যুদ্ধবিরতির পর ইরানের উপর প্রথম দফা নিষেধাজ্ঞা জারি করল আমেরিকা

যুদ্ধবিরতির পর ইরানের উপর প্রথম দফা নিষেধাজ্ঞা জারি করল আমেরিকা

গাজীপুর কণ্ঠ, আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল রপ্তানির ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, যা ইসরায়েল-ইরান ১২ দিনের যুদ্ধ শেষে ঘোষিত যুদ্ধবিরতির পর প্রথমবারের মতো তেহরানের জ্বালানি খাতকে লক্ষ্য করে নেওয়া পদক্ষেপ।

বৃহস্পতিবার ঘোষিত নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছেন ইরাকি ব্যবসায়ী সেলিম আহমেদ সাঈদ এবং তার সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক কোম্পানি, যাদের বিরুদ্ধে ইরানি তেলকে ইরাকি তেলের সঙ্গে মিশিয়ে পাচারের অভিযোগ এনেছে যুক্তরাষ্ট্র।

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এক বিবৃতিতে বলেন, “ইরানের আচরণ দেশটিকে ধ্বংসের পথে নিয়ে গেছে। তাদের কাছে শান্তির পথ খোলা থাকলেও, তারা উগ্রবাদকেই বেছে নিয়েছে। তেহরানের রাজস্ব উৎসগুলোকে লক্ষ্য করে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হবে এবং অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়ানো হবে, যাতে তাদের উসকানিমূলক কার্যকলাপের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের পথ বন্ধ করা যায়।”

গত ২৪ জুন যুদ্ধবিরতির পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, চীন ইরানের তেল কিনতে পারবে – যা থেকে ধারণা করা হচ্ছিল, যুক্তরাষ্ট্র হয়তো তেহরানের ওপর আরোপিত তেল নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে যাচ্ছে।

তবে সেই প্রতিশ্রুতি বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। ট্রাম্প গত সপ্তাহে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে জানান, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনির “ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বিজয়ের দাবি”র প্রতিক্রিয়ায় তিনি “নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সব কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন।”

ট্রাম্প আরও দাবি করেন, তিনি ইসরায়েলকে খামেনিকে হত্যার চেষ্টা থেকে বিরত রেখেছেন, যা নাহলে “খুবই কদর্য এবং লজ্জাজনক মৃত্যু” হতে পারত তার জন্য।

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ স্বীকার করেন, খামেনিকে হত্যার পরিকল্পনা ছিল, তবে “কার্যকর কোনো সুযোগ পাওয়া যায়নি।”

উল্লেখ্য, ১৩ জুন ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো উসকানি ছাড়াই বিমান হামলা চালায়, যাতে শত শত ইরানি নাগরিক, সামরিক কর্মকর্তা নিহত হন।

পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রও অভিযানে যোগ দেয় এবং তিনটি ইরানি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায়। এর জবাবে ইরান ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং কাতারে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে পাল্টা আঘাত হানে।

ট্রাম্প দাবি করেন, এই হামলায় ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো “সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস” হয়ে গেছে।

পেন্টাগন বুধবার জানায়, মার্কিন হামলার ফলে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এক থেকে দুই বছর পিছিয়ে গেছে। তবে ইরানের মজুদকৃত উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম কোথায় রয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

গত মাসে ইরান একটি আইন পাশ করে আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা (IAEA)-র সঙ্গে সহযোগিতা স্থগিত করে, সংস্থাটির পক্ষ থেকে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার নিন্দা না জানানোর কারণে।

এই পদক্ষেপে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলো কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।

বৃহস্পতিবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এসমাইল বাঘায়ি জানিয়েছেন, ওমান ও কাতারের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরোক্ষ সংলাপ চলছে।

তিনি স্কাই নিউজকে বলেন, “কূটনীতিকে প্রতারণার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়। আমাদের কূটনৈতিক উদ্যোগগুলোকে প্রতারিত করা হয়েছে বলেই আমরা মনে করি।”

যুদ্ধ শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগেই ট্রাম্প আবারও কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছিলেন।

এবং ইরানের সঙ্গে ইউরোপীয় শক্তিগুলোর আলোচনার সুযোগ দিতে তিনি যুদ্ধ শুরু নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে দুই সপ্তাহ সময় নিয়েছিলেন বলে জানান।