গাজীপুর কণ্ঠ, আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাতার সরকার থেকে ৪০০ মিলিয়ন ডলারের একটি বিমান উপহার হিসেবে গ্রহণের পরিকল্পনা দেশটির সংবিধান ও আইনি কাঠামোতে নানা প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই উপহার গ্রহণ বিদেশি সরকারের প্রভাব প্রতিরোধে সংবিধানে বর্ণিত বিধিনিষেধের আওতায় পড়তে পারে।
সংবিধানে কী বলা আছে?
যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে দুটি পৃথক ধারা রয়েছে যেগুলো সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশি ও অভ্যন্তরীণ উপহার গ্রহণের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।
বিদেশি উপহার সংক্রান্ত ধারা অনুযায়ী, কোনও “রাজা, রাজপুত্র বা বিদেশি রাষ্ট্র” থেকে নির্বাচিত কোনও মার্কিন কর্মকর্তা উপহার গ্রহণ করলে কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন।
অভ্যন্তরীণ উপহার সংক্রান্ত ধারা অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট শুধুমাত্র বেতনের বাইরে আর কোনও উপহার গ্রহণ করতে পারবেন না।
উল্লেখ্য, কংগ্রেস অতীতে নির্দিষ্ট অনুমোদনের ভিত্তিতে বিদেশি উপহার গ্রহণ করেছে—যেমন ১৮৭৭ সালে ফ্রান্সের কাছ থেকে স্ট্যাচু অফ লিবার্টি গ্রহণ।
২০০৯ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার সময় প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার ক্ষেত্রেও এই আইন প্রযোজ্য হয়নি, কারণ নরওয়ের নোবেল কমিটি কোনও “রাজা বা বিদেশি রাষ্ট্র” নয় বলে বিচার বিভাগ ব্যাখ্যা দেয়। ওবামা পুরস্কারের অর্থ দান করেছিলেন।
আইন প্রয়োগ করবে কে?
এই প্রশ্নের সুস্পষ্ট উত্তর নেই। কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিসের রিপোর্ট অনুযায়ী, এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট এখনও কোনও রায় দেয়নি।
তবে কেউ এই আইন ভঙ্গ হয়েছে দাবি করলে মামলা করতে পারে—যেমন কংগ্রেস সদস্য, অঙ্গরাজ্য বা এমনকি কোনও ক্ষতিগ্রস্ত বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। তবে এক্ষেত্রে “লিগ্যাল স্ট্যান্ডিং” একটি বড় বাধা; মানে মামলাকারীর অবশ্যই প্রমাণ করতে হবে যে তিনি এই বিষয়ে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
আদালতের পূর্ববর্তী সিদ্ধান্তগুলো কী বলছে?
ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে এই বিষয়ে উল্লেখযোগ্য কিছু মামলা হয়।
২০১৭ সালে ডেমোক্রেটিক কংগ্রেস সদস্যরা ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মামলা করেন, কারণ তার হোটেল ও ব্যবসায় বিদেশি সরকার অর্থ ব্যয় করছিল। তবে মামলাটি বাতিল হয় কারণ মামলাকারীরা কংগ্রেসের সংখ্যাগরিষ্ঠ ছিলেন না।
মেরিল্যান্ড ও ডি.সি.-এর অ্যাটর্নি জেনারেলরাও মামলা করেন, কিন্তু সেটিও বাতিল হয় একই কারণে।
নিউ ইয়র্ক ও ওয়াশিংটনের কিছু রেস্তোরাঁ ও হোটেল ‘প্রতিযোগিতামূলক ক্ষতি’র অভিযোগে মামলা করলেও, ট্রাম্পের মেয়াদ শেষে সেটিও নিষ্পত্তি হয়।
বিদেশি উপহার নিয়ে অন্যান্য আইন
Foreign Gifts and Decorations Act অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ৪৮০ ডলারের কম মূল্যের উপহার রাখতে পারেন। এর বেশি মূল্যের উপহার রাষ্ট্রীয় মালিকানায় থাকে, তবে প্রেসিডেন্ট বাজারমূল্য অনুযায়ী অর্থ পরিশোধ করলে তা ব্যক্তিগতভাবে রাখতে পারেন।
ট্রাম্প কাতার থেকে বিমান উপহার গ্রহণ করলে তা সংবিধান ও প্রচলিত আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। বিষয়টি শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক ও বিচারিক পরিমণ্ডলে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার জন্ম দিতে পারে।
সূত্র : রয়টার্স