বাংলাদেশ- ভারত সম্পর্ক; কলকাঠি নাড়ছেন যারা

গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : গত ১১ বছরে প্রথমবারের মত বাংলাদেশ- ভারত সম্পর্ক নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে ভারতে নাগরিকত্ব বিল পাস রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে মিয়ানমারকে প্রচ্ছন্ন সমর্থন, তিস্তা পানি চুক্তি নিয়ে কোন কথা না বলা। সংকটের সময় পেঁয়াজ না দেওয়া। বাংলাদেশে পেয়াজ আমদানি নিষিদ্ধ করার মতো নানা বিষয় নিয়েই কূটনৈতিকরা মনে করছে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে একটা চিড় ধরেছে। বিশেষ করে নাগরিকত্ব বিল পাসের সময় ভারতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ যিনি বিজেপি সরকারের দ্বিতীয় ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত তিনি প্রকাশ্যেই বাংলাদেশের সংখ্যালঘু নীপিড়ণ হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন। কূটনৈতিক অঙ্গনের প্রশ্ন হলো যে, বাংলাদেশ ভারতের যে হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক সেই সম্পর্কে হঠাৎ করে টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়েছে।

একাধিক কূটনৈতিক মনে করছেন যে, কিছু লোকের ভুল তথ্য এবং সরকারের বিরুদ্ধে ভারতের বিভিন্ন থিংক্যট্যাংক এবং প্রভাবশালী গ্রুপের কাছে অভিযোগ উত্থাপন এবং ভারতের হিন্দুত্ববাদী জাতীয়তাবাদের বিস্তারের ফলেই বাংলাদেশ- ভারত সম্পর্কের টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়েছে। এই টানাপোড়েনের ক্ষেত্রে ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকারের রাজনৈতিক দর্শনই মূলত দায়ী। ভারতের মধ্য থেকেই যারা মুক্তবুদ্ধির চিন্তা করেন তারা বলছেন, ভারত ক্রমশ একটি উগ্র জাতীয়তাবাদী এবং হিন্দুত্ববাদী রাষ্ট্র হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছেন। কিন্তু কূটনৈতিকরা মনে করেন যে, ভারতের বিজেপি সরকারের এই অবস্থান গত মেয়াদেও ছিল এবার কিছু বেড়েছে। এর সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের অবনতির খুব বড় যোগসাজশ নেই। তারা মনে করছেন, কিছু কিছু মহল বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ভারতের নীতি নির্ধারকদের বিষিয়ে তুলতে চেষ্টা করছেন এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে তারা সফলও হয়েছেন।

যারা এই কাজটা করছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। গত বছর এই সাবেক বিচারপতি একটা বই লিখেছিলেন নির্বাচনের আগে এবং সেই বইয়ে তিনি সংখ্যালঘুদের নীপিড়নের কথা বলেছিলেন। এছাড়া সিনহা ভারতের বিভিন্ন মহলের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করেছেন। সাবেক প্রধান বিচারপতি হিসেবে ভারতের উচ্চমহলে তার একটি পরিচিতি রয়েছে। প্রধান বিচারপতি থাকা অবস্থায় তিনি নরেন্দ্র মোদির সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেছিলেন। সেই সূত্র ধরে তিনি একের পর এক বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করছেন। বিশেষ করে সংখ্যালঘু নীপিড়নের বিষয়টি নিয়ে তিনি অনেক কথা বলছেন বলেও একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে।

সাম্প্রতিক সময় পিয়া সাহা বাংলাদেশ- ভারত সম্পর্তের টানাপোড়নের পেছনে কিছুটা হলেও ভূমিকা রেখেছে বলে অনেক কূটনৈতিক মনে করেন। কারণ পিয়া সাহা আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে জানিয়েছেন, বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের বাড়িঘর দখল করা হচ্ছে। তাদের ওপর নিপীড়ন হচ্ছে। এই অভিযোগের কপি তিনি ভারতের কাছেও পাঠিয়েছেন বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

ড. মুহম্মদ ইউনূসের সঙ্গেও ভারতের সম্প্রতি ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ হচ্ছে। বিশেষ করে, ভারতে এখন ক্ষুদ্রঋণ সম্প্রসারিত হচ্ছে এবং যে বিষয়ে ড. মুহম্মদ ইউনূস নানারকম পরামর্শ দিচ্ছেন। ড. মুহম্মদ ইউনূস বাংলাদেশের বিষয়ে অনেকরকম নেতিবাচক তথ্য দিচ্ছেন বলেও একাধিক কূটনৈতিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। উল্লেখ্য যে, ড. মুহম্মদ ইউনূস এর আগেও পদ্মাসেতুর বিষয়ে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন। এবার তিনি ভারতের কাছেও বাংলাদেশ বিরোধী অভিযোগ দিয়েছেন বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

বিএনপি নেতা আবদুল আউয়াল মিন্টুর সঙ্গে ভারতের একটি মহলের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি একপাত্রে সব ফল না রাখার নীতি অনুসরণ করার জন্য ভারতকে অনুরোধ করছেন। আবদুল আউয়াল মিন্টু ভারতের বিভিন্ন ফোরামে বাংলাদেশের একটি দলের ওপর নির্ভরতা ভারতের জন্য কতটা ক্ষতিকর হতে পারে- এ ধরনের বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন বলেও একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

এছাড়াও বেশকিছু ব্যক্তি, সংগঠন গোষ্ঠী রয়েছে যারা সংখ্যালঘু নিপীড়নের নানা কল্পকাহিনী ভারতের বিভিন্ন মহলে পৌঁছে দিয়ে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের একটি টানাপোড়েন সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে বলে একাধিক কূটনৈতিক মহল জানিয়েছে।

তবে সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কূটনৈতিকরা মনে করেন, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে কোনো টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়নি। নাগরিকত্ব বিল নিয়ে একটি অস্বস্তি তৈরি হয়েছে এবং এটি ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। আস্তে আস্তে এই বিষয়গুলো সহনীয় মাত্রায় চলে আসবে এবং দুইদেশের সম্পর্ক পারস্পরিক আস্থা এবং বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে এগোবে। কাজেই সম্পর্কের অবনতি হওয়ার কোনো আশংকা নেই।

 

সূত্র: বাংলা ইনসাইডার

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button