খামেনির তিন উত্তরসূরি নির্ধারণ

খামেনির তিন উত্তরসূরি নির্ধারণ

গাজীপুর কণ্ঠ, আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় বাঙ্কারে আশ্রয় নিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি।

নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য হত্যাকাণ্ডের আশঙ্কা থেকে তিনি তিনজন উত্তরসূরির নাম ইতোমধ্যেই নির্ধারণ করেছেন এবং ইরানের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের মৃত্যুর ক্ষেত্রেও বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন।

খবরে বলা হয়, ৮৬ বছর বয়সী খামেনি এই মুহূর্তে সব ধরনের ইলেকট্রনিক যোগাযোগ বন্ধ রেখেছেন এবং কেবল একজন বিশ্বস্ত সহকারীর মাধ্যমে সেনা কমান্ডারদের সঙ্গে কথা বলছেন। এমন পরিস্থিতিতে তিনি ইরানের “অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস”-কে দ্রুত নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন, যেন ক্ষমতা হস্তান্তর বিলম্ব না হয় এবং তার নীতিগত ধারা অব্যাহত থাকে।

মোজতাবা খামেনি নেই উত্তরসূরির তালিকায়

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, যদিও খামেনির পুত্র মোজতাবা খামেনিকে বহু দিন ধরেই উত্তরসূরি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছিল, তবে তিনি তিনজন সম্ভাব্য নেতার তালিকায় নেই। খামেনির এই সিদ্ধান্ত দেশটির ধর্মীয় ও রাজনৈতিক কাঠামোয় দ্রুত ও স্থিতিশীল পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ইসরায়েলি হামলায় নিহত হচ্ছেন শীর্ষ কর্মকর্তারা

ইসরায়েল ইতোমধ্যে একাধিক ইরানি সামরিক কর্মকর্তাকে হত্যা করেছে বলে জানা গেছে। পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলের এসব হামলা ছিল লক্ষ্যভিত্তিক, যাতে ইরানের প্রতিরক্ষা কাঠামো দুর্বল হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের নজর ও হুঁশিয়ারি

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক সামাজিক মাধ্যমে পোস্টে বলেছেন, “আমরা জানি খামেনি কোথায় আছেন। তিনি সহজ টার্গেট, তবে আপাতত তাকে হত্যা করা হচ্ছে না। কিন্তু আমাদের সহনশীলতা সীমিত। আমরা বেসামরিক নাগরিক বা মার্কিন সেনার ওপর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চাই না।”

তিনি আরও জানান, ইরান যদি পরমাণু কার্যক্রম নিয়ে আলোচনায় না আসে, তাহলে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।

পারমাণবিক হামলার প্রস্তুতি?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেবল যুক্তরাষ্ট্রেরই এমন ‘বাংকার বাস্টার’ বোমা রয়েছে যা ইরানের ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ধ্বংস করতে সক্ষম। ফোরদোসহ ইরানের গভীরস্থ নিউক্লিয়ার সাইটগুলো ধ্বংসে এই অস্ত্র ব্যবহার হতে পারে।

খামেনির এই অগ্রিম উত্তরসূরি নির্ধারণ এবং বাঙ্কারে আশ্রয় গ্রহণের ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সঙ্কটকে আরও গভীর করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি যুক্ত হলে এটি একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের রূপ নিতে পারে, যার প্রভাব ছড়িয়ে পড়বে পুরো অঞ্চলজুড়ে।