ইরানের পরমাণু স্থাপনা ও ক্ষেপণাস্ত্র কারখানায় ইসরায়েলের হামলা: নিহত বিপ্লবী গার্ডের প্রধান ও দুই পরমাণু বিজ্ঞানী

ইরানের পরমাণু স্থাপনা ও ক্ষেপণাস্ত্র কারখানায় ইসরায়েলের হামলা: নিহত বিপ্লবী গার্ডের প্রধান ও দুই পরমাণু বিজ্ঞানী

গাজীপুর কণ্ঠ, আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইসরায়েলের ‘অপারেশন রাইজিং লায়ন’ নামে চালানো আকস্মিক সামরিক অভিযানে ইরানের একাধিক পরমাণু স্থাপনা ও ক্ষেপণাস্ত্র কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এ হামলায় নিহত হয়েছেন ইরানের বিপ্লবী গার্ডস বাহিনীর প্রধান হোসেইন সালামি, এবং দুই শীর্ষ পরমাণু বিজ্ঞানী—ফেরেইদুন আব্বাসি ও মোহাম্মদ মেহদি তেহরাঞ্চি।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাতে জানা যায়, রাজধানী তেহরানের একটি আবাসিক এলাকায় চালানো এক হামলায় শিশু সহ কয়েকজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। হামলায় বিপ্লবী গার্ডসের সদর দফতরও লক্ষ্যবস্তু হয়।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দাবি, তারা ইরানের অন্তত ডজন খানেক পারমাণবিক ও সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে কেন্দ্রীয় নাতানজ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র।

ইসরায়েলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই হামলা একটি দীর্ঘমেয়াদী অভিযানের সূচনা মাত্র। প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এক ভিডিও বার্তায় বলেন, “ইসরায়েলের অস্তিত্ব রক্ষার এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে আমরা আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছি।”

এদিকে হামলায় শীর্ষ বিজ্ঞানীদের মৃত্যুর ঘটনায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেই এক বিবৃতিতে ইসরায়েলকে ‘নিষ্ঠুর ও রক্তপিপাসু’ আখ্যায়িত করে বলেন, “ইসরায়েল এর ভয়াবহ মূল্য চুকাতে বাধ্য হবে।”

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী সম্ভাব্য পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার আশঙ্কায় সর্বোচ্চ সতর্কতায় রয়েছে। বেন গুরিয়ন বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং সেনাবাহিনীতে জরুরি মোতায়েন করা হয়েছে কয়েক হাজার সৈন্য।

এ হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।