে ইউক্রেনের হুমকি ক্রমশ বাড়ছিল। গত মাসে বিজয় দিবসের কুচকাওয়াজও সংক্ষিপ্ত করতে বাধ্য হয়েছিল কর্তৃপক্ষ।
রুশ কর্তৃপক্ষ সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও প্রচার সীমিত করার চেষ্টা করেছে, কিন্তু নাগরিকরা একের পর এক ভিডিও পোস্ট করে যাচ্ছে — যা ক্রমবর্ধমান অসন্তোষের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ফ্রান্সের এভিঁয়ায় জি-৭ সম্মেলন থেকে আরও শক্তিশালী অবস্থান নিয়ে ফিরেছেন জেলেনস্কি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সেখানে ইউক্রেনের পরিস্থিতির প্রতি একধরনের নিরাসক্তি ও সমর্থনের মিশ্র সংকেত দিয়েছেন।
সম্মেলনে জেলেনস্কি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত পেয়েছেন: ইউক্রেন হয়তো লাইসেন্সের আওতায় মার্কিন ও ইউরোপীয় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও ক্ষেপণাস্ত্র নিজেই উৎপাদন করতে পারবে। পশ্চিমা কারখানাগুলো যা তৈরি করতে ধীর ও ব্যয়বহুল — সেটাই কিয়েভ তৈরি করবে।
গত সপ্তাহে পুতিন নিজেই স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছেন যে ইউক্রেনীয় হামলায় রাশিয়ার অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে এবং ভূমি দখলের গতি প্রত্যাশামতো নয়। ইন্টারনেট বন্ধের বিষয়েও ক্রমবর্ধমান অসন্তোষ স্বীকার করেছেন তিনি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, পুতিনের সামনে উত্তরণের পথ সংকীর্ণ। ন্যাটোর পূর্বাঞ্চলীয় দেশগুলোতে আঘাত হানা হবে বিশাল ঝুঁকির, কারণ তার সেনাবাহিনী একটি ছোট প্রতিবেশীকেই কাবু করতে পারছে না। কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ এবং সম্ভবত চীনের ক্রোধ ডেকে আনবে।
মস্কোর দৈনিক পত্রিকা মস্কোভস্কি কমসোমোলেৎস গত মাসে সতর্ক করেছিল যে “বড় ভূরাজনৈতিক পরাজয় কখনো কখনো উজ্জ্বল বিজয়ের চেয়েও বেশি কাজের।”
মস্কোর আকাশে এখন কালিমাখা বৃষ্টি ঝরছে গাড়ির ওপর। পরবর্তী পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত আবারও সেই একজনের হাতেই — পুতিনের।