গাজীপুর কণ্ঠ, আন্তর্জাতিক ডেস্ক : জম্মু-কাশ্মীর সীমান্তে কুপওয়াড়া ও পুঞ্চে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর গুলিবর্ষণের ফলে ৩ ভারতীয় সেনা জওয়ান নিহত ও ৫ জন আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার পাকিস্তানি বাহিনী আন্তর্জাতিক সীমান্ত বরাবর ভারতীয় সেনা পোস্ট টার্গেট করে মর্টার শেল নিক্ষেপ করে ও অন্যান্য অস্ত্রের সাহায্যে গুলিবর্ষণ করে।
সেনাবাহিনীর মুখপাত্র বলেন উত্তর কাশ্মীরের কুপওয়াড়া জেলার নওগাম সেক্টরে পাকিস্তানি বাহিনী আচমকা মর্টার ও অন্যান্য অস্ত্রের সাহায্যে গুলিবর্ষণ করলে ২ জওয়ান নিহত ও অন্য ৪ জন আহত হন। আহতদের ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে নিরাপদ জায়গায় নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করা হচ্ছে। ভারতীয় সেনাবাহিনী ওই ঘটনার পাল্টা যথাযথ জবাব দিয়েছে। যদিও পাকিস্তানের পক্ষে কত জন হতাহত হয়েছে তা জানা যায়নি।
এদিকে, পুঞ্চ জেলায় নিয়ন্ত্রণরেখার ওপার থেকে ধেয়ে আসা পাকিস্তানি বাহিনীর এলোপাথাড়ি গুলিবর্ষণে ল্যান্স নায়েক কারনেইল সিং নামে এক ভারতীয় সেনা জওয়ান নিহত হয়েছেন। ওই ঘটনায় বীরেন্দ্র সিং নামে এক রাইফেল ম্যান গুরুতর আহত হওয়ায় তাঁকে রাজৌরির সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বীরেন্দ্র সিংয়ের ডান চোখে আঘাত লেগেছে।
বৃহস্পতিবার এক প্রতিরক্ষা মুখপাত্র বলেন, বুধবার রাতে পাকিস্তানি সেনারা বিনা প্ররোচনায় ছোট অস্ত্রের সাহায্যে গুলিবর্ষণের পাশাপাশি মর্টার শেল নিক্ষেপ করে। ভারতীয় সেনাবাহিনী ওই ঘটনার পাল্টা যথাযথ জবাব দিয়েছে। এ সময়ে গুলিতে কারনেইল সিং নামে এক সেনা জওয়ান নিহত হয়েছেন।
গণমাধ্যমের একটি সূত্রে প্রকাশ, গত পাঁচদিন ধরে পাকিস্তানি সেনারা পুঞ্চের জনপদগুলোকে টার্গেট করে চলেছে। গত (মঙ্গলবার) মর্টার শেলিংয়ের কারণে বেশ কয়েকটি পশু আহত হয়েছে। সেপ্টেম্বর মাসে পাকিস্তান সেনাবাহিনী ৪৭ বার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে।
গত ৫ সেপ্টেম্বর রাজৌরি জেলার সুন্দরবানি সেক্টরে নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর ভারী গুলিবর্ষণ ও মর্টার শেল ব্যবহার করে পাকিস্তানি সেনারা যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করলে সেনাবাহিনীর এক সদস্য নিহত হন এবং একজন কর্মকর্তাসহ দু’জন আহত হন।
একইভাবে গত ২ সেপ্টেম্বর, রাজৌরির কেরি সেক্টরে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর গুলিবর্ষণে সেনাবাহিনীর এক জুনিয়র কমিশন্ড অফিসার (জেসিও) নিহত হয়েছিলেন।