নিজস্ব প্রতিনিধি : কালীগঞ্জের আড়িখোলা রেলওয়ে স্টেশনে আন্তঃনগর দুই ট্রেনের যাত্রাবিরতির জন্য এবার রেলপথ মন্ত্রীর কাছে ডিও লেটার বা আধা সরকারি সুপারিশপত্র পাঠিয়েছেন গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আখতারউজ্জামান।
মঙ্গলবার (২১ মে) রেলপথ মন্ত্রীর কাছে পাঠানো ডিও লেটার থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
এর আগে আন্তঃনগর দুই ট্রেনের যাত্রাবিরতির দাবিতে গত ১৪ মে আড়িখোলা রেলওয়ে স্টেশনের সাধারণ যাত্রীরা রেলওয়ের মহাপরিচালকের (পূর্বাঞ্চল) কাছে একটি পত্র পাঠিয়েছেন। এরপর গত ১৭ মে (শুক্রবার) এই একই দাবিতে আড়িখোলা রেলওয়ে স্টেশনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করছেন স্থানীয়রা।
বীর মুক্তিযোদ্ধা আখতারউজ্জামান এমপি জাতীয় সংসদের প্যাডে রেলপথ মন্ত্রীকে পাঠানো ডিও লেটারে উল্লেখ করেছেন, মাননীয় মন্ত্রী সালাম ও শুভেচ্ছা গ্রহণ করবেন। আমি বীর মুক্তিযোদ্ধা আখতারউজ্জামান এমপি। আমার নির্বাচনী এলাকা ১৯৮ গাজীপুর-৫। আপনার সদয় অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জানাচ্ছি যে, রাজধানী ঢাকার অতি নিকটবর্তী উপজেলা হওয়া সত্ত্বেও গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ উপজেলা এখনো যোগাযোগ ব্যবস্থার পশ্চাৎপদ হয়ে আছে। বর্তমানে সড়কপথে ঢাকায় যাওয়ার জন্য সরাসরি কোনো গণপরিবহন না থাকার কারণে এই এলাকার মানুষ দীর্ঘ ভোগান্তি ও ট্রাফিক জ্যাম অতিক্রম করে, অনেক সময় বার করে ঢাকার যাতায়াত করছে। রাজধানী ঢাকার সাথে দ্রুত যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে এই এলাকার চাকরিজীবী ও সাধারণ জনগণকে ট্রেনের উপর নির্ভর করতে হয়।
সেক্ষেত্রে ‘তিতাস কমিউটার ট্রেন ব্যতীত অন্য কোনো ট্রেনের যাত্রাবিরতি কালীগঞ্জ উপজেলার আড়িখোলা স্টেশনে নেই। যেখানে, প্রতিদিন প্রায় ৩৫টি’র মতো আন্তনগর ট্রেন আড়িখোলা রেলওয়ে স্টেশন হয়ে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে আসা যাওয়া করে।
উল্লেখ্য যে, আড়িখোলা রেল স্টেশন হতে প্রতিদিন প্রায় এক হাজার যাত্রী উঠানামা করে। যদি আন্তঃনগর এগারো সিন্ধুর’ ও ‘চট্টলা এক্সপ্রেস’ ট্রেন দুইটি আড়িখোলা রেল স্টেশনে যাত্রাবিরতি প্রদান করে তাহলে, এলাকার মানুষের যেমন উপকার হবে তেমনি সরকারও আর্থিক ভাবে লাভবান হবে।
এ অবস্থায় উপজেলার সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে যাত্রীদের কষ্ট লাঘব এবং জনগণের অর্থনৈতিক, কর্মকান্ড গতিশীল করতে ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করার লক্ষ্যে গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার আড়িখোলা রেল স্টেশনে আন্তঃনগর এগারো সিন্ধুর এক্সপ্রেস ট্রেন আপ (৭৪৯) এবং ডাউন (৭৩৮) ও ‘চট্টলা এক্সপ্রেস’ আপ (৮০১) এবং ডাউন (৮০২) যাত্রা বিরতি প্রদানের জোর সুপারিশ করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আখতারউজ্জামান এমপি।
রেলপথ মন্ত্রীর কাছে পাঠানো ডিও লেটারের সঙ্গে সংযুক্ত করে দেয়া হয়েছে, কালীগঞ্জের আড়িখোলা স্টেশনে ট্রেনের যাত্রা বিরতি প্রসঙ্গে জনসাধারণের আবেদনপত্রের কপি, বাংলাদেশ রেলওয়ে মহাপরিচালকের (পূর্বাঞ্চল) কাছে দেওয়া স্মারকলিপির অনুলিপি এবং ট্রেনের যাত্রা বিরতির দাবিতে জনগণের দাবি ও মানববন্ধন সংক্রান্ত প্রকাশিত সংবাদের একাধিক পত্রিকার কপি।
আড়িখোলা রেলওয়ে স্টেশনের মাস্টার দিলীপ চন্দ্র দাস বলেন, রাজধানীর নিকটবর্তী উপজেলা হওয়া সত্ত্বেও কালীগঞ্জ থেকে ঢাকা যাওয়া এবং আসার জন্য আড়িখোলা রেলওয়ে স্টেশনে আন্তঃনগর কোন ট্রেনের যাত্রাবিরতি নেই। যদিও রেলওয়ের ডাবল লাইনের এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৩৫টির মতো আন্তঃনগর ট্রেন আড়িখোলা রেলওয়ে স্টেশন হয়ে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে আসা-যাওয়া করে। এরমধ্যে মাত্র একটি কমিউটার ও দুইটি মেইল এবং একটি লোকাল ট্রেন ঢাকা যাওয়ার পথে এবং ফেরার পথে একটি কমিউটার এবং দুইটি লোকাল ট্রেনের যাত্রাবিরতি রয়েছে আড়িখোলা স্টেশনে। এসব ট্রেনে করে প্রতিদিন গড়ে ১৫শ থেকে ২ হাজার যাত্রী গাদাগাদি করে যাতায়েত করে থাকেন। যদিও তাদের মধ্যে প্রায় বেশিরভাগ যাত্রীই টিকেট ছাড়া ট্রেনে চলাচল করে থাকেন। দৈনিক গড়ে ৫০-৮০ জন যাত্রী টিকেট নিয়ে ট্রেন ভ্রমন করেন। এতে গড়ে মাসিক ৩০-৪০ হাজার টাকা আয় হয়। এছাড়াও স্বল্প খরচে পণ্য পরিবহনের জন্য রেলওয়ের লাগেজ ভ্যানের জন্য বুকিং পদ্ধতি চালু থাকলেও আড়িখোলা রেলওয়ে স্টেশন থেকে এ সেবা নেয়া হয়না বললেই চলে। স্টেশন পরিচালনার জন্য পালাক্রমে তিনজন স্টেশন মাস্টার দায়িত্ব পালন করে থাকেন।
বর্তমানে আড়িখোলা রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রাবিরতি দেয়া ট্রেনের সূচি:
আড়িখোলা >ঢাকা
চট্টগ্রাম মেইল সকাল ৫টা ৩১ মিনিট, তিতাস কমিউটার ৭টা ১৬মিনিট, সুরমা মেইল ৮টা ০৭ মিনিট, কর্ণফুলী এক্সপ্রেস বিকেল ৫টা ১৭মিনিটে আড়িখোলা রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রাবিরতি দেয়া।
ঢাকা>আড়িখোলা
কর্ণফুলী এক্সপ্রেস সকাল ৯টা ৫৫মিনিট, তিতাস কমিউটার সন্ধ্যা ৬ টা ৫০মিনিট এবং নোয়াখালী এক্সপ্রেস রাত ৮টা ১৮মিনিটে আড়িখোলা রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রাবিরতি দেয়া।
যাত্রাবিরতির দাবি জানানো ট্রেনের বর্তমান সূচি:
ক, এগারো সিন্ধুর :
কিশোরগঞ্জ>ঢাকা
কিশোরগঞ্জ থেকে ঢাকা পর্যন্ত চলাচলকারী আন্তঃনগর ট্রেন হলো এগারো সিন্ধুর প্রভাতী (৭৩৮)। সাপ্তাহের প্রতিদিন কিশোরগঞ্জ থেকে সকাল ৬টা ৩০ মিনিটে ছেড়ে পথে গচিহাটা, মানিকখালী, সরারচর, বাজিতপুর, কুলিয়ারচর, ভৈরব বাজার জংশন, মেথিকান্দা, নরসিংদী, ঢাকা বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রাবিরতি দিয়ে ১০টা ৪৫ মিনিটে কমলাপুর পৌঁছায়।
ঢাকা>কিশোরগঞ্জ
ঢাকা থেকে কিশোরগঞ্জ পর্যন্ত চলাচলকারী আন্তঃনগর ট্রেন হলো এগারো সিন্ধুর গোধূলী (৭৪৯)। কমলাপুর থেকে সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে ছেড়ে পথে ঢাকা বিমানবন্দর, নরসিংদী, মেথীকান্দা, ভৈরব বাজার জংশন, কুলিয়ারচর, বাজিতপুর, সরারচর. মানিকখালী. গচিহাটা রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রাবিরতি দিয়ে রাত ১০টা ৪৫ মিনিটে কিশোরগঞ্জ পৌঁছায়।
খ, চট্টলা এক্সপ্রেস :
চট্টলা এক্সপ্রেস একটি খ শ্রেণীর আন্তঃনগর ট্রেন। এটি চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন থেকে ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন পর্যন্ত চলাচল করে। সাপ্তাহের শুক্রবার বন্ধ থাকে। যাত্রাপথে ট্রেনটি ফেনী, কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জ ও নরসিংদী জেলাকে সংযুক্ত করেছে।
চট্টগ্রাম>ঢাকা
চট্টলা এক্সপ্রেস (৮০১) সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে চট্টগ্রাম থেকে যাত্রা শুরু করে কুমিরা, ফেনী জংশন, হাসানপুর, নাঙ্গলকোট, লাকসাম জংশন, কুমিল্লা, শশীদল, কসবা, আখাউড়া জংশন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ভৈরব বাজার জংশন, মেথিকান্দা, নরসিংদী, ঢাকা বিমানবন্দর.যাত্রাবিরতি দিয়ে কমলাপুর বেলা ৩টা ৫০ মিনিটে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন পৌঁছায়।
ঢাকা>চট্টগ্রাম
চট্টলা এক্সপ্রেস (৮০২) কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটে যাত্রা শুরু করে ঢাকা বিমানবন্দর, নরসিংদী, মেথিকান্দা, ভৈরব বাজার জংশন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, আখাউড়া জংশন, কসবা, শশীদল, কুমিল্লা, লাকসাম জংশন, নাঙ্গলকোট, হাসানপুর, ফেনী জংশন, কুমিরা যাত্রাবিরতি দিয়ে রাত ৮টা ৩০ মিনিটে চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন পৌঁছায়।
আরো জানতে…….
আড়িখোলা আন্তঃনগর দুই ট্রেনের যাত্রাবিরতির দাবিতে মানববন্ধন
কালীগঞ্জে আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতির দাবি, জরুরি ব্যবস্থা নিতে এমপি’র সুপারিশ
শত বছরেরও বেশি সময় যাবৎ বিরামহীন সেবা দিয়ে যাচ্ছে আড়িখোলা রেলস্টেশন