গাজীপুর কণ্ঠ, আন্তর্জাতিক ডেস্ক
সুইজারল্যান্ডে শান্তি আলোচনা চলাকালে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরকে হত্যার একটি ইসরায়েলি ছক বানচাল করার দাবি ঘিরে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
ব্রাজিলের সাংবাদিক ও ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষক পেপে এসকোবার দাবি করেছেন, পাকিস্তানের সামরিক গোয়েন্দারা ইসরায়েলের ওই কথিত পরিকল্পনাটি ফাঁস করে দিয়েছে।
তবে পাকিস্তানের টেলিভিশন স্টেশন ‘এআরওয়াই নিউজ’-এর চেয়ারম্যান কামরান খান দেশটির একজন শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলেছেন, ওই অভিযোগ ‘পুরোপুরি ভিত্তিহীন’।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের শান্তি আলোচনার অংশ হিসেবে গত সপ্তাহে সুইজারল্যান্ডে গিয়েছিলেন মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান আসিম মুনির। এর ধারাবাহিকতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র চুক্তিতে পৌঁছায়।
ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি লিখেছে, বিতর্কের সূচনা হয় লেবানিজ-অস্ট্রেলীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষক মারিও নাউফালের একটি পডকাস্টে।
সেখানে এসকোবার বলেন, কথিত ওই হত্যা পরিকল্পনার পেছনে ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ জড়িত ছিল। তাদের মূল লক্ষ্য ছিলেন সেনাপ্রধান আসিম মুনির এবং সম্ভবত শান্তি আলোচনায় অংশ নেওয়া পাকিস্তানি প্রতিনিধি দলের অন্য সদস্যরাও।
এসকোবারের দাবি, এই হত্যা পরিকল্পনা সম্পর্কে ‘অত্যন্ত বিশ্বাসযোগ্য তথ্য’ পাওয়ার পরই তৎপর হয় পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা। এরপর কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে ইসরায়েলের কাছে একটি কড়া সতর্কবার্তা পাঠায় পাকিস্তান।
পেপে এসকোবার সাক্ষাৎকারে বলেন, “মূল ঘটনাটি হল, পাকিস্তানের সামরিক গোয়েন্দারা একটি অতি-বিশ্বাসযোগ্য তথ্য পায় যে, নেতানিয়াহুর নির্দেশে মোসাদ আসিম মুনির এবং সম্ভবত সুইজারল্যান্ডগামী পুরো পাকিস্তানি প্রতিনিধি দলকে হত্যার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এরপর পাকিস্তানিরা তাদের নিয়মিত মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে, আমার ধারণা ওমানের মাধ্যমে সরাসরি ইসরায়েলিদের কাছে একটি বার্তা পাঠায়। বার্তায় বলা হয়, ‘আমাদের প্রতিনিধি দলের গায়ে হাত দিলে আমরা তোমাদের মানচিত্র থেকে মুছে ফেলব।’ আমি কেবল আমাদের সূত্রের দেওয়া তথ্যই উদ্ধৃত করছি।”
ভারতের আরেক সংবাদমাধ্যম ইকোনমিক টাইমস লিখেছে, এসকোবারের ওই দাবি ঘিরে বিতর্ক শুরুর পর পাকিস্তানের তরফ থেকে বিষয়টি নাকচ করা হয়েছে।
দেশটির একজন শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তার বরাত দিয়ে পাকিস্তানের ‘এআরওয়াই নিউজ’-এর চেয়ারম্যান কামরান খান বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সুইজারল্যান্ড সফর পরিকল্পনা অনুযায়ী ‘অত্যন্ত মসৃণভাবে’ সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিনিধি দল যখন লুসার্নে ছিল, পুরোটা সময় জুড়ে সেখানে কঠোর নিরাপত্তা ছিল এবং পরিস্থিতির বিঘ্ন ঘটার কোনো শঙ্কা তৈরি হয়নি।
পাকিস্তানের ওই কর্মকর্তা বলেন, পুরো সফরে নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেনি এবং কোনো হুমকি বা সতর্কবার্তাও ছিল না। এমনকি সুইস কিংবা মার্কিন নিরাপত্তা দলগুলোর পক্ষ থেকেও সফরের কোনো পর্যায়ে কোনো ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়নি।
অভিযোগটি সম্পূর্ণ নাকচ করে দিয়ে তিনি এটিকে ‘বাস্তবতাহীন মনগড়া গল্প’ আখ্যা দেন।
কথিত ওই হত্যা পরিকল্পনার অভিযোগ নিয়ে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ কিংবা মোসাদের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।