ইরান যুদ্ধের দুই মাস: প্রায় সবাই ক্ষতিগ্রস্ত, বিজয়ী বলতে কেউ নেই

ওয়াশিংটন থেকে তেহরান, বৈরুত থেকে বেইজিং — সংঘাতের আঁচ লেগেছে বিশ্বজুড়ে

ইরান যুদ্ধের দুই মাস: প্রায় সবাই ক্ষতিগ্রস্ত, বিজয়ী বলতে কেউ নেই

সিএনএন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন, তখন তিনি দ্রুত ও নিষ্পত্তিমূলক জয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। যুদ্ধ শুরুর মাত্র দশ দিনের মাথায় তিনি দাবি করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র “অনেক দিক থেকে ইতিমধ্যেই যুদ্ধে জিতে গেছে।”

দুই মাস পেরিয়ে গেছে। লড়াই এখন স্থগিত, তবে যুদ্ধের কোনো নিষ্পত্তিমূলক পরিণতি নেই। ওয়াশিংটন কৌশলগতভাবে তেমন কিছু অর্জন করতে পারেনি। ‘সীমিত সংঘাত’ হিসেবে যে যুদ্ধ শুরু হয়েছিল, তা এখন বিশ্বের বড় একটা অংশকে ক্রমেই গভীর সংকটে টেনে নামাচ্ছে।

ব্রুকিংস ইনস্টিটিউটের সিনিয়র ফেলো মেলানি সিসন সিএনএনকে বলেন, “এই যুদ্ধে কোনো প্রকৃত বিজয়ী নেই, তবে কিছু দেশ তুলনামূলকভাবে ভালো অবস্থানে থেকে এর প্রভাব সামলাতে পারছে।”

এই যুদ্ধে মূল পক্ষগুলো ঠিক কোথায় দাঁড়িয়ে আছে, তার একটি বিশ্লেষণ তুলে ধরা হলো।

ক্ষতিগ্রস্তরা

ইরানের সাধারণ মানুষ

যেকোনো যুদ্ধে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় সাধারণ মানুষ — ইরানের ক্ষেত্রে এটি আরও নির্মম সত্য। বাইরে থেকে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলা, ভেতরে থেকে রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়ন — দুই দিক থেকেই তাঁরা কোণঠাসা।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হাজার হাজার লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। বেসামরিক অবকাঠামোতেও আঘাত হেনেছে। ইরানের মানবাধিকার সংগঠনের তথ্য অনুযায়ী, এসব হামলায় নিহত হয়েছেন ৩ হাজার ৬০০ জনের বেশি মানুষ, যাঁদের মধ্যে বেসামরিক নাগরিক ১ হাজার ৭০০ জনের বেশি। ট্রাম্প এতটাই হুমকি দিয়েছেন যে ইরানের শাসকেরা তাঁর দাবি না মানলে দেশটির “পুরো সভ্যতা” ধ্বংস করে দেওয়া হবে।

একই সঙ্গে নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতাবা খামেনির নেতৃত্বে ইরানি শাসকগোষ্ঠী ভিন্নমতের বিরুদ্ধে দমন আরও জোরদার করেছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্যমতে, চলতি বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ৬০০ জনেরও বেশি মানুষকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে। গণবিক্ষোভের পর গত ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছিলেন। আট সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে সরকার ইন্টারনেট বন্ধ রেখেছে। অর্থনীতিতে ধস নেমেছে, বেড়েছে বেকারত্ব ও দারিদ্র্য।

লেবাননের সাধারণ মানুষ

ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের মধ্যকার দীর্ঘ সংঘাতের মাঝে লেবাননের মানুষ বছরের পর বছর ধরে পিষ্ট হচ্ছেন। ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি বহাল ছিল। কিন্তু ইসরায়েল ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যা করার পর হিজবুল্লাহ ইসরায়েলে হামলা শুরু করে।

পাল্টা জবাবে ইসরায়েল ব্যাপক বিমান হামলা ও স্থল অভিযান শুরু করে। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলায় এ পর্যন্ত দেশটিতে ২ হাজার ৫০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে সিএনএন জানাচ্ছে, ইসরায়েল লেবাননেও গাজার মতো কৌশল নিয়েছে — গোটা গ্রাম মাটিতে মিশিয়ে দেওয়া হচ্ছে। দক্ষিণ লেবানন থেকে বাস্তুচ্যুত ৬ লাখ মানুষকে ঘরে ফেরার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না।

উপসাগরীয় দেশগুলো

উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলো এই যুদ্ধ চায়নি, ঠেকাতেও চেষ্টা করেছিল। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিতে গিয়ে এ দেশগুলোকে লক্ষ্য করেছে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। ইসরায়েলের চেয়েও বেশি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে দেশটি। বেশিরভাগ হামলা প্রতিহত করা গেলেও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, বিপন্ন হয়েছে আঞ্চলিক ব্যবসা ও পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে দেশটির ভাবমূর্তি।

অন্যদিকে ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ায় ইরাক, কাতার ও কুয়েতের অর্থনীতি ভয়াবহ সংকটে পড়েছে। তেল, গ্যাস ও অন্যান্য পণ্য রপ্তানির জন্য এই সামুদ্রিক পথের ওপর নির্ভরশীল দেশগুলোর জন্য এটি মরণ আঘাত। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এসব দেশের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে দিয়েছে এবং ইরাক, কাতার ও কুয়েতের অর্থনীতি এ বছর সংকুচিত হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।

মার্কিন জনগণ

যুদ্ধের ভার পড়েছে সাধারণ আমেরিকানদের পকেটেও। জ্বালানি তেল ও বিমান টিকিটের দাম বেড়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান এখন ‘জ্বালানি সারচার্জ’ যোগ করছে। মার্চে বার্ষিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ৩ শতাংশে, যা ফেব্রুয়ারিতে ছিল ২ দশমিক ৪ শতাংশ। ভোক্তা আস্থার সূচক তলানিতে নামছে।

মেলানি সিসন বলেন, “সরাসরি বলতে গেলে, যুক্তরাষ্ট্রের পরিস্থিতি এখন মোটেও ভালো নয়। পরিবহনে তেলের ওপর ব্যাপক নির্ভরতা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে অপর্যাপ্ত বিনিয়োগই এখন দেশটির সবচেয়ে বড় দুর্বলতা।”

বৈশ্বিক অর্থনীতি ও সাধারণ ভোক্তারা

যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে সাধারণ মানুষ জীবনযাত্রার চাপে পিষ্ট হচ্ছেন। এশিয়ার অনেক দেশ তেল ও পেট্রোরাসায়নিক পণ্যের জন্য আমদানির ওপর নির্ভরশীল — সেখানে পরিস্থিতি বিশেষভাবে কঠিন। লাতিন আমেরিকায় জ্বালানি ও খাদ্যের দাম সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন মানুষ। আফ্রিকার দুর্বল অর্থনীতিগুলো আরও চাপে পড়েছে। ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘বড় ধরনের ধাক্কা’র সতর্কবার্তা দিয়েছে।

আইএমএফের হিসাবে, যুদ্ধের আগে এ বছর বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি ৩ দশমিক ৮ শতাংশে নামার কথা ছিল। এখন তা ৪ দশমিক ৪ শতাংশে উঠে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসও জানুয়ারির ৩ দশমিক ৩ শতাংশ থেকে কমে ৩ দশমিক ১ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে। সার ও কৃষিপণ্যের দাম বাড়ায় বিশ্বের দরিদ্রতম দেশগুলো সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়বে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি।

এখনই বলা কঠিন

ডোনাল্ড ট্রাম্প

ট্রাম্প বড় ঝুঁকি নিয়েছিলেন। সে বাজি এখনো জেতা হয়নি। ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র হুমকি দূর করা, এমনকি শাসকগোষ্ঠীর পতন ঘটানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু এসব লক্ষ্য অর্জিত হয়নি এবং যুদ্ধের কোনো সমাধান দৃশ্যমান নয়।

দেশের ভেতরে যুদ্ধটি শুরু থেকেই অজনপ্রিয় ছিল। যত দিন যাচ্ছে, জনমত ও জনপ্রিয়তা দুটোই পড়ছে। সিএনএনের বিভিন্ন জরিপের গড় হিসাবে, সাম্প্রতিক তিন সপ্তাহে ট্রাম্পের সমর্থন মাত্র ৩৭ শতাংশে ঠেকেছে।

মেলানি সিসন বলেন, “জ্বালানির দাম ইতিমধ্যে খারাপ, আরও বাড়ছে — এটা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বিপজ্জনক। কূটনৈতিকভাবেও ট্রাম্পকে দুর্বল মনে হচ্ছে। তিনি নিজেও সম্ভবত বুঝতে পারছেন, যুদ্ধ আবার শুরু হলে যুক্তরাষ্ট্রকে বড় মূল্য দিতে হবে এবং কাঙ্ক্ষিত ফল আসবে না।”

তবে ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ দাবিতে নতিস্বীকার করে, তাহলে ট্রাম্প বিজয়ী হতেও পারেন। কিন্তু অন্তত এখনই তার সম্ভাবনা কম।

ইসরায়েল ও প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু

মাত্র কয়েক বছর আগেও ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সরাসরি সংঘাতের কথা অকল্পনীয় মনে হতো। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে বিশ্বাস করাতে সক্ষম হয়েছেন যে যৌথ হামলাই ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি মোকাবিলার একমাত্র পথ।

ইরানের সামরিক শক্তির বড় অংশ ধ্বংস হওয়ায় নেতানিয়াহু ইসরায়েলের নির্বাচনী বছরে কিছুটা রাজনৈতিক সুবিধা পেতে পারেন। তবে সংখ্যাগরিষ্ঠ ইহুদি ইসরায়েলি মনে করেন না যে এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল জিতছে। গাজা সংকটের পর এই যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলের ভাবমূর্তি আরও ক্ষুণ্ণ করেছে। উত্তর ইসরায়েলের বিস্তীর্ণ এলাকায় বসবাসকারী মানুষের নিরাপত্তাও এখন হুমকিতে।

ইরানি শাসকগোষ্ঠী

সংঘাতে ইরানি শাসকগোষ্ঠীর বড় ক্ষতি হয়েছে। দীর্ঘদিনের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ শীর্ষ অনেক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। তবু শাসকগোষ্ঠী টিকে আছে এবং নতুন নেতৃত্ব আরও কট্টর ও সংঘাতমুখী বলে মনে হচ্ছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে তারা দেখিয়ে দিয়েছে, বৈশ্বিক অর্থনীতিতে তাদের বড় প্রভাব রয়েছে।

সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের মধ্যপ্রাচ্য কার্যক্রমের পরিচালক মোনা ইয়াকুবিয়ান বলেন, “তারা ঝুঁকি নিয়েছিল এবং প্রণালীর ওপর তাদের কার্যকর নিয়ন্ত্রণ প্রমাণ করতে পেরেছে। এটি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পরিসরে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলবে।”

ইউক্রেন

স্বল্পমেয়াদে ইরান যুদ্ধ ইউক্রেনের জন্য বড় ক্ষতি ডেকে এনেছে। গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রসরবরাহ ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, মার্কিন উৎপাদন ক্ষমতার সীমাবদ্ধতার কারণে অ্যান্টি-ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বিশ্বের দৃষ্টিও মধ্যপ্রাচ্যে সরে গেছে।

তবে একটি আশার আলো আছে। চার বছরের বেশি সময় ধরে রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালাতে চালাতে ইউক্রেন ড্রোন প্রযুক্তিতে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী দেশ হয়ে উঠেছে। ইরানের হুমকি এই সক্ষমতার ওপর বিশ্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

মোনা ইয়াকুবিয়ান বলেন, “এই যুদ্ধ উপসাগরীয় অঞ্চলে ইউক্রেনের জন্য নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছে। জেলেনস্কি উপসাগরীয় দেশগুলোতে সফর করেছেন এবং উষ্ণ অভ্যর্থনা পেয়েছেন। ড্রোন-বিরোধী প্রযুক্তিতে যৌথ আগ্রহের ভিত্তিতে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্কের শুরু হতে পারে।”

আপাত বিজয়ীরা

চীন

বিশ্বের সবচেয়ে বড় জ্বালানি আমদানিকারক চীন মধ্যপ্রাচ্যের তেলের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। তবু বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সংঘাত থেকে বেইজিং তুলনামূলক শক্তিশালী অবস্থানে বেরিয়ে আসতে পারে।

গত এক দশকে বিশাল তেলের মজুদ গড়ে তোলা, আমদানির উৎস বৈচিত্র্যময় করা এবং কয়লা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার বাড়ানোর ফলে চীন এই সংকট তুলনামূলকভাবে ভালোভাবে সামলাচ্ছে।

কূটনৈতিকভাবেও চীন লাভবান হচ্ছে। যুদ্ধে মার্কিন ভাবমূর্তির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বিশ্বজুড়ে অজনপ্রিয় এই যুদ্ধকে সামনে রেখে চীন নিজেকে ‘বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তার পৃষ্ঠপোষক’ হিসেবে উপস্থাপন করছে।

সামরিক দিক থেকেও সুবিধা পাচ্ছে বেইজিং। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রকে এশিয়া থেকে সামরিক সম্পদ সরিয়ে নিতে হয়েছে, যার ফলে তাইওয়ান প্রশ্নে চীনের সামনে কৌশলগত সুযোগ তৈরি হয়েছে।

তবে বৈশ্বিক অর্থনীতি যদি আরও কমজোর হয়, চীনের রপ্তানিতেও তার প্রভাব পড়বে। মধ্যপ্রাচ্যে চীনের রপ্তানি ইতিমধ্যে কমতে শুরু করেছে।

জীবাশ্ম জ্বালানি কোম্পানি

তেলের দাম বিশ্বজুড়ে মানুষের জীবন কঠিন করে তুললেও তেল ও গ্যাস কোম্পানিগুলো রীতিমতো মুনাফার ঢেউয়ে ভাসছে। অক্সফামের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, শেভরন, শেল, বিপি, কোনোকোফিলিপস, এক্সনমোবিল ও টোটালএনার্জিজ — এই ছয় কোম্পানি চলতি বছর মোট ৯ হাজার ৪০০ কোটি মার্কিন ডলার মুনাফা করতে পারে।

তবে বিভিন্ন দেশে এ কোম্পানিগুলোর ওপর ‘উইন্ডফল ট্যাক্স’ আরোপের দাবি উঠছে। পাশাপাশি জ্বালানি সংকট নবায়নযোগ্য শক্তির চাহিদা বাড়াচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে জীবাশ্ম জ্বালানির পতনকে ত্বরান্বিত করতে পারে।

রাশিয়া

উচ্চ তেল ও সার মূল্যে রাশিয়ার অর্থনীতিতে বাড়তি অর্থের প্রবাহ বেড়েছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার হিসাবে, মার্চে রাশিয়ার জ্বালানি রাজস্ব প্রায় দ্বিগুণ হয়ে ১ হাজার ৯০০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে, যা ফেব্রুয়ারিতে ছিল ৯৭৫ কোটি ডলার।

তবে ইউক্রেন রাশিয়ার তেলকেন্দ্র ও বন্দরে হামলা চালিয়ে রপ্তানির পরিমাণ কমিয়ে দিচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে ইউক্রেনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবও মস্কোর জন্য নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানি

জ্বালানি সংকট অনেক দেশকে পরিচ্ছন্ন শক্তির দিকে আরও দ্রুত ঝুঁকতে উৎসাহিত করছে। ইউরোপীয় কমিশন ‘জীবাশ্ম জ্বালানির মূল্যস্ফীতি থেকে সুরক্ষা’ এবং ‘দেশীয় পরিচ্ছন্ন জ্বালানির প্রসার’ ত্বরান্বিত করতে নতুন কৌশল চালু করেছে।

তবে ইরান সংকট অ্যালুমিনিয়ামসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানির কাঁচামালের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে এবং সরবরাহ শৃঙ্খল ব্যাহত হচ্ছে। ফলে নবায়নযোগ্য প্রযুক্তিও ব্যয়বহুল হয়ে পড়তে পারে।

অস্ত্র ও ড্রোন উৎপাদনকারীরা

যেকোনো সংঘাতের মতোই এবারও অস্ত্র উৎপাদনকারীরা বড় মুনাফা করছে। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের তথ্যমতে, ২০২৫ সালে বৈশ্বিক সামরিক ব্যয় ২ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে ২ লাখ ১৯ হাজার কোটি ডলারে পৌঁছেছে এবং এই প্রবণতা ২০২৬ সালেও অব্যাহত থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে দীর্ঘমেয়াদে প্রতিরক্ষা খাতও অনিশ্চয়তায় পড়েছে। ইরান যুদ্ধের অজনপ্রিয়তা ও মার্কিন কংগ্রেসে প্রতিরক্ষা বাজেট নিয়ে অনিশ্চয়তায় বড় প্রতিরক্ষা কোম্পানির শেয়ারে চাপ পড়েছে।

সূত্র: সিএনএন