গাজীপুরে সাংবাদিক হত্যা : অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা, আটক সন্দেহভাজন ৫

গাজীপুরে সাংবাদিক হত্যা : অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা, আটক সন্দেহভাজন ৫

নিজস্ব সংবাদদাতা : গাজীপুরে সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিনকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়েছে।

নিহতের বড় ভাই মো. সেলিম বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার দিবাগত মধ্যরাতে বাসন থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে।

জিএমপি সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী আটকরা হলেন—ওসমান গনি (২০), সিফাত, মোহাম্মদ আলী হোসেন (৪৫), সুজন মিয়া (২৩) ও রাহাদ শেখ।

এর আগে বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ৭টার দিকে গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা মসজিদ মার্কেট এলাকায় দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ-এর চিফ রিপোর্টার তুহিনকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। তাঁর বাড়ি ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার ভাটিপাড়া গ্রামে।

ঘটনায় প্রত্যক্ষদর্শী ও সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, এক নারী একজনকে নাজেহাল করছেন। ওই ব্যক্তি নারীটির প্রতি ক্ষিপ্ত হলে হঠাৎ কয়েকজন যুবক রামদা ও চাইনিজ কুড়াল নিয়ে তার ওপর হামলা চালায়। তখন ওই ব্যক্তি পালিয়ে যান। এ সময় পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন সাংবাদিক তুহিন, যিনি ঘটনাটি ভিডিও করছিলেন। দুর্বৃত্তরা বিষয়টি টের পেয়ে তাঁকে ধাওয়া করে ধরে ফেলে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপায়।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটের দিকে চৌরাস্তা এলাকায় পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় তুহিন দেখতে পান জনৈক বাদশা (৩৫) নামে এক ব্যক্তি একটি ব্যাংকের এটিএম বুথ থেকে টাকা উত্তোলন করে যাওয়ার পথে অজ্ঞাত এক নারী তাকে বিরক্ত করছে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বাদশা ওই নারীর সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। এ সময় উৎ পেতে থাকা অজ্ঞাত কয়েকজন তাদের হাতে থাকা দেশীয় অস্ত্র দিয়ে বাদশাকে কুপাতে থাকে। ঘটনাটি তুহিন ভিডিও করতে থাকেন। একপর্যায়ে বিষয়টি দুর্বৃত্তদের নজরে আসে। পরে তারা তুহিনকে ধাওয়া করে। তিনি দৌড়ে মসজিদ মার্কেটের উত্তর পাশে জনৈক রুহুল আমিনের চায়ের দোকানের সামনে গেলে তাঁকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে পালিয়ে যায়।

ঘটনার পর স্থানীয় ব্যবসায়ী খায়রুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, “তুহিন দৌড়ে এসে আমার দোকানে ঢুকে পড়ে। তিনজন ভিতরে ঢুকে তাঁকে কুপিয়ে হত্যা করে। বাইরে দুজন রামদা হাতে দাঁড়িয়ে ছিল। আমি বাধা দিতে গেলে আমাকেও হত্যার হুমকি দেয়।”

গাজীপুর মহানগর পুলিশের বাসন থানার ওসি শাহিন খান সাংবাদিকদের বলেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে।

গাজীপুর মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (অপরাধ) রবিউল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়েছে এবং দ্রুত গ্রেপ্তার সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

অপরদিকে শুক্রবার দুপুরে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে চান্দনা ঈদগাহ মাঠে জুমার নামাজের পর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।