গাজীপুর কণ্ঠ, আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ব্রিকস জোটের নীতিমালার পক্ষে অবস্থান নিলে অতিরিক্ত ১০ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপ করা হবে- এমন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন, ‘যেসব দেশ আমেরিকাবিরোধী ব্রিকস নীতিকে সমর্থন করবে, তাদের ওপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। এ নীতিতে কোনো ব্যতিক্রম বা ছাড় থাকবে না।’
দীর্ঘদিন ধরেই ব্রিকস এর সদস্যরাষ্ট্র চীন, রাশিয়া, ভারতসহ বেশ কয়েকটি দেশের সমালোচনা করে আসছেন ট্রাম্প। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ৯ জুলাইয়ের মধ্যে শুল্ক আরোপের বিষয়ে বাণিজ্যচুক্তির সময়সীমা নির্ধারণ করলেও এখন বলা হচ্ছে, চুক্তি না হলে ১ আগস্ট থেকেই কার্যকর হবে শুল্ক।
শুরুতে পাঁচটি সদস্য দেশ নিয়ে শুরু হলেও ব্রিকসের বর্তমান সদস্য দেশের সংখ্যা হলো ১১টি। রাষ্ট্রগুলো হলো- ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন, দক্ষিণ আফ্রিকা, ইরান, ইথিওপিয়া, মিশর, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইন্দোনেশিয়া।
রোববার (৬ জুলাই) ব্রাজিলে ‘ব্রিকস ২০২৫ সামিটে’ ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের শুল্ক নীতির সমালোচনা করে সামিটের সূচনা করেন। এই সামিটে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের আরও ১০টি দেশকে নতুন পার্টনার হিসেবে যুক্ত করেছে ব্রিকস জোট। নতুন অংশীদার দেশগুলো হলো বেলারুশ, বলিভিয়া, কাজাখস্তান, কিউবা, নাইজেরিয়া, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, উগান্ডা ও উজবেকিস্তান।
মূলত ব্রিকস জোটের ক্রমাগত শক্তিবৃদ্ধিতে বেজায় চটেছেন ট্রাম্প। এ কারণেই তিনি তার ‘শুল্ক অস্ত্র’ ব্রিকসপন্থী দেশগুলোর ওপর ব্যবহারের হুমকি দিয়েছেন।
স্থগিত শুল্ক হারের বর্তমান পরিস্থিতি
গত এপ্রিল আরোপিত শুল্ক হার তিন মাসের জন্য স্থগিত করেন ট্রাম্প। এ বিষয়ে ট্রাম্প জানান, যেসব দেশ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চুক্তি করবে না, নির্ধারিত শুল্কহার জানিয়ে তাদের জানিয়ে চিঠি পাঠানো হবে।
ট্রাম্প প্রশাসন ইতোমধ্যেই যুক্তরাজ্য ও ভিয়েতনামের সঙ্গে চুক্তি করেছে, চীনের সঙ্গেও আংশিক চুক্তি হয়েছে। তবে যুক্তরাজ্য থেকে আমদানি করা স্টিল পণ্যে এখনো কোনো করছাড় চূড়ান্ত হয়নি।
এ বছর ক্ষমতায় এসে ট্রাম্প আমদানিপণ্যে একের পর এক শুল্ক আরোপ করে যাচ্ছেন। তার দাবি, এতে দেশের উৎপাদনশীলতা বাড়বে ও কর্মসংস্থান সুরক্ষিত হবে। এপ্রিলে ‘লিবারেশন ডে’ উপলক্ষে তিনি ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কর আরোপের ঘোষণা দিলেও তিন মাসের আলোচনার সুযোগ রেখে তা স্থগিত করেন। সেই সময়েই বেশিরভাগ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য অংশীদারের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) চাইছে এই ১০ শতাংশ কর ৯ জুলাইয়ের পরও বহাল থাকুক। একই সঙ্গে ইইউ থেকে গাড়ি ও যন্ত্রাংশে ২৫ শতাংশ ও স্টিল-অ্যালুমিনিয়ামে ৫০ শতাংশ শুল্ক কমানোর জন্য আলোচনাও চলছে।
ইইউ কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেইনের সঙ্গে ট্রাম্পের ‘ভালো আলোচনা’ হয়েছে বলেও জানিয়েছেন এক মুখপাত্র। যদিও কিছুদিন আগেই ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন, চুক্তি না হলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ওপর ৫০ শতাংশ কর বসবে।
কবে থেকে শুল্ক কার্যকর হবে, ৯ জুলাই না ১ আগস্ট? এই প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, অন্তত ১০ থেকে ১৫টি দেশকে সোমবারের (৭ জুলাই) মধ্যে জানিয়ে দেওয়া হবে তাদের শুল্ক কত হবে, যদি তারা কোনো চুক্তিতে না পৌঁছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য সচিব হাওয়ার্ড লাটনিক জানিয়েছেন, ১ আগস্ট থেকে শুল্ক কার্যকর হবে। এর আগেই গত সপ্তাহে ট্রাম্প জাপানকে হুঁশিয়ার করে বলেছিলেন, বুধবারের (৯ জুলাই) মধ্যে চুক্তি না হলে ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ শুল্ক দিতে হবে।
ব্রিকস সম্প্রসারণ ও মার্কিন শঙ্কা
গত বছর ব্রিকস জোটে নতুন করে যোগ দেয় মিসর, ইথিওপিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। এই ব্লক এখন বিশ্বের অর্ধেক জনসংখ্যার প্রতিনিধিত্ব করে এবং মার্কিন আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ করতেই এই জোট গঠিত হয়।
২০২৪ সালে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, ব্রিকস যদি নিজেদের মুদ্রা চালু করে ডলারের বিকল্প হিসেবে, তাহলে তাদের ১০০ শতাংশ শুল্ক দিতে হবে।
রোববার ব্রিকস সমর্থক দেশগুলোকে লক্ষ্য করে ট্রাম্পের হুমকি আসে এমন এক সময়ে, যখন ব্রিকস সদস্যরা ওয়াশিংটনের শুল্কনীতি সমালোচনা করে এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বৈশ্বিক মুদ্রানীতির সংস্কারের প্রস্তাব দেয়।
ব্রাজিলের রিও ডি জেনেরিওতে দুই দিনের বৈঠকে ব্রিকস দেশগুলোর অর্থমন্ত্রীদের এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, মার্কিন শুল্কনীতি বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য হুমকি এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করছে।
সূত্র: বিবিসি