গাজীপুরের সড়কে ‘সীমিত আকারে চাঁদাবাজি’ শুরু!

বিশেষ প্রতিনিধি : করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে ‘গাজীপুর পরিবহনে’ সীমিত আকারে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।

সোমবার (৮ জুন) শিমুলতলি প্রান্তে ১২০ টাকা করে সিটি টোল আদায়ের নামে চালকদের কাছ থেকে জোরপূর্বক এ টাকা আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগে জানা গেছে।

সরকার যখন সীমিত পরিসরে যানবাহন চালানোর উদ্যোগ নিলেন, তখনই চাঁদাবাজ নেতারা সীমিত আকারে চাঁদাবাজি শুরু করলেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গাজীপুর পরিবহনের কয়েকজন চালক বলেন, টানা ৬৭ দিন লকডাউনের পর সরকারের সদিচ্ছায় সামাজিক দূরত্বের নিয়মবিধি মেনে যখন বাস চালানোর অনুমতি দেয়া হলো, ঠিক তখনই চাঁদাবাজ নেতারা নিয়মনীতি উপেক্ষা করে সীমিত আকারে ১২০ টাকা করে গাড়িপ্রতি চাঁদাবাজি শুরু করলেন।

চালকদের অভিযোগ, পেটের দায়ে জীবনবাজি রেখে শুধু বউ-বাচ্চাদের মুখে দুমুঠো ভাত তুলে দেয়ার জন্য সারা দিন পরিশ্রম করে যেখানে ৩০০-৪০০ টাকা বেতন পাই, সেখানে উনারা শ্রমিক কল্যাণের নামে কোটি কোটি টাকা চাঁদাবাজি করেন। কিন্তু লকডাউন থাকাকালে তারা গা ঢাকা দিয়েছিলেন।

তারা আরও জানান, এদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের আইনানুগ ব্যবস্থা চাই। যখন দীর্ঘ লকডাউনে দুমুঠো ভাতের জন্য রাস্তায় নেমেছি, তখন এই চিহ্নিত চাঁদাবাজদের টিকিটাও দেখা যায়নি।

গাজীপুর পরিবহনের শ্রমিক নেতা রতন মিয়ার বলেন, ‘এটি সিটি কর্পোরেশনের টোল আদায় করা হচ্ছে সীমিত পরিসরে মাত্র ১২০ টাকা। সীমিত আকারে মাত্র ৫০টা চলমান গাড়ি থেকে এ টোল আদায় করা হচ্ছে। এই টাকা গাড়ি ধোয়ামোছার কাজে ব্যবহার করা হয়’।

গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ইজারা কর্মকর্তা নুরুজ্জামান মৃধা বলেন, ‘কোনো পরিবহনকে সিটি টোল আদায়ের ইজারা দেয়া হয়নি। টোল আদায় করে থাকলে সম্পূর্ণ অবৈধ’।

এ বিষয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘পরিবহনে চাঁদাবাজি চলছে তা জানি না। তবে গাজীপুর পরিবহনে কারা চাঁদাবাজি করছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে’।