গাজীপুর কণ্ঠ, আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদ, দুটিতেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি। ফলে ২০২৫ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফেরার পর এই প্রথম প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বিরোধী দলের নিয়ন্ত্রণাধীন কংগ্রেসের সঙ্গে চলতে হবে।
রয়টার্সের খবর অনুযায়ী, এ নির্বাচনকে ট্রাম্প নিজের শাসনের প্রথম অর্ধেকের ওপর গণভোট হিসেবে তুলে ধরেছিলেন। ভোটাররা ইরান যুদ্ধ, জীবনযাত্রার ব্যয় ও দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে ক্ষোভ দেখিয়েছেন।
সিনেটে ডেমোক্র্যাটরা অন্তত ৫৪টি আসন পেয়েছে, রিপাবলিকানরা ৪৪টি। আলাস্কা ও মিসিসিপির ফল এখনো অনিশ্চিত। এ দুটিতে জিতলে ডেমোক্র্যাটদের আসন ৫৬-তে দাঁড়াবে। প্রতিনিধি পরিষদে দলটি রিপাবলিকানদের হাত থেকে অন্তত ২৫টি আসন কেড়ে নিয়েছে।
ফলাফলে সবচেয়ে বড় চমক এসেছে রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটিতে:
– টেক্সাসে ১৯৮৮ সালের পর প্রথম ডেমোক্র্যাট সিনেটর নির্বাচিত হয়েছেন। একই রাজ্যে তিন মেয়াদের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট হেরেছেন।
– কানসাসে প্রায় এক শতাব্দী পর ডেমোক্র্যাট সিনেটর জিতেছেন।
– সাউথ ক্যারোলাইনায় ট্রাম্পের মনোনীত সিনেট প্রার্থী হেরেছেন, যে রাজ্যে ২০২৪ সালে ট্রাম্প প্রায় ১৮ পয়েন্টে জিতেছিলেন।
রয়টার্স ও ইউএসএ টুডের হিসাবে, ভোট গণনা হওয়া প্রায় ২ হাজার ১০০ কাউন্টির ৯৯ শতাংশেই রিপাবলিকানদের সমর্থন কমেছে।
– মিশিগানে আবদুল এল-সাইদ প্রথম মুসলিম হিসেবে সিনেটে জিতেছেন। তিনি ট্রাম্পের সমর্থনপ্রাপ্ত মাইক রজার্সকে হারিয়েছেন।
– জর্জিয়ায় কিশা ল্যান্স বটমস দেশটির প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী গভর্নর।
– ফ্লোরিডায় বায়রন ডোনাল্ডস প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ রিপাবলিকান গভর্নর।
– নিউ মেক্সিকোয় ডেব হ্যাল্যান্ড প্রথম আদিবাসী আমেরিকান নারী গভর্নর।
– টেক্সাসে জিনা হিনোহোসা প্রথম ল্যাটিনা গভর্নর, আর ক্যালিফোর্নিয়ায় জেভিয়ার বেসেরা প্রথম ল্যাটিনো নির্বাচিত গভর্নর।
ফল প্রকাশের পর ট্রাম্প অপেক্ষাকৃত নরম সুরে ডেমোক্র্যাটদের “ভালো কাজ” করার কথা বলেছেন। ইরান যুদ্ধ ফলে প্রভাব ফেলেছে, এটা মেনে নিলেও ওই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেননি। অভিবাসনের মতো বিষয়ে সহযোগিতার ইঙ্গিত দিলেও “অযৌক্তিক” আইন ভেটো করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। ‘ভেটো’ শব্দ লেখা তাঁর সই করা টুপির একটি ছবিও তিনি সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করেছেন।
এদিকে উপরাষ্ট্রপতি জেডি ভান্স হারের দায় সরাসরি যুদ্ধের সিদ্ধান্তের ওপর চাপিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, গত ফেব্রুয়ারিতে ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানে হামলার সিদ্ধান্তই এ পরাজয়ের কারণ। ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভান্সকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে ধরা হচ্ছে।
সিনেটের রিপাবলিকান নেতা জন থুন বলেছেন, ডেমোক্র্যাটদের “বামপন্থী” অংশ যেন আগের সিদ্ধান্ত উল্টে দিতে না পারে, সে চেষ্টা তাঁরা করবেন।
প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাট নেতা হাকিম জেফরিস জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার কথা বলেছেন। চলমান ইরান যুদ্ধ নতুন কংগ্রেস বসার আগেই শেষ করতে ট্রাম্পের প্রতি তাঁর আহ্বান। জেফরিস স্পিকার নির্বাচিত হলে তিনিই হবেন প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ স্পিকার।
জানুয়ারিতে নতুন কংগ্রেস বসলে ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্প প্রশাসন, তাঁর পরিবার ও মিত্রদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করতে পারবে। সিনেটে তারা ট্রাম্পের মনোনীত ব্যক্তিদের, এমনকি সুপ্রিম কোর্টের সম্ভাব্য বিচারপতিদেরও, নিয়োগ আটকাতে পারবে। তবে তত দিন ক্ষমতা রিপাবলিকানদের হাতে। ডিসেম্বরের পর সরকারি তহবিল অব্যাহত রাখার বিল পাস করতে হবে, যা তারা নিজেদের অগ্রাধিকার বাস্তবায়নে কাজে লাগাতে পারে।