রোগ-বালাই থেকে বাঁচতে প্রয়োজন নিজ ঘর-বাড়ি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা

অধ্যাপক শামসুল হুদা লিটন : মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব। সুস্থভাবে বেঁচে থাকা প্রতিটি মানুষেরই কামনা। কেউ মরতে চায়না, সবাই বেঁচে থাকতে চায়। কবির ভাষায়-” মরিতে চাহিনা আমি সুন্দর ভুবনে, মানুষের মাঝে আমি বাঁচিবার চাই। ” তারপরও বিভিন্ন রোগ- ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে প্রতিনিয়তই মানুষ চলে যাচ্ছে না ফেরার দেশে। পৃথিবীতে বিভিন্ন সময় নানা রোগ-ব্যাধি, মহামারি মানব সভ্যতাকে বিপর্যস্ত করেছে। অকালে মৃত্যুর মিছিলে শরিক হয়েছে অগনিত মানুষ। এই রোগ-ব্যাধি মহামারি আল্লাহ প্রদত্ত হলেও মানুষ এর দায় এড়াতে পারেনা।

আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের গবেষণায় দেখা যায় যে, এই মহামারির পিছনে রয়েছে ক্ষুদ্র প্রাণি- ক্ষুদ্র জীবানু, ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া। এ সব ক্ষুদ্র জীবানু মানুষের ঘর- বাড়ি আর চারপাশের পরিবেশে বসবাস করে। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান বলছে-ইদুর, আরশোলা, মশা, মাছি আর পশু, পাখি মানুষের মাঝে রোগ ছড়াতে পারে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাবে মানুষ প্রতিনিয়তই নানা সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। মানুষের সুস্থতার জন্য পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা খুবই জরুরি। মানুষকে বাঁচতে হলে সব ধরনের নোংরা বস্তু ও অপরিচ্ছন্নতা থেকে দূরে থাকতে হবে। মানুষ যে জায়গায় বসবাস করে সবার আগে সে জায়গাটুকু পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। কেননা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অঙ্গ। পবিত্রতা ঈমানের অঙ্গ। মানুষের স্বভাব হলো পরিষ্কার ও পবিত্র থাকা। তাই স্বভাব যদি বিকৃত না হয় তাহলে মানুষ নিজেও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে পছন্দ করে এবং চারপাশের পরিবেশ ও লোকজনকেও পরিচ্ছন্ন দেখতে ভালবাসে। মানুষকে আল্লাহ তাআলা সুন্দরতম আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন। মানুষ যদি পরিচ্ছন্ন থাকে তাহলে তার স্বাভাবিক সৌন্দর্য প্রকাশিত হবে। তাই প্রতিটি মানুষের নিয়মিত মেসওয়াক করা, হাত-পায়ের নখ কাটা, শরীরের বিভিন্ন স্থানের চুল পরিষ্কার করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। পানি বাহিত রোগ থেকে বাঁচার জন্য সবাইকে অবশ্যই পরিষ্কার, বিশুদ্ধ ও ফুটন্ত পানি পান করতে হবে। ইসলামে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা হচ্ছে ধর্মের বিধান। অপরিচ্ছন্ন থাকার সুযোগ ইসলামী শরীয়তে নেই। কোন মুসলমান অপবিত্র ও অপরিচ্ছন্ন থাকতে পারেনা। মুসলমানকে অবশ্যই রুচিবোধ সম্পন্ন হতে হবে এবং সুরুচির পরিচয় দিতে হবে।

ঘর-বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশকে পরিষ্কার রাখতে হবে। প্রতিদিন একবার করে হলেও নিজ থাকার ঘর পরিষ্কার করা প্রয়োজন। ঘরের চারপাশে যদি ময়লা-আবর্জনা থাকে তাহলে প্রতিবেশী ও অন্যান্য মানুষের জন্য কষ্টের কারণ হতে পারে। ঘরবাড়িতে যেসব জায়গা বেশী ময়লা থাকে সে সব জায়গা ভালোভাবে পরিষ্কার করা উচিত। রান্নাঘর, গোসলখানা, গুদামঘর, খাট-চৌকির নীচ সব সময় পরিষ্কার রাখতে হবে। রান্না ঘরের বেসিন, যেখানে ধোয়ার কাজ করা হয় তা সাধারণত অপরিচ্ছন্ন থাকে। ঐ স্থানগুলো গুরুত্বের সাথে পরিষ্কার করা উচিত। গোসলখানার কমোড ও মেঝে নিয়মিত পরিষ্কার করা দরকার। দৈনিক অন্তত একবার হলেও টয়লেট পরিষ্কার করা ভালো। বেশি ব্যবহৃত হলে দৈনিক দুইবার পরিষ্কার করা উচিত। আমাদের প্রতিটি থাকার ঘরে কিছু -পুরাতন জামা-কাপড়, পুরাতন ব্যাগ, হাড়ি-পাতিল সহ নানা জিনিস পত্র থাকে। মাঝে মাঝে এসব অবশ্যই পরিষ্কার করা দরকার।

অনেকের বাড়িতে পুরাতন বই, খাতা, খবরের কাগজ থাকে। এসবের মাঝে জীবাণু বাসা বাধতে পারে। এগুলোকে এড়িয়ে গেলে চলবে না। পুরাতন জিনিসপত্রের মাঝেও লুকিয়ে থাকতে পারে আপনার মরণ ব্যাধি। আমরা প্রত্যেকে যদি পরিচ্ছন্নতায় অভ্যস্ত হই তাহলে আমাদের সমাজ থেকেও অপরিচ্ছন্নতা দূর হবে। ময়লা ফেলার ঝুড়ি বা ডাস্টবিন পরিষ্কারের ব্যাপারে খুব অবহেলা কারা চলবে না। নিয়মিত ময়লার ঝুড়ি পরিষ্কার করা উচিত। এটাতে ময়লা ফেলা হয় বলে অপরিচ্ছন্ন রাখা যাবেনা। মোট কথা প্রতিটি মানুষের ঘর-বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশকে সব সময় পরিষ্কার রাখতে হবে। বর্তমান সরকারের আলোচিত মরণ ভাইরাস করোনা প্রতিরোধে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারে আমাদের আরো বেশি করে সচেতন হতে হবে। এ ক্ষেত্রে জনসচেতনতার কোন বিকল্প নেই।

লেখকঃ শামসুল হুদা লিটন
অধ্যাপক রাষ্ট্রবিজ্ঞান
তারাগঞ্জ কলেজ
কাপাসিয়া, গাজীপুর