গোয়েন্দা নজরদারিতে রাজনৈতিক নেতা-কর্মীরা!

গোয়েন্দা নজরদারিতে রাজনৈতিক নেতা-কর্মীরা!

গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : দেশে বিশৃঙ্খলার উদ্দেশ্যে যদি কোনো রাজনৈতিক দল অবৈধ অস্ত্র মজুত রাখে, তাহলে শক্ত আইনগত ব্যবস্থা নেবে পুলিশ। এ জন্য বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মকাণ্ড ও নেতা-কর্মীদের বিশেষ নজরদারিতে রাখা হয়েছে। বিশেষ করে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ-বিএনপির বেশ কিছু অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের ওপর একটু বেশি নজর রাখা হচ্ছে। পুলিশের গোয়েন্দা শাখার একটি বিশ্বস্ত সূত্র এ তথ্য জানায়।

বড় বড় রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীর কাছে অবৈধ কোনো অস্ত্র আছে কি না, মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের তা তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি পুলিশ সদর দপ্তরের এক বৈঠকে সারা দেশে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের নির্দেশনা দেওয়া হয়। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার অভিযানে নামে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট। ডিএমপি ও র‌্যাব বেশ কিছু অভিযান পরিচালনা করে। গত এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শতাধিক অপরাধী গ্রেপ্তার হয়েছে। বড় দুই রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী ও বেশ কয়েকজন শীর্ষ সন্ত্রাসীকেও গ্রেপ্তার করা হয়।

গত ১৯ আগস্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিশেষ এক অভিযানে বিএনপির অঙ্গসংগঠন ছাত্রদলের ছয় নেতাকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করা হয়। গোয়েন্দারা জানান, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কেউ যেন কোনো বিশৃঙ্খলা বা নৈরাজ্য তৈরি করতে না পারে, সে লক্ষ্যে মাঠে রয়েছেন তারা। গোয়েন্দা পুলিশের আরেক অভিযানে ২৮ আগস্ট ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি আবুল হাসান চৌধুরীকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করা হয়।

ছাত্রদল নেতাদের কাছ থেকে অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়ে ডিবি পুলিশ সংবাদ মাধ্যমকে জানায়, পুলিশকে দুর্বল মনে করে কোনো অস্ত্র কারবারি, চাঁদাবাজ, মাদক কারবারি বা শীর্ষ সন্ত্রাসী ঢাকা শহরে নির্বিঘ্নে ঘুরে বেড়াবে আর ডিবির টিম বসে থাকবে, সেটি হবে না। পুলিশ কোনো রাজনৈতিক দলের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকে ভয় পায় না। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থে, সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গোয়েন্দা পুলিশের প্রতিটা টিম অবৈধ অস্ত্র কারবারিদের বিরুদ্ধে সতর্ক রয়েছে।

ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম ও ডিবি-উত্তর) খোন্দকার নুরুন্নবী সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, আমাদের কাছে তথ্য আছে একটি রাজনৈতিক দলের কিছু নেতা-কর্মী দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে অস্ত্র মজুত করছেন। আমরা বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে জানতে পারি, তারা ছাত্রদলের রাজনৈতিক নেতা-কর্মী। এরপর তদন্তে উঠে আসে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের নির্দেশে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে অস্ত্র সংগ্রহের কাজ শুরু হয়েছে।

তিনি বলেন, অস্ত্র সরবরাহকারীরা ছাত্রলীগ, ছাত্রদল বা যে দলেরই হোক না কেন, তথ্য পেলেই আমরা ব্যবস্থা নেব।

গোয়েন্দারা জানান, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ঘটনা যাতে না ঘটে, সে জন্য তারা মাঠে কাজ করছেন। এই দুই দলের কোনো নেতা-কর্মীর কাছে অবৈধ অস্ত্র আছে কি না, সে ব্যাপারেও নজরদারি করা হচ্ছে।

র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, সারা দেশে অবৈধ অস্ত্র সরবরাহকারীদের আমরা আইনের আওতায় আনতে কাজ করছি। ইতোমধ্যে অনেক শীর্ষ সন্ত্রাসী ও বিভিন্ন দলের ক্যাডারদের আমরা গ্রেপ্তার করেছি।

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের দায়িত্বশীল আরেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, শুধু বড় দুই দলেরই নয়, তাদের সঙ্গে যেসব রাজনৈতিক দল জড়িত রয়েছে, তারাও যাতে অবৈধ অস্ত্র সরবরাহ করে কোনো প্রকার বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে না পারে, তা মাথায় রেখেই সতর্ক আছে পুলিশ।

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) হারুন অর রশীদ সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, সারা দেশে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের অভিযান চলমান। শুধু বড় দুই দলের নেতা-কর্মীরা আমাদের নজরদারিতে রয়েছেন, বিষয়টি এমন নয়। অস্ত্রধারী কেউ কোনো দলের হতে পারে না। আমাদের উদ্দেশ্যটা রাজনৈতিক নয়, উদ্দেশ্য হলো অপরাধ দমন করা। কে কোন দলের, সেটি মুখ্য বিষয় নয়। অপরাধীরা অস্ত্র নিয়ে সন্ত্রাসী কার্যক্রম করতে চাইবে, সেটা কোনোভাবেই হতে দেওয়া যাবে না।

হারুন অর রশীদ আরও বলেন, দুই মাস আগে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার হওয়া ছাত্রদলের সবাই কেন্দ্রীয় নেতা। আমরা এর আগে এবং পরে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করেছি। এটা চলমান প্রক্রিয়া।

 

সূত্র: খবরের কাগজ