ইরানে ইসরায়েলি হামলার আশঙ্কা, তবে সংঘাত এড়াতে চান ট্রাম্প

ইরানে ইসরায়েলি হামলার আশঙ্কা, তবে সংঘাত এড়াতে চান ট্রাম্প

রয়টার্স : যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের ওপর ইসরায়েলের হামলা ‘হতে পারে’, তবে সেটিকে তিনি অবশ্যম্ভাবী হিসেবে দেখছেন না এবং তিনি তেহরানের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সমাধানেই আগ্রহী।

বৃহস্পতিবার (১২ জুন) এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, “আমি এটিকে আসন্ন বলতে চাই না, কিন্তু এটা খুব সম্ভব যে এমন কিছু হতে পারে।” তিনি আরও বলেন, “আমি সংঘাত এড়াতে চাই। তবে ইরানকে আরও কঠোরভাবে আলোচনায় আসতে হবে এবং এমন কিছু দিতে হবে, যা তারা এখন পর্যন্ত দিতে প্রস্তুত নয়।”

এর আগে জাতিসংঘের পরমাণু পর্যবেক্ষক সংস্থা IAEA ইরানকে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ চুক্তি লঙ্ঘনের দায়ে অভিযুক্ত করে। এর প্রতিক্রিয়ায় তেহরান পাল্টা পদক্ষেপের ঘোষণা দেয়। পাশাপাশি এক ইরানি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, একটি ‘মিত্র’ দেশ সম্ভাব্য ইসরায়েলি হামলার বিষয়ে তাদের সতর্ক করেছে।

আগামী রোববার ওমানে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ইস্যুতে ষষ্ঠ দফা আলোচনা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তারা অংশ নেবেন।

এদিকে, বুধবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সেনা ও কূটনৈতিক কর্মীদের কিছু অংশ ওই অঞ্চল থেকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে, কারণ “এটি একটি বিপজ্জনক স্থান হয়ে উঠতে পারে।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দেওয়া হবে না।

যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের মতে, ইসরায়েল ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলিতে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে, যদিও এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। ট্রাম্প নিজেও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে সামরিক হামলা থেকে বিরত থাকতে বলেছিলেন, যতক্ষণ না তেহরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা চলছে।

ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, আলোচনায় অগ্রগতি না হলে তিনি ইরানকে বোমা হামলার হুমকিও দিতে পারেন। তিনি স্বীকার করেছেন, ইরান বর্তমানে যে অবস্থানে আছে, তাতে একটি সমঝোতা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদী নন।

এই পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে, যেখানে ইতোমধ্যেই গাজা যুদ্ধের প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছে।

এদিকে, তেহরান জানিয়েছে, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলি যদি ধ্বংসও করা হয়, তাহলে সেগুলো আবার গড়ে তোলা হবে। বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে ইরানি প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান এ মন্তব্য করেন।

প্রায় ২০ বছর পর IAEA প্রথমবারের মতো ইরানকে তাদের পরমাণু কার্যক্রম নিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে পাঠানোর সম্ভাবনার কথাও জানায়। সংস্থাটির এক কর্মকর্তা বলেন, এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান তৃতীয় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র চালুর ঘোষণা দিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা উদ্বেগ ও কর্মী প্রত্যাহার, এবং সম্ভাব্য ইসরায়েলি হামলার আভাস—সবকিছু মিলিয়ে এটি তেহরানকে চাপের মধ্যে ফেলার একটি কৌশল হতে পারে, যাতে তারা আলোচনায় আরও নমনীয় হয়।