তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের সূত্রপাত করবে চীন : ন্যাটো প্রধান

তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের সূত্রপাত করবে চীন : ন্যাটো প্রধান

গাজীপুর কণ্ঠ, আন্তর্জাতিক ডেস্ক : বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ-সংঘাত বেড়েই চলেছে। অনেকেই বলছেন, যেকোনো সময় তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধও শুরু হতে পারে। এবার কিভাবে বিশ্বযুদ্ধের সূত্রপাত হতে পারে তার ভবিষ্যদ্বাণী করলেন পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর প্রধান মার্ক রুট।

নিউইয়র্ক টাইমসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্ক রুট বলেছেন, তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের সূত্রপাত করবে চীন। তার দাবি, চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং যখন তাইওয়ানে আক্রমণ করবেন এবং তার মিত্র রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে ন্যাটো দেশগুলোতে হামলা চালানোর জন্য বলবেন তখন তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ ছড়িয়ে পড়বে।

ন্যাটো মহাসচিব আরও বলেছেন যে, এটা বিশ্বাস করা ‘বোকামি’ হবে যে তাইওয়ান জয় করার জন্য শি জিনপিংয়ের যে উচ্চাকাঙ্ক্ষা তাতে কেবল দুটি দেশ জড়িত হবে। বরং যুদ্ধ দুটি ফ্রন্টে হবে।

ন্যাটো প্রধানের ভাষায়, ‘এটা ক্রমবর্ধমান উপলব্ধি যে, যদি শি জিনপিং তাইওয়ান আক্রমণ করেন, তাহলে তিনি প্রথমে নিশ্চিত করবেন যে তিনি এই সমস্ত বিষয়ে তার খুব ছোট অংশীদার, মস্কোতে বসবাসকারী ভ্লাদিমির পুতিনকে ফোন করবেন এবং বলবেন, ‘হ্যালো, আমি এটা করতে যাচ্ছি, এবং এখন আপনি ন্যাটো অঞ্চলে আক্রমণ করে তাদের ইউরোপে ব্যস্ত রাখুন।’

মার্কিন ও তাইওয়ানীয় কর্মকর্তারা বেশ আগে থেকেই বলে আসছেন, চীন ২০২৭ সালে তাইওয়ানে আক্রমণ করবে। কারণ বেইজিং স্বাধীন দেশটিকে নিজেদের সাথে সংযুক্ত করতে চায়।

নিউইয়র্ক টাইমসকে দেয়া সাক্ষাৎকারে সেই কথারই পুনরাবৃত্তি করেছেন ন্যাটো প্রধান। তিনি বলেছেন, ‘বর্তমানে ইউক্রেনে যা ঘটছে, অদূর ভবিষ্যতে খুব সম্ভবত তাইওয়ানেও তা ঘটবে।’

সতর্ক করে তিনি বলেন, ‘চীন ও রাশিয়ার মধ্যে নিবিড় বন্ধুত্ব আছে এবং পশ্চিম যদি ব্যাপারটা বুঝতে ব্যর্থ হয়, তাহলে অচিরেই আমরা সম্ভাব্য ভয়াবহ পরিস্থিতির সম্মুখীন হব, অর্থাৎ একটা বৈশ্বিক যুদ্ধ বেঁধে যেতে পারে এবং গত শতকের দুই বিশ্বযুদ্ধের তুলনায় সম্ভাব্য সেই যুদ্ধে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির হার হবে অনেক বেশি।’

রুট আরও বলেন, রুশো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় জোট কী অর্জন করতে পারে তা ইউক্রেন যুদ্ধের মাধ্যমে বিশ্ববাসী দেখেছে। যেখানে ইতিমধ্যেই মস্কোকে সহায়তা করার জন্য উত্তর কোরিয়ার ১২ হাজারেরও বেশি সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।

চলতি বছর ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছে ন্যাটো। এর মধ্যেই তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কা ব্যক্ত করলেন সংস্থার প্রধান রুট। ন্যাটো মহাসচিবের এই আশঙ্কাকে অনেকেই চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাম্প্রতিক এক বক্তব্যের সঙ্গে মিলিয়ে ভিত্তি দেয়ার চেষ্টা করছেন।

সম্প্রতি বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে ইউরোপের দেশগুলোর জোট ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পররাষ্ট্র বিভাগের প্রধান কাজা কালাসের সঙ্গে বৈঠক করেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। সেখানে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ প্রসঙ্গে কাজা কালাসকে তিনি বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধে চীন কখনও রাশিয়াকে পরাজিত হতে দেবে না।

এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধে যদি রাশিয়া পরাজিত হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের মনযোগের কেন্দ্রে হয়ে উঠবে চীন ও এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল। এর জেরে যে অভূতপূর্ব বৈরিতা দেখা দেবে, তা বিশ্বের জন্য বিপর্যয়কর হয়ে উঠতে পারে।

মার্ক রুট গত বছর ন্যাটোর মহাসচিব হন। এর আগে ১৪ বছর নেদারল্যান্ডসের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তিনি। নিউইয়র্ক টাইমসকে রুট বলেন, তৃতীয় যুদ্ধের আঁচ পেয়ে ইতোমধ্যে নিজেদের প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় বাড়িয়ে দিয়েছে ইউরোপের অনেক দেশ।

তারপরও বিশ্বকে বিপর্যয়ের হাত থেকে ঠেকাতে ন্যাটোর সদস্য রাষ্ট্রগুলোর ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করেন মার্ক রুটে এবং ‘কিছু বিতর্ক’ ও ‘মূল্যবোধগত পার্থক্য’ থাকলেও ন্যাটো এখনও সংঘবদ্ধ বলেও দাবি করেন তিনি।