গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : কালীগঞ্জে বিউটি পার্লারের ভেতরে প্রবেশ করে নারীদের শ্লীলতাহানির চেষ্টার ঘটনায় পাঁচ জনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগে দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী এক নারী (৩১)।
বৃহস্পতিবার (৩ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় বক্তারপুর ইউনিয়নের নাওয়ানের মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
সত্যতা নিশ্চিত করেছেন কালীগঞ্জ থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) হারুন অর রশিদ।
শুক্রবার (৪ ডিসেম্বর) রাতে ওই বিউটি পার্লারের মালিক ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে কালীগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযুক্তরা হলো, কালীগঞ্জের বক্তারপুর ইউনিয়নের বেরুয়া গ্রামের দেলোয়ার (৩২), সালাউদ্দিন (৪২), আনোয়ার হোসেন (৪৫), সায়েদ (২৫) ও ছায়েম (২৮) এবং অজ্ঞাত আরও ৫/৬ জন।
ভুক্তভোগী ওই নারীর ভাষ্য ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ‘বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নাওয়ানের মোড় এলাকার হেলেনা কমপ্লেক্সে থাকা ওই নারীর বিউটি পার্লারে জোড় পূর্বক প্রবেশ করে অভিযুক্ত দেলোয়ার। পরে সে ওই নারীর হাত ও ওড়না ধরে শ্লীলতাহানি করার চেষ্টা করে। পরে তাকে অশ্লীল ভাষায় গালাগাল করতে থাকে। এছাড়াও ওই সময় পার্লারে থাকা আরো ৩ নারীকেও সে অশ্লীল ভাষায় গালাগাল করে। পরবর্তীতে দেলোয়ার ওই নারীদের হত্যার হুমকি দিয়ে চলে যায়’।
‘এরপর শুক্রবার সন্ধ্যায় স্থানীয় একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুলের পরিচালক ও নাওয়ান বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক এনামুল খাঁনের কাছে ওই নারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেয় দেলোয়ার এবং তার পক্ষ নিয়ে বিচার করতে চাপ প্রয়োগ করে। এতে সম্মত না হওয়ায় দেলোয়ারসহ অভিযুক্ত অন্যরা মিলে এনামুলকে মারধর করে আহত করে।
স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, ‘অভিযুক্ত দেলোয়ার মাদকাসক্ত। সে বখাটে ও সন্ত্রাসী হিসেবে এলাকায় পরিচিত। পূর্বেও সে ওই পার্লারের নারীদের উত্ত্যক্ত করেছে। কিছুদিন আগে সে পার্লার থেকে এক নারীকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়ার মতো ঘটনাও ঘটিয়েছে’।
কালীগঞ্জ থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) হারুন অর রশিদ বলেন, ‘ভুক্তভোগী ওই নারীর অভিযোগের পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। অভিযুক্তদের আটকের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে’।
উল্লেখ্য : নারীদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় তাদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।