গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক
আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির লক্ষ্যে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) আওতাধীন পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প এলাকায় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ৪টি থানা, ৬টি তদন্ত কেন্দ্র ও ২টি পুলিশ লাইনস স্থাপনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ ছাড়া ৩টি ডিসি অফিস স্থাপনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পাশাপাশি প্রকল্প এলাকার বিভিন্ন সেক্টরে ৪১টি পুলিশ বক্স স্থাপনের প্রক্রিয়াও চলমান বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির।
বুধবার (১ জুলাই) সকাল ৯টায় পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের ১ নম্বর সেক্টরে রাজউকের কেন্দ্রীয় মেকানিক্যাল স্ট্যাক ইয়ার্ডে (প্লট নম্বর-৪৪) বড়কাউ পুলিশ ক্যাম্পের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে আইজিপি আলী হোসেন ফকির বলেন, বড়কাউ পুলিশ ক্যাম্প উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে পুলিশের কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সূচনা হলো। পূর্বাচলকে পরিকল্পিত, নিরাপদ ও আধুনিক নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে এই ক্যাম্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, পূর্বাচল আবাসিক প্রকল্পের নিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থানা ও তদন্ত কেন্দ্র স্থাপনের প্রশাসনিক অনুমোদন দিয়েছে। পরবর্তী সময়ে রাজউক পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশ পুলিশের অনুকূলে ২৯ দশমিক ২১ একর জমি বরাদ্দ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এর মধ্যে ১৮ দশমিক ৬৩ একর জমির দলিল নিবন্ধন ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। বাকি জমির নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান আইজিপি।
আলী হোসেন ফকির আরও বলেন, ভবিষ্যতে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পকে ডিএমপির অধীনে এনে ডিএমপির অন্যান্য বিভাগের মতো একটি স্বতন্ত্র বিভাগ গঠন করা হবে। একজন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনারের তত্ত্বাবধানে সেখানে আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এ জন্য পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে পুলিশের প্রায় ৬ হাজার ৫২৪ জন জনবল সৃষ্টির প্রস্তাব বিবেচনায় রাখা হয়েছে।
আইজিপি বলেন, পূর্বাচলে রাজউকের মেকানিক্যাল স্ট্যাক ইয়ার্ডে বড়কাউ পুলিশ ক্যাম্পের উদ্বোধন বর্তমান সরকারের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার পরিচয় বহন করে। এর মাধ্যমে মেগাসিটি ঢাকার আয়তন ও পরিসর যেমন বাড়বে, তেমনি নাগরিক সুযোগ-সুবিধাসহ আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিও একটি সুসংগঠিত কাঠামো পাবে, যা নগরায়ণ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়াতে ভূমিকা রাখবে।
তিনি আরও বলেন, পূর্বাচলে পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের ফলে প্রকল্পের উন্নয়ন কার্যক্রম আরও বেগবান হবে। পুলিশের অবস্থান ও তৎপরতা জনমনে আস্থা ও নির্ভরতার জায়গা তৈরি করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
প্রাথমিক পর্যায়ে পূর্বাচলে দুটি পুলিশ ক্যাম্প স্থাপিত হবে। এর একটি ১ নম্বর সেক্টরে বড়কাউ পূর্বাচল পুলিশ ক্যাম্প, যা আজ উদ্বোধন করা হয়েছে। অন্যটি প্রস্তাবিত পশি থানা এলাকায় নির্মাণাধীন ‘পশি পুলিশ ক্যাম্প’। আগামী দুই মাসের মধ্যে এটিও উদ্বোধন করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। এরপর ক্রমান্বয়ে অন্যান্য থানা ও তদন্ত কেন্দ্র স্থাপন করা হবে বলে জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে পুলিশ ক্যাম্পটি উদ্বোধন করেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ।