গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : কোভিড-১৯ শনাক্ত হয়ে ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গাজীপুরের এক ব্যবসায়ী (৫৯) মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার (৪ জুলাই) রাত সাড়ে ১১ টার দিকে ওই ব্যবসায়ী মারা গেছেন।
রোববার (৫ জুলাই) মৃত ব্যবসায়ীর লাশ সদর উপজেলার ভাওয়াল মির্জাপুর মহা শশ্মানে স্বাস্থ্য বিধি মেনে সৎকার (দাহ) সম্পন্ন করেছে কোয়ান্টামের স্বেচ্ছাসেবকরা।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন গাজীপুর শাখার অর্গানিয়ার আলীম-আল-রাজী।
মৃত ওই ব্যক্তি ভাওয়াল মির্জাপুর বাজারে স্বর্ণের (জুয়েলারি) ব্যবসা করতেন। তিনি মির্জাপুর বাজার এলাকার বাসিন্দা।

মৃত ব্যবসায়ীর ছেলে বলেন, ‘করোনা উপসর্গ নিয়ে গত ২৭ জুন প্রথমে বাবাকে ইউনাইটেড হাসপাতালে আইসোলেশনে ইউনিটে ভর্তি করা হয়। পরে কোভিড-১৯ পরীক্ষার জন্য নমুনা দেওয়া হয়। এরপর ১ জুলাই কোভিড-১৯ পজেটিভ রিপোর্ট পেলে বাবাকে কোভিড ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়। এরপর ৪ জুলাই শনিবার রাত সাড়ে ১১ টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যায়’।
তিনি আরো বলেন, ‘বাবার লাশ সৎকারের (দাহ) জন্য সেবামূলক প্রতিষ্ঠান কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনে যোগাযোগ করলে দ্রুততম সময়ে কোয়ান্টামের প্রশিক্ষিত সৎকারের জন্য নির্ধারিত টিম ইউনাইটেড হাসপাতালে থেকে লাশ বহন করে রোববার সকালে মির্জাপুরে আমাদের বাড়ি পৌঁছে। পরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইড লাইন অনুযায়ী সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করে সকাল ১০ টার দিকে গংগাজল দিয়ে স্নান শেষে মির্জাপুর মহা শশ্মানে সনাতন ধর্মীয় রীতি মেনে সৎকার (দাহ) সম্পন্ন করেন কোয়ান্টামের স্বেচ্ছাসেবকরা’।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের গাজীপুর সদর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সুবল সুবল চন্দ্র ঘোষ বলেন, ‘কোয়ান্টামের স্বেচ্ছাসেবকদের সহযোগিতায় ইউনাইটেড হাসপাতালে থেকে মৃত স্বর্ণ ব্যবসায়ীর মরদেহ বহন করে নিয়ে এসে ভাওয়াল মির্জাপুর মহা শশ্মানে স্বাস্থ্য বিধি মেনে রোববার সকাল ১০ টার দিকে সনাতন ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী সৎকার (দাহ) করা হয়েছে’।
কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন গাজীপুর শাখার অর্গানিয়ার আলীম-আল-রাজী আরো বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন অনুযায়ী আমাদের এ কার্যক্রম চলছে। পুরো প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত পিপিই, মাস্ক, ফেসশিল্ড, সার্জিক্যাল হ্যান্ড গ্লাভস, হেভি গ্লাভস, নেককভার, মরদেহ বহনের জন্য বিশেষ বডিব্যাগসহ সুরক্ষার জন্যে কয়েক ধরনের জীবাণুনাশক- পুরোটাই কোয়ান্টামের স্ব-অর্থায়নে স্বেচ্ছাসেবায় পরিচালিত হচ্ছে। গাজীপুর জেলায় এ পর্যন্ত কোয়ান্টামের স্বেচ্ছাসেবকরা ১৬ টি দাফন ও সৎকার সম্পন্ন করেছে।
গাজীপুর জেলায় দাফন/সৎকার সংশ্লিষ্ট যে কোন ধরনের সহযোগিতার জন্য যোগাযযোগ করা যাবে- কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন করোনা দাফন হটলাইন ০১৩০৬৪১৩১৬৩, ০১৭২৯২০২০২৫, ০১৭৯৯৩৫৫৬৫৫ এই নম্বরে।
এ ছাড়া কোয়ান্টামের ওয়েবসাইটেও এ সংক্রান্ত সকল তথ্য পাওয়া যাবে-http://www.quantummethod.org.bd/
উল্লেখ্য: আজ ৫ জুলাই পর্যন্ত সারাদেশে কোয়ান্টামের ছয়শতাধিক স্বেচ্ছাসেবকবৃন্দ সম্পন্ন করেছেন দাফন ৮৬২, সৎকার ১৪৭, অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া ৯ ও সমাধি ৩ জন সহ সর্বমোট ১০২১ টি।
আরো জানতে…
কোভিড-১৯: নেগেটিভ থেকে পজেটিভ হয়ে অবসরপ্রাপ্ত এক কর্মরতার মৃত্যু, দাফন করেছে কোয়ান্টাম
কোভিড-১৯: গাজীপুরেও লাশ দাফনে এগিয়ে এসেছে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন