গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : গত ২০ জানুয়ারি থেকে উত্তরা উত্তর স্টেশন থেকে মতিঝিল অংশে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলাচল করছে মেট্রোরেল। ফলে বদলে গেছে ঢাকাবাসীর জীবনচিত্র। এরই মধ্যে রাজধানীবাসী এর সুফল পেতে শুরু করেছে। ফলে মেট্রোরেলে বেড়েছে যাত্রী সংখ্যা। মেট্রো স্টেশনগুলোতে টিকিটের জন্য সবসময়ই দেখা যাচ্ছে যাত্রীদের লম্বা লাইন। এছাড়াও প্রতিটি ট্রেনই যাওয়া-আসা করছে যাত্রী বোঝাই করে। ফলে এখন মেট্রো কর্তৃপক্ষ ট্রেনের নিয়মিত বিরতি কমানোর সিদ্ধান্তের দিকেই যাচ্ছে। এছাড়াও প্রতিদিন টিকিট কাটার ঝামেলা রোধে লাইন দিয়ে এমআরটি পাস ক্রয় করতেও দেখা গেছে মেট্রোর যাত্রীদের।
মেট্রোরেলে সহজে যাতায়াতের জন্য গত পাঁচদিনে প্রায় ৪০ হাজার এমআরটি পাস কিনেছেন যাত্রীরা। এছাড়াও যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে মেট্রো ট্রেনের চলাচলের মধ্যবর্তী সময় কমানোর চিন্তা করছে কর্তৃপক্ষ।
ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ এন ছিদ্দিক শুক্রবার (২৬ জানুয়ারি) সাংবাদিকদের বলেছেন, গত পাঁচ দিনে প্রায় ৪০ হাজার যাত্রী আমাদের এমআরটি পাস কিনেছেন। ভিড় কমাতে আমাদের মেট্রো ট্রেন চলাচলের মধ্যবর্তী সময় কমিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। যা ছয় থেকে সাত মিনিট পর পর ছাড়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে আপাতত কোচ (বগি) বাড়ানোর চিন্তা নেই।
ডিএমটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরও বলেছেন, বর্তমানে মেট্রোরেল প্রতিদিন দেড়শ বার যাতায়াত করছে ও এখন ১০ মিনিট পর পর মেট্রো ট্রেন চলছে। যদি আমরা সময় কমিয়ে আনি সেক্ষেত্রে চলবে ১৭০ থেকে ১৮০ বার। এতে মেট্রোরেলে যাত্রীদের ভোগান্তি কমবে। এছাড়া প্রতি কোচে দুই হাজার ৩০৮ জন যাত্রী বহনের সুযোগ রয়েছে। সে তুলনায় যাত্রী যাচ্ছে এক হাজার ৮০০ থেকে দুই হাজার। প্রতিটি কোচে গেট রয়েছে চারটি, কিন্তু যাত্রী উঠছে দুটি গেট দিয়ে। মানুষ এখনও অভ্যস্ত হয়ে ওঠেনি। এতে প্রতি কোচে ২০০ জনের বেশি যাত্রী বহনের জায়গা খালি যাচ্ছে।
মেট্রোরেল সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রতিদিন গড়ে প্রায় আড়াই লাখ যাত্রী মেট্রোতে চলাচল করেন। সকালে পিক আওয়ারে প্রতিটি ট্রেনে উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত যাতায়াত করেন ১৮০০ থেকে ২০০০ যাত্রী। ফলে মিরপুর-ফার্মগেট-মতিঝিল রুটে যানজট অনেকটা কমে এসেছে। তবে যাত্রীদের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় মেট্রোরেলের সময় কমানোর পরিকল্পনা নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এদিকে, মেট্রোরেলের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় চালক ও জনবল এখনও তৈরি না হওয়ায় সব ট্রেন ঢাকায় আনা হলেও তা চালানো সম্ভব হচ্ছে না। কারণ চালকদের অনেকে প্রশিক্ষণে আছেন। বর্তমানে ২৪টি ট্রেন রেডি থাকলেও এর মধ্যে মাত্র ৭ থেকে ৮টি ট্রেন চলাচল করছে। বাকিগুলো ডিপোতে রয়েছে। তাই ট্রেনে বগি বাড়ানো এবং ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়টি সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। তাই আপাতত বিরতির সময় কমানো চিন্তা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ২৮ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মেট্রোরেলের উদ্বোধন করেন। প্রথম ধাপে সপ্তাহে ছয় দিন সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত উত্তরা উত্তর থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত মেট্রোরেল চালু করা হয়। দ্বিতীয় ধাপে গত ৪ নভেম্বর আগারগাঁও থেকে মতিঝিল অংশের উদ্বোধন করেন তিনি। ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর পুরোদমে চালু হয় মেট্রোরেল। এদিন চলাচলের সময়সূচি অপরিবর্তিত রেখে উত্তরা উত্তর থেকে মতিঝিল পর্যন্ত সবক’টি স্টেশনে মেট্রো ট্রেন থামতে শুরু করে। উত্তরা উত্তর থেকে মতিঝিল পর্যন্ত মোট ১৬টি স্টেশন রয়েছে। তৃতীয় ধাপে গত ২০ জানুয়ারি থেকে উত্তরা উত্তর থেকে মতিঝিল পর্যন্ত সকাল ৭টা ১০ মিনিট থেকে রাত ৮টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে। শুক্রবার ছাড়া প্রতিদিন এ সময়সূচি অনুযায়ী ট্রেন চলাচল অব্যাহত রয়েছে।