গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক
রাজধানীর জাতীয় বৃক্ষমেলায় কয়েকশ থেকে কয়েক হাজার টাকার চারার পাশাপাশি রয়েছে ব্যতিক্রমী কিছু পরিণত গাছ, যেগুলোর দাম শুনে থমকে যাচ্ছেন দর্শনার্থীরা। মেলায় একটি আমলকি গাছের দাম রাখা হয়েছে ৫০ হাজার টাকা, একটি রাম্বুটান গাছের দাম ৫০,০০০, আর একটি পরিণত আমগাছ বিক্রি হচ্ছে ২৫ হাজার টাকায়।
মেলায় ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ স্টলে সাধারণ ফলদ, বনজ ও শোভাবর্ধনকারী গাছের চারা ২০০ থেকে কয়েক হাজার টাকার মধ্যে বিক্রি হলেও কিছু স্টলে বড় আকারের পরিণত গাছ আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে। দীর্ঘদিন পরিচর্যা করে টবে বড় করা এসব গাছের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন জাতের আম, আমলকি, লিচু, জলপাই, ডালিম, কামরাঙাসহ নানা ফলজ গাছ।

একটি নার্সারির বিক্রয়কর্মী বলেন, ‘এই আমলকি গাছটির বয়স প্রায় ১২ বছর। নিয়মিত ছাঁটাই ও পরিচর্যার মাধ্যমে এটি তৈরি করা হয়েছে। প্রতিবছর ফলও দেয়। তাই এর দাম ৫০ হাজার টাকা রাখা হয়েছে।’
একই স্টলে থাকা পরিণত আমগাছের মূল্য ২৫ হাজার টাকা। বিক্রেতা বলেন, ‘গাছ গুলো এমনভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে, ক্রেতা বাসা বা বাগানে নিয়ে লাগানো ছাড়াও টবেই এই গাছ রাখতে পারবে এবং ১২ মাস ফল সংগ্রহ করতে পারবেন। পরিচর্যা ঠিক থাকলে অল্প সময়েই ফল পাওয়া সম্ভব।’

মেলায় আসা দর্শনার্থী মো. রেজাউল করিমসংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ‘এত দামের আমলকি গাছ আগে দেখিনি। ৫০ হাজার টাকার আমলকি গাছ দেখে অবাক হয়েছি। কিনতে না পারলেও এমন গাছ কাছ থেকে দেখার অভিজ্ঞতা ভালো লাগছে।’
আরেক দর্শনার্থী সাদিয়া ইসলাম সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ‘ছোট চারা তো অনেক জায়গাতেই পাওয়া যায়। কিন্তু এত বড় ও পরিণত গাছ একসঙ্গে দেখার সুযোগ খুব কম মেলে। তাই পরিবারের সবাইকে নিয়ে দেখতে এসেছি।’

বিক্রেতারা জানান, এসব গাছ মূলত শৌখিন ক্রেতা, রিসোর্ট মালিক, বাগানপ্রেমী এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রস্তুত করা হয়। বছরের পর বছর পরিচর্যা, ছাঁটাই, টব পরিবর্তন ও সার প্রয়োগের কারণে এসব গাছের উৎপাদন ব্যয়ও অনেক বেশি।
তাদের দাবি, দাম বেশি হলেও প্রতিবছর এমন পরিণত গাছের ক্রেতা পাওয়া যায়। বিশেষ করে যারা দ্রুত ফল পাওয়া বা সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য বড় গাছ কিনতে চান, তারা এসব গাছের প্রতি আগ্রহ দেখান।
চলমান জাতীয় বৃক্ষমেলায় দেশি-বিদেশি নানা প্রজাতির ফলদ, বনজ, ঔষধি ও শোভাবর্ধনকারী গাছ প্রদর্শন ও বিক্রি হচ্ছে। তবে টানা বৃষ্টির কারণে দর্শনার্থী ও ক্রেতার উপস্থিতি কিছুটা কম থাকলেও ব্যতিক্রমী ও উচ্চমূল্যের গাছগুলো ঘিরে মানুষের কৌতূহলের কমতি নেই।