গাজীপুর কণ্ঠ, আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের ২০২৪-২৫ সালের কার্যকাল শেষ হয়েছে কম সংখ্যক সর্বসম্মত রায় এবং বাড়তি মতবিরোধের মধ্য দিয়ে। বিচারপতিরা প্রায়ই সমালোচনার জবাবে সর্বসম্মত রায়ের কথা উল্লেখ করেন, কিন্তু চলতি মেয়াদে সেই ঐক্য সহজে ধরা দেয়নি।
Empirical SCOTUS ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা এবং সুপ্রিম কোর্ট বিশ্লেষক অ্যাডাম ফেল্ডম্যানের তথ্য অনুযায়ী, এবারের মেয়াদে মাত্র ৪২% মামলায় সর্বসম্মত রায় হয়েছে — যা দুই বছর আগের ৫০% এর চেয়ে কম এবং গত দুই দশকের গড় হার থেকেও নিচে।
এদিকে, ৬-৩ বিভক্ত রায় যেখানে ছয়জন রিপাবলিকান নিযুক্ত বিচারপতি একমত হন — এমন রায়ের হারও কমে মাত্র ৯%-এ নেমেছে। এটি ইঙ্গিত দেয়, অনেক বিভক্ত রায় আদর্শিক সীমারেখা অনুযায়ী বিভক্ত হয়নি, যেমনটা প্রায়ই সমালোচকরা দাবি করেন।
রায়ে সর্বাধিক একমত প্রধান বিচারপতি
প্রধান বিচারপতি জন জি. রবার্টস জুনিয়র এবার সবচেয়ে বেশি সংখ্যকবার সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের সঙ্গে ছিলেন — ৬৫টির মধ্যে ৬২টি রায়ে, অর্থাৎ ৯৫% সময়। তারপরেই আছেন বিচারপতি ব্রেট এম. কাভানফ, যিনি ৯২% রায়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের সঙ্গে ছিলেন।
অন্যদিকে, বিচারপ কেতানজি ব্রাউন জ্যাকসন ছিলেন সবচেয়ে কম সংখ্যকবার সংখ্যাগরিষ্ঠের পক্ষে — ৭২%।
বিভক্ত রায়গুলো আলাদাভাবে দেখলে, তার সংখ্যাগরিষ্ঠে থাকার হার মাত্র ৫৩%, যা তাকে আদালতের অন্যতম মুখর লিবারেল ভিন্নমতদাত্রী হিসেবে চিহ্নিত করছে।
বিতর্কিত রায় ও তীব্র মতপার্থক্য
একটি ৬-৩ বিভক্ত রায়ে আদালত সিদ্ধান্ত দেয়, নিম্ন আদালতগুলো সাধারণত পক্ষগুলোর বাইরের জন্য সার্বজনীন নিষেধাজ্ঞা (Universal Injunction) জারি করতে পারে না। বিচারপ জ্যাকসন এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে বলেন, এতে করে প্রেসিডেন্ট বিচারিক নজরদারি এড়ানোর সুযোগ পাচ্ছেন — যা “সংবিধানের মূল চেতনার পরিপন্থী”।
বিচারপ অ্যামি কনি ব্যারেট, যিনি সংখ্যাগরিষ্ঠ মত লিখেছেন, জ্যাকসনের যুক্তিকে “অতি কারিগরি প্রশ্নে অতিরিক্ত আবেগ” বলে উড়িয়ে দেন। তার ভাষায়, “বিচারিক ক্ষমতা নিয়ে এমন দৃষ্টিভঙ্গি, যা বিচারিক সর্বোচ্চ আধিপত্যের পক্ষেও অস্বস্তিকর।”
বাকি পাঁচজন রিপাবলিকান মনোনীত বিচারপতি ব্যারেটের রায়ে স্বাক্ষর করে জ্যাকসনের অবস্থানের কঠোর বিরোধিতা করেন। আইনি সংগঠন Article III Foundation-এর সিনিয়র কাউন্সিল উইল চেম্বারলিন বলেন, “আমি এর আগে এত তীব্র ও পারস্পরিক আক্রমণাত্মক মতপার্থক্য দেখিনি। আদালতের ভেতরে সহমর্মিতা এখন তলানিতে।”
‘সম্মানসহ’ নয়, শুধু ‘আমি ভিন্নমত পোষণ করি’
বিচারপ সোনিয়া সোটোমেয়র এবারও প্রচলিত রীতি ভেঙে নিজের ভিন্নমত পত্রে “সম্মানের সাথে” না লিখে শুধুই “I dissent” লিখেছেন। তিনি এই ভাষা ব্যবহার করেছেন ৬টি মূল ভিন্নমত পত্রের মধ্যে ৩টিতে, যার মধ্যে ছিল ট্রান্সজেন্ডার চিকিৎসা, এলজিবিটি শিক্ষা এবং সার্বজনীন নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কিত রায়।
অভিমত লেখায় শীর্ষে থমাস, কম লিখেছেন প্রধান বিচারপতি
বিচারপ ক্লারেন্স থমাস ছিলেন সর্বাধিক রায় লেখক — মোট ২৯টি, যার মধ্যে ৭টি সংখ্যাগরিষ্ঠ, ১৩টি সমর্থনমূলক (concurrence) এবং ৯টি ভিন্নমতপত্র।
বিচারপ জ্যাকসন লিখেছেন ২৪টি, যা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।
প্রধান বিচারপতি রবার্টস লিখেছেন মাত্র ৬টি, সবগুলো সংখ্যাগরিষ্ঠের পক্ষ থেকে। তার কোনো ভিন্নমত বা সমর্থনপত্র ছিল না।
সংখ্যাগরিষ্ঠে থাকার হার
বিচারপ ব্যারেট: ৬৫টির মধ্যে ৫৮টিতে সংখ্যাগরিষ্ঠ
বিচারপ সোটোমেয়র: ৫১টি
বিচারপ এলেনা কাগান: ৫৪টি — যা অন্য দুই ডেমোক্র্যাট মনোনীত বিচারপতির চেয়ে বেশি
বিচারপ থমাস, আলিটো ও গোরসাচ: প্রত্যেকে ৬৪টি মামলার মধ্যে ৫০টিতে সংখ্যাগরিষ্ঠের অংশ ছিলেন (যদিও সবসময় একসাথে নয়) এই প্রবণতা ইঙ্গিত দেয় যে, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের মধ্যে আদর্শিক বিভাজন যেমন স্পষ্ট, তেমনি ব্যক্তিগত ও পেশাদার সম্পর্কেও দূরত্ব বাড়ছে — যা যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালতের ঐতিহ্যবাহী “collegiality” ধারণার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।