গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : নভেল করোনাভাইরাসের আক্রমণে নাকাল পুরো বিশ্ব। গতকাল পর্যন্ত বিশ্বের ১৮৪টি দেশের সাড়ে ১৪ লাখ মানুষ ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়েছে। প্রাণ হারিয়েছে ৮৩ হাজারের বেশি মানুষ। কোনো ধরনের প্রতিষেধক বা ওষুধ না থাকায় এ মারণ ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে একমাত্র উপায় হিসেবে লকডাউনকে বেঁচে নিয়েছে বিশ্বের দেশগুলো। বাংলাদেশও সে পথেই আছে। সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো লকডাউন শব্দটি ব্যবহার না করলেও ‘সামাজিক দূরত্ব’ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে রাজধানীর সঙ্গে সারা দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা। একই ব্যবস্থা নিয়েছে নারায়ণগঞ্জ, নেত্রকোনা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজারসহ বেশ কয়েকটি জেলা। যদিও গুগলের কমিউনিটি মবিলিটি রিপোর্ট বলছে, এ পদক্ষেপ কঠোরভাবে কার্যকরে অন্য দেশগুলোর তুলনায় এখনো পিছিয়ে আছে বাংলাদেশ।
বিশ্বব্যাপী নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে স্বাস্থ্য খাতের বিশেষজ্ঞদের সহায়তার জন্য কমিউনিটি মবিলিটি রিপোর্টের মাধ্যমে সারা বিশ্বের মানুষের অবস্থানগত তথ্য উন্মুক্ত করেছে গুগল। এতে নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আগে ও পরে ট্রানজিট স্টেশন, রিটেইল শপ, বিনোদন কেন্দ্র, কর্মক্ষেত্র, মুদি দোকান, ফার্মেসি, পার্ক ও বাসাবাড়িতে মানুষের অবস্থানের তুলনামূলক তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে এ বছরের ৩ জানুয়ারি থেকে ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পাঁচ সপ্তাহের তথ্যের সঙ্গে সর্বশেষ ২৯ মার্চ পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যের তুলনামূলক বিশ্লেষণ প্রকাশ করেছে গুগল।
গুগলের কমিউনিটি মবিলিটি রিপোর্ট বলছে, লকডাউন কার্যকরে পার্শ্ববর্তী ভারতসহ বিশ্বের বেশকিছু দেশের তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের পার্কগুলোয় এখনো যাচ্ছে মানুষ। যদিও আগের তুলনায় সেখানে মানুষের চলাচল কমেছে মাত্র ২৬ শতাংশ। এতে পার্কে যাতায়াতকারীদের মাধ্যমে নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি রয়েছে।
গুগলের কমিউনিটি মবিলিটি রিপোর্টের ভিত্তিতে নভেল করোনাভাইরাস প্রতিরোধ কৌশলের কার্যকারিতা নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারত, পাকিস্তান, ফিলিপাইন ও যুক্তরাষ্ট্রের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করেছে গবেষণা প্রতিষ্ঠান ডাটাবিডি। ভারত, পাকিস্তান ও ফিলিপাইনের সঙ্গে তুলনা করার বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটি বলছে, এ দেশগুলোয় বাংলাদেশের মতোই উচ্চহারে জনসংখ্যার ঘনত্ব রয়েছে, যা কভিড-১৯ সংক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অনুঘটক। তাছাড়া এ দেশগুলোর জলবায়ু ও জনতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্যও বাংলাদেশের মতোই। আর যুক্তরাষ্ট্রকে বেছে নেয়ার কারণ হচ্ছে কভিড-১৯ মোকাবেলায় দেশটিত অদক্ষতা, যা বাংলাদেশের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।
ডাটাবিডির বিশ্লেষণ অনুসারে, মানুষের চলাচল নিয়ন্ত্রণ বা লকডাউন কার্যকরের দিক দিয়ে ভারত, পাকিস্তান ও ফিলিপাইনের চেয়ে পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। গত ২৪ মার্চ মধ্যরাত থেকে ভারতে তিন সপ্তাহের জন্য পুরোপুরি লকডাউন ঘোষণা করা হয়। লকডাউন কার্যকর করতে পুলিশ কারফিউও জারি করেছে। তবে গুগলের তথ্য বলছে, এ সময়ে ভারতের স্টেশনগুলোয় আগের তুলনায় মানুষের চলাচল কমেছে ৭১ শতাংশ। তাছাড়া দেশটিতে রিটেইল ও বিনোদন কেন্দ্রে ৭৭ শতাংশ, কর্মক্ষেত্রে ৪৭, মুদি দোকান ও ফার্মেসিতে ৬৫ এবং পার্কে আগের তুলনায় ৫৭ শতাংশ মানুষের চলাচল কমেছে। জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যানুসারে ভারতে সর্বশেষ ৫ হাজার ৪৮০ জন নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। দেশটিতে মৃতের সংখ্যা ১৬৪।
নভেল করোনাভাইরাস ঠেকাতে মার্চের শেষ সপ্তাহে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট ও রেল যোগাযোগ বন্ধ ঘোষণা করে পাকিস্তান। প্রয়োজন ছাড়া মানুষকে ঘর থেকে বের হতে নিষেধ করা হয়েছে। সম্প্রতি লকডাউনের মেয়াদ ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে দেশটিতে। গুগলের প্রতিবেদন বলছে, লকডাউনের এ সময়ে পাকিস্তানের স্টেশনে ৬২ শতাংশ, রিটেইল ও বিনোদন কেন্দ্রে ৭০, কর্মক্ষেত্রে ৪১, মুদি দোকান ও ফার্মেসিতে ৫৫ এবং পার্কে আগের তুলনায় ৪৫ শতাংশ মানুষের চলাচল কমেছে। দেশটিতে সর্বশেষ ৪ হাজার ৭২ জন নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে, আর মৃতের সংখ্যা ৫৮।
পূর্ব এশিয়ার দেশ ফিলিপাইন গত ১৬ মার্চ কঠোর হোম কোয়ারেন্টিনের পাশাপাশি কর্মক্ষেত্র ও পরিবহন বন্ধের ঘোষণা দেয়। এ সময় নাগরিকদের খাদ্য ও চিকিৎসাসেবা দেয়া হবে বলেও ঘোষণা আসে সরকারের পক্ষ থেকে। সম্প্রতি দেশটি লকডাউনের সময়সীমা ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়িয়েছে। তবে গুগলের কমিউনিটি মবিলিটি রিপোর্ট বলছে, ফিলিপাইনের স্টেশনে ৮২ শতাংশ, রিটেইল ও বিনোদন কেন্দ্রে ৮১, কর্মক্ষেত্রে ৫৪, মুদি দোকান, ফার্মেসি ও পার্কগুলোয় আগের তুলনায় ৫৯ শতাংশ মানুষের চলাচল কমেছে। দেশটিতে বর্তমানে নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ৩ হাজার ৮৭০, আর এ পর্যন্ত মারা গেছে ১৮২ জন।
শুরুতে পাত্তা না দিলেও নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ব্যাপক হারে বেড়ে যাওয়ার কারণে পরবর্তী সময়ে ৩০টি রাজ্য লকডাউন ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত রাজ্য নিউইয়র্কে লকডাউনের সময়সীমা ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের অনেকেই পুরো দেশ লকডাউনের পক্ষে মত দিলেও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যেসব রাজ্যে সংক্রমণ কম, সেখানে ব্যবসায়িক কার্যক্রম চালু রাখার পক্ষে। অনেক আগেই নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হলেও যথাসময়ে পদক্ষেপ না নেয়ার কারণে বর্তমানে চরম মূল্য দিতে হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রকে। সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী দেশটিতে নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় চার লাখ। আর মারা গেছে ১২ হাজার ৯১১ জন। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১ হাজার ৭৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। গুগল মবিলিটি রিপোর্ট অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের স্টেশনে ৫১ শতাংশ, রিটেইল ও বিনোদন কেন্দ্রে ৪৭, কর্মক্ষেত্রে ৩৮, মুদি দোকান ও ফার্মেসিতে ২২ এবং পার্কে আগের তুলনায় ১৯ শতাংশ মানুষের চলাচল কমেছে।
এদিকে দক্ষিণ এশিয়ার আরেক দেশ নেপালে গত ২৪ মার্চ এক সপ্তাহের জন্য লকডাউন ঘোষণা করে সরকার। সম্প্রতি লকডাউনের মেয়াদ ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এ সময় দেশটির স্টেশনে ৭৪ শতাংশ, রিটেইল ও বিনোদন কেন্দ্রে ৭৮, কর্মক্ষেত্রে ৭২, মুদি দোকান ও ফার্মেসিতে ৬৯ এবং পার্কে আগের তুলনায় ৫৫ শতাংশ মানুষের চলাচল কমেছে। সর্বশেষ দেশটিতে নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা মাত্র ৯। এ পর্যন্ত দেশটিতে নভেল করোনাভাইরাসে কেউ মারা যায়নি।
নভেল করোনাভাইরাসের ভয়াবহ আক্রমণের শিকার হয়েছে ইতালি। প্রথম শনাক্ত হওয়ার পর যথাযথ পদক্ষেপ নিতে ঢিলেমি করার চরম মূল্য দিতে হচ্ছে দেশটিকে। গতকাল পর্যন্ত ইতালিতে নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ৩৫ হাজার ৫৮৬, আর মারা গেছে ১৭ হাজার ১২৭ জন। গত ১২ মার্চ থেকে পুরো ইতালিতে লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। এখনো দেশটিতে লকডাউন চলছে। এ সময়ে দেশটির স্টেশনে ৮৭ শতাংশ, রিটেইল ও বিনোদন কেন্দ্রে ৯৪, কর্মক্ষেত্রে ৬৩, মুদি দোকান ও ফার্মেসিতে ৮৫ এবং পার্কে আগের তুলনায় ৯০ শতাংশ মানুষের চলাচল কমেছে।
ইউরোপের আরেক দেশ স্পেনেও ভয়াবহ রূপ দেখিয়েছে নভেল করোনাভাইরাস। বুধবার পর্যন্ত দেশটিতে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪৬ হাজার ৬৯০, আর মৃতের সংখ্যা ১৪ হাজার ৫৫৫। স্পেন গত ১৪ মার্চ থেকে জরুরি অবস্থার অংশ হিসেবে পুরো দেশ লকডাউন ঘোষণা করে। এ সময় নাগরিকদের খাবার কিংবা ওষুধ কেনা, হাসপাতাল কিংবা কাজ ছাড়া ঘরের বাইরে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। গুগলের তথ্য বলছে, স্পেনের স্টেশনে ৮৮ শতাংশ, রিটেইল ও বিনোদন কেন্দ্রে ৭৭, কর্মক্ষেত্রে ৬৪, মুদি দোকান ও ফার্মেসিতে ৭৬ এবং পার্কে আগের তুলনায় ৮৯ শতাংশ মানুষের চলাচল কমেছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও ভাইরাস মোকাবেলায় হিমশিম খাচ্ছে দেশটি।
অন্যদিকে নভেল করোনাভাইরাসের থাবায় পড়া বিধ্বস্ত ইউরোপের আরেক দেশ ফ্রান্স। বুধবার পর্যন্ত দেশটিতে নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১০ হাজার ৭০, আর মৃতের সংখ্যা ১০ হাজার ৩৪৩। ফ্রান্সে গত ১৭ মার্চ থেকে প্রথমে ১৫ দিনের জন্য লকডাউন ঘোষণা করা হয়। নভেল করোনাভাইরাস ঠেকাতে এ সময়ে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মানুষকে ঘরের বাইরে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে অবশ্য আরো কয়েক সপ্তাহের জন্য লকডাউনের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। গুগলের তথ্য বলছে, দেশটিতে স্টেশনে ৮৭ শতাংশ, রিটেইল ও বিনোদন কেন্দ্রে ৮৮, কর্মক্ষেত্রে ৫৬, মুদি দোকান ও ফার্মেসিতে ৭২ এবং পার্কে আগের তুলনায় ৮২ শতাংশ মানুষের চলাচল কমেছে।
নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে তুলনামূলক ভালো অবস্থানে রয়েছে জার্মানি ও দক্ষিণ কোরিয়া। বুধবার পর্যন্ত জার্মানিতে আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ৭ হাজার ৬৬৩ দাঁড়ালেও মৃতের সংখ্যা ২ হাজার ১৬, যা ফ্রান্স, স্পেন ও ইতালির চেয়ে অনেক কম। গত ১৮ মার্চ জার্মানির মিতেরিখ শহরটি প্রথমে লকডাউন করা হয়। পরবর্তী সময়ে সরকার নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে নাগরিকদের সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার নির্দেশনা দেয়। জার্মানিতে ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত লকডাউনের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। এ সময়ে দেশটির স্টেশনে ৬৮ শতাংশ, রিটেইল ও বিনোদন কেন্দ্রে ৭৭, কর্মক্ষেত্রে ৩৯, মুদি দোকান ও ফার্মেসিতে ৫১ এবং পার্কে আগের তুলনায় ৪৯ শতাংশ মানুষের চলাচল কমেছে।
দক্ষিণ কোরিয়া অবশ্য কোনো ধরনের লকডাউন ছাড়াই নভেল করোনাভাইরাস মোকাবেলায় সাফল্য দেখিয়েছে। চীনের পার্শ্ববর্তী দেশ হওয়া সত্ত্বেও ব্যাপক হারে টেস্ট এবং আক্রান্ত হওয়া মানুষকে আইসোলেশনে রাখার মধ্য দিয়ে নভেল করোনাভাইরাস মোকাবেলায় বেশ সফল দক্ষিণ কোরিয়া। দেশটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১০ হাজার ৩৮৪, আর মারা গেছে ২০০ জন। বিশ্বের সব দেশেই যেখানে বিভিন্ন স্থানে মানুষের চলাচল আগের তুলনায় কমেছে, সেখানে গুগলের তথ্য বলছে, দক্ষিণ কোরিয়ায় আগের তুলনায় বর্তমানে মুদি দোকান ও ফার্মেসিতে ১১ শতাংশ ও পার্কগুলোয় ৫১ শতাংশ মানুষের চলাচল বেড়েছে।
গুগলের মবিলিটি রিপোর্ট অনুসারে, বাংলাদেশের স্টেশনে ৬৬ শতাংশ, রিটেইল ও বিনোদন কেন্দ্রে ৬৮, কর্মক্ষেত্রে ৬০, মুদি দোকান ও ফার্মেসিতে ৪৬ এবং পার্কে আগের তুলনায় ২৬ শতাংশ মানুষের চলাচল কমেছে। আর দেশে আগের তুলনায় ঘরে থাকা মানুষের সংখ্যা বেড়েছে ২৪ শতাংশ। অন্যদিকে গতকাল পর্যন্ত বাংলাদেশে নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ২১৮ ও মারা গেছে ২০ জন। আর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছে ৩৩ জন।
অবশ্য বাংলাদেশে মুদি দোকান ও ফার্মেসিতে মানুষের চলাচলের তথ্যের বিষয়ে ডাটাবিডির বিশ্লেষণ বলছে, এক্ষেত্রে প্রকৃত সংখ্যা প্রতিফলিত হয়নি। কারণ এক্ষেত্রে শহর ও গ্রামের মধ্যে অবস্থানগত বৈচিত্র্য রয়েছে। তাছাড়া গুগল ম্যাপে সাইন আপ করলে তখন গুগল অবস্থানগত তথ্য সংগ্রহ করতে পারে। তাই সাইন আপ করেনি এমন মানুষের সংখ্যাও অনেক। তাছাড়া এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে গার্মেন্টস খোলার খবরে বিপুলসংখ্যক শ্রমিক ঢাকায় প্রবেশ করেছেন। তাছাড়া লকডাউনের মধ্যেও দেশের বিভিন্ন স্থানে মানুষের ঘোরাঘুরির তথ্য গণমাধ্যমে উঠে এসেছে। ফলে এসব কিছু বিবেচনায় নিলে মানুষের চলাচলসংক্রান্ত প্রকৃত তথ্য আরো শোচনীয় হবে। তাছাড়া পার্কে চলাচলের তথ্য বলছে, এখনো বিপুলসংখ্যক মানুষ সচেতন না হয়ে ঘরে থাকার পরিবর্তে বাইরে অযথা ঘোরাঘুরি করছে।
সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এএসএম আলমগীর বলেন, আমরা কিন্তু ঠিক সময়েই দেশের এয়ারপোর্ট এবং স্থল ও নৌবন্দরগুলোয় চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয়েছি। কিন্তু সমস্যা হয়েছে যখন ২৪ মার্চ ছুটির ঘোষণা এল মানুষ বাড়িতে যাওয়ার জন্য হুমড়ি খেয়ে রেল স্টেশন, বাস স্ট্যান্ড ও লঞ্চ টার্মিনালে ভিড় করল। আবার হঠাৎ করেই কিছুদিন আগে গার্মেন্টস খোলার ঘোষণার খবরে অনেক শ্রমিক ঢাকায় এসেছেন। এক্ষেত্রে কোথাও না কোথাও একটি সমন্বয়হীনতা রয়েছে বলে আমি মনে করি। এখনো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়নি। এখনো যদি সবাই ঘরের মধ্যে থাকে, তাহলে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
রাজধানীসহ সারা দেশে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নানা ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে প্রশাসন ও পুলিশ। স্থানীয় প্রশাসনকে এ কাজে সহায়তা করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। কোনো নির্দিষ্ট এলাকায় করোনার রোগী শনাক্ত হলে সে বাড়ি বা এলাকা পুরোপুরি লকডাউন করে দেয়া হচ্ছে। নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেয়া হচ্ছে মুদি দোকান খোলা রাখার জন্য। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে যেতে মানুষকে নিষেধ করা হচ্ছে। তার পরও রাস্তাঘাটে কমছে না মানুষের সমাগম।
এ বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (মিডিয়া) মো. সোহেল রানা বলেন, মানুষকে সতর্ক করতে পুলিশ বিভিন্ন ধরনের উদ্ভাবনী ও সচেতনতামূলক পদক্ষেপ নিয়েছে। একই সময়ে প্রয়োজনবোধে কঠোর আইনগত পদক্ষেপও নেয়া হয়েছে। পার্কসহ যেকোনো জায়গায় জনসমাগম রুখতে আমাদের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
কঠোরভাবে লকডাউন কার্যকর না হওয়ার পেছনে মানুষের সচেতনতার অভাবকেই দায়ী করছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাবেক আঞ্চলিক উপদেষ্টা ও পাবলিক হেলথ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক ডা. মোজাহেরুল ইসলাম।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষের সচেতনতার বড়ই অভাব। তাই কঠোরভাবে লকডাউন কার্যকর করা যাচ্ছে না। তবে লকডাউন তখনই কার্যকর হবে, যদি ব্যাপক হারে টেস্ট করার ব্যবস্থা থাকে। এতে নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত এবং তাদের সংস্পর্শে আসা মানুষদের চিহ্নিত করে আইসোলেশনে নিয়ে আসা সম্ভব হবে। পাশাপাশি লকডাউন বলবৎ থাকলে তা সংক্রমণ প্রতিরোধে সহায়ক হবে। তবে সবকিছুর ওপরে টেস্ট। এর কোনো বিকল্প নেই।
সূত্র: বণিক বার্তা