উত্তেজনার প্রেক্ষিতে টঙ্গী প্রেসক্লাবে ‘স্থিতাবস্থা’ জারি করেছে আদালত

বিশেষ প্রতিনিধি : অবৈধভাবে সাধারণ সভা আহবানকে কেন্দ্র করে বিবদমান দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনার পরিপ্রেক্ষিতে টঙ্গী প্রেসক্লাবে স্থিতাবস্থা জারি করেছেন আদালত। 

গত বুধবার গাজীপুরের সিনিয়র সহকারী জজ (অতিরিক্ত) আদালতের বিচারক উম্মুল আলাম উভয়পক্ষের শুনানী শেষে এ আদেশ দেন।

এর ফলে আগামীকাল শনিবার ক্লাবের সাধারণ সভা করার কোনো সুযোগ নেই বলে রা জানিয়েছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী।

এর আগে টঙ্গী প্রেসক্লাবের সহ-সাধারণ সম্পাদক দৈনিক যুগান্তরের সাংবাদিক এম আর নাসির সাধারণ সভার ওপর নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আদালতে আবেদন করেছিলেন।

জানা যায়, টঙ্গী প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. আলী হায়দার ওরফে এম এ হায়দার সরকারের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সভাপতি পদ বাতিল ও অবৈধ ঘোষণা চেয়ে আদালতে চলমান মোকদ্দমাকে কোন তোয়াক্কা না করেই এবং বাদীপক্ষকে ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে বেআইনীভাবে সাধারণ সভা আহবান করলে সদস্যদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। অবশেষে অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কায় উভয়পক্ষকে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দিলেন আদালত।

টঙ্গী প্রেসক্লাবের সিনিয়র সদস্যরা জানান, টঙ্গী প্রেসক্লাব গঠনতন্ত্রের ধারা ৫ এর উপধারা (চ) মতে ক্লাবের সদস্যপদ লাভের জন্য ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যাতা হিসেবে স্নাতক ডিগ্রীধারী হতে হয়। তবে বিশেষ ক্ষেত্রে এইচএসসি পর্যন্ত শিথিলযোগ্য বলেও একই ধারায় বলা আছে। গঠনতন্ত্রের এই ধারা অনুযায়ী হায়দার আলী টঙ্গী প্রেসক্লাবের সদস্যপদের যোগ্য নন। কেননা আলী হায়দার এসএসসি পাস হয়েও জাল-জালিয়াতি ও প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে নিজেকে স্নাতক ডিগ্রীধারী দাবী করে টঙ্গী প্রেসক্লাবের সদস্য পদ লাভ করেন এবং পরবর্তীতে একইভাবে প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রকৃত তথ্য গোপন রেখে সভাপতি পদে নির্বাচিত হন। সভাপতির দায়িত্ব পেয়েই লাগামহীন অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্লাবের নামে বেপরোয়া চাঁদাবাজিতে জড়িয়ে পড়েন। এছাড়াও সংগঠন পরিচালনায় বিভিন্নভাবে অযোগ্যতার প্রমাণ দিলে তার শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে সদস্যদের মধ্যে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। অবশেষে আলী হায়দারের সহপাঠীদের সাথে যোগাযোগ করে জানা যায়, তিনি বিগত ১৯৯১ সালে থার্ড ডিভিশনে মেট্রিক পাস করেন। এর পর ১৯৯৩ সালে এইসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিলেও একাধিক বিষয়ে অকৃতকার্য হয়ে শিক্ষা জীবন থেকে ঝরে পড়েন। ফলে টঙ্গী প্রেসক্লাবের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তার প্রাথমিক সদস্যপদসহ সভাপতিপদ বাতিল ও অবৈধ ঘোষণা চেয়ে গত বছর ২৮ জুলাই দেওয়ানী আদালতে মোকদ্দমা দায়ের করেন ক্লাবের সহসাধারণ সম্পাদক দৈনিক যুগান্তরের সাংবাদিক এম আর নাসির। এর পর আলী হায়দারের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সভাপতি পদ কেন বতিল ও অবৈধ ঘোষণা করা হবে না মর্মে আদালত শোকজ করেন। শোকজের জবাব না দিয়ে আলী হায়দার বার বার সময়ের প্রার্থনা করেন এবং একইসাথে প্রেসক্লাবে অবৈধ কর্মকান্ড অব্যাহত রাখেন। সর্বশেষ ক্লাবে বেআইনী ও অগঠনতান্ত্রিকভাবে সাধারণ সভা আহবান করলে সদস্যদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়।

টঙ্গী প্রেসক্লাবের সিনিয়র সদস্যরা আরো জানান, সভাপতি আলী হায়দারের চাঁদাবাজি, অবৈধ ও বেআইনী কর্মকান্ডের প্রতিবাদ করায় এবং তার অগঠনতান্ত্রিক সিদ্ধান্তের সাথে দ্বিমত পোষণ করায় কার্যনির্বাহী কমিটির সহসাধারণ সম্পাদককে এখতিয়ার বর্হিভূতভাবে বহিষ্কার করলে প্রেসক্লাবে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। এমনকি আলী হায়দারের এসব কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে যারাই প্রতিবাদ করেন তাদেরকেই বেআইনীভাবে নোটিশ দিয়ে বহিষ্কার করেন। তার প্রাথমিক সদস্যপদসহ সভাপতিপদ অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা চেয়ে গাজীপুর দেওয়ানী আদালতে মোকদ্দমা চলাকালীন সময়েও আদালতকে উপেক্ষা করে বেআইনীভাবে এ পর্যন্ত ক্লাবের কার্যনির্বাহী কমিটির সহসভাপতি, সাবেক সভাপতিসহ বেশ কয়েকজন সিনিয়র সদস্যকে এখতিয়ার বর্হিভূতভাবে বহিষ্কারের নোটিশ দিয়ে ক্লাবে মারাত্মক সংকট সৃষ্টি করেন। সর্বশেষ ক্লাবের গঠনতন্ত্রকে কোন তোয়াক্কা না করে বেআইনীভাবে সাধারণ সভা আহবান করলে সদস্যদের মাঝে উত্তেজনা দেখা দেয়।

এসব বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত আলী হায়দারের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।