গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রশংসা করেছেন সজীব ওয়াজেদ জয়। সম্প্রতি জাতির উদ্দেশে দেওয়া খালেদা জিয়ার বক্তব্যে আশা খুঁজে পাচ্ছেন তিনি। এছাড়াও বিএনপির সঙ্গে কাজ করার প্রত্যয় জানিয়ে জয় বলেন, ‘বাংলাদেশে একটি গণতান্ত্রিক নির্বাচন আয়োজন ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে আমরা বিএনপির সঙ্গে কাজ করতে চাই।
খালেদা জিয়া তার বক্তব্যে সব ধরনের শত্রুতা বা প্রতিশোধপরায়ণতা ভুলে যাওয়ার যে আহ্বান জানিয়েছেন, সেটির প্রশংসা করছেন শেখ হাসিনার পুত্র।
জয় বলেন, ‘খালেদা জিয়া তার বক্তব্যে বলেছেন, যা হওয়ার হয়ে গেছে, সেগুলো মনে রাখার প্রয়োজন নেই। তার এমন বক্তব্যে আমি খুশি। আমরা অতীত ভুলে যাই। আমরা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ না করি। আমাদের সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে, সেটি ঐকমত্যের সরকার হোক বা না হোক।’
রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন সজীব ওয়াজেদ জয়।
শুক্রবার দিবাগত রাত ২টার দিকে জয়ের সাক্ষাৎকারভিত্তিক প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে রয়টার্স। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন থেকে তিনি রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলেন।
এ সময় গণতান্ত্রিক লড়াইয়ের জন্য বিএনপির সঙ্গে কাজ করার প্রত্যয় জানিয়ে জয় বলেন, ‘বাংলাদেশে একটি গণতান্ত্রিক নির্বাচন আয়োজন ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে আমরা বিএনপির সঙ্গে কাজ করতে চাই। আমরা তাদের সঙ্গে কাজ করতে চাই এটি নিশ্চিত করার জন্য যে বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক পরিবেশ থাকবে, যেখানে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হবে।’
তিনি বলেন, ‘রাজনীতি ও আলোচনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলে আমি মনে করি। আমরা নানা ইস্যুতে তর্ক করতে পারি। আমরা কোনো বিষয়ে একমত নাও হতে পারি। তবে ভিন্নমত পোষণের অধিকারের প্রতি আমাদের একমত থাকতে হবে। আর আমরা সবসময়ই আপস করার উপায়ও খুঁজে বের করতে পারি।’
এছাড়াও শিক্ষার্থী-জনতার আন্দোলনের মুখে দেশ ছাড়তে বাধ্য হওয়া শেখ হাসিনা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেননি বলে রয়টার্সের কাছে দাবি করেছেন তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়। নতুন অন্তবর্তী সরকারকে আদালতে চ্যালেঞ্জ জানানোর ইঙ্গিতও দিয়েছেন তিনি।
রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জয় বলেন, “আমার মা অফিসিয়াালি পদত্যাগ করেননি। সেই সময় তার হাতে ছিল না।”
“তার পরিকল্পনা ছিল যে একটি বিবৃতি দেওয়ার পর পদত্যাগপত্র জমা দেবেন। কিন্ত আন্দোলনকারীরা তখন প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন লক্ষ্য করে পদযাত্রা শুরু করে দিয়েছে এবং সে সময় তার হাতে সময় একদমই ছিল না। এমনকি আসার আগে গোছানোর সময়ও তার কাছে ছিল না। তাই সাংবিধানিকভাবে, এখনও তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।”
গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পরের দিন আন্দোলনকারীদের দাবি মেনে সংসদ বিলোপ ঘোষণা করেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জয় ইঙ্গিত দেন— এই সিদ্ধান্তকে আদালতে চ্যালেঞ্জ জানাবে আওয়ামী লীগ।
তিনি বলেন, “সেনাপ্রধান এবং বিরোধী রাজনীতিবিদদের পরামর্শে রাষ্ট্রপতি সংসদ ভেঙে দিয়েছেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী নিজের পদে থাকা সত্ত্বেও যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হয়েছে, তা নিয়ে আমরা আদালতে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারি।
শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর বাংলাদেশের নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত হয়েছে নতুন অন্তবর্তী সরকার। বৃহস্পতিবার সেই সরকারের উপদেষ্টারা শপথও গ্রহণ করেছেন। জয় জানান, সরকার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করলে আওয়ামী লীগ সেই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।
“আমার বিশ্বাস, আওয়ামী লীগ ফের ক্ষমতায় আসবে। যদি না আসে, সেক্ষেত্রে আমরা বিরোধী দল হবো। কোনো সমস্যা নেই,” বলেন জয়।