তুরাগ নদ থেকে বিমান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তার মরদেহ উদ্ধার

শেখ হাসিনার উড়োজাহাজে করে দেশত্যাগের ভিডিও তাহসিফ সুরি ধারণ করেছিলেন বলে আলোচনা রয়েছে।

তুরাগ নদ থেকে বিমান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তার মরদেহ উদ্ধার

গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক

ঢাকার উত্তরখান এলাকার কাছে তুরাগ নদ থেকে বিমান বাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সুরির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, মরদেহে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।

নৌ পুলিশের টঙ্গী ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ খবর পেয়ে বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তুরাগের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে ভাসমান অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

তিনি জানান, মরদেহের কাছে থাকা একটি মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। মৃত্যুর কারণ জানতে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

নৌ পুলিশের প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, মরদেহের পরনে ছিল সাদা পাজামা ও কালো জামা। হাতে ঘড়ি এবং পকেটে একটি আইফোন পাওয়া গেছে। তাঁর মুখে ছিল হালকা দাড়ি।

উত্তরখান থানার উপপরিদর্শক অনুপম দাস সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, মরদেহ ভেসে ওঠার খবরে তাঁরা প্রথমে ঘটনাস্থলে যান। তবে জায়গাটি থানার সীমানার শেষ প্রান্তে এবং নদীসংক্রান্ত বিষয় হওয়ায় নৌ পুলিশ এসে মরদেহ নিয়ে যায়।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী থাকা অবস্থায় কুর্মিটোলা বিমানবন্দর থেকে উড়োজাহাজে দেশ ছেড়ে যান। ওই সময়ের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল। সেই ভিডিও তাহসিফ সুরি ধারণ করেছিলেন বলে আলোচনা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

গত জুলাইয়ে এক পডকাস্টে তাহসিফকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, ওই ভিডিও ধারণ করায় বিমান বাহিনী থেকে তার চাকরি গেছে কি না। জবাবে তিনি বলেছিলেন, “হতে পারে।”

ওই পডকাস্ট অনুষ্ঠানে জানতে চাওয়া হয়, ‘আমার দেশ’ পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই ভিডিওর বিষয়ে বিমান বাহিনী তদন্ত করতে গিয়ে বাহিনীর ভেতরে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর সংশ্লিষ্টতা খুঁজে পায় এবং যারা ‘র’-এর সংশ্লিষ্ট ছিলেন, তাদের মধ্যে আপনার নামও আসে।

জবাবে তাহসিফ বলেন, “আমার মনে হয়, ‘আমার দেশ’ যে প্রতিবেদনটা করেছে, এটা তারা আসলে কোনো প্রোপাগান্ডা সার্ভ করছে।”

গত বছরের ৪ অগাস্ট ‘আমার দেশ’-এর প্রতিবেদনটি প্রকাশ হওয়ার পর আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক প্রতিবাদলিপিতে বলে, প্রতিবেদনে তাহসিফ সুরিসহ দুই কর্মকর্তাকে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর কথা বলা হয়েছে। ‘বাস্তবে’ এ দুই কর্মকর্তাকে ভিন্ন প্রেক্ষাপটে বিমান বাহিনীর প্রচলিত আইন ও বিধিমালার আওতায় যথাযথ প্রক্রিয়ায় অবসরে পাঠানো হয়েছে, যার সঙ্গে ওই অভিযোগের কোনো সম্পর্ক নেই।