গাজীপুরে ভূমিকম্পে আহত অর্ধশতাধিক

গাজীপুরে ভূমিকম্পে আহত অর্ধশতাধিক

বিশেষ প্রতিনিধি : গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় শুক্রবার সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে।

বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পটির তীব্রতা ছিল ৫ দশমিক ৭। উৎপত্তিস্থল নরসিংদীর পলাশ উপজেলায়। ভূমিকম্পটিকে মাঝারি মাত্রার বলছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

রাজধানী ঢাকার এত কাছাকাছি কেন্দ্র হয়ে ভূমিকম্পের ঘটনা অতীতে খুব কমই ঘটেছে।

গাজীপুরে মহানগরে ভূমিকম্পে বড় ধরনের কোনো অবকাঠামোগত ক্ষতি না হলেও আতঙ্কে ভবন থেকে দ্রুত নামতে গিয়ে অন্তত ৫০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। অধিকাংশই বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিক।

গাজীপুরের বেশিরভাগ কারখানায় সাপ্তাহিক ছুটি থাকলেও কিছু কারখানায় উৎপাদন চলছিল। ভূমিকম্পের সময় নানা স্থাপনা কেঁপে ওঠে, মানুষ ঘর-বাড়ি, দোকান ও কলকারখানা থেকে ছুটে রাস্তায় বের হয়ে আসে। দ্রুত নামতে গিয়ে অনেকেই আহত হন। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ডিভাইন টেক্সটাইলে ২২ জন, কোস্ট টু কোস্টে ১৪ জন, তানভীর ফ্যাশনে ৬ জন, কোজিমা লিরিক লিমিটেডে ৪ জন, লিবাস টেক্সটাইলে ৩ জন এবং দ্য ফ্যাশন লিমিটেডে ২ জন।

আহতদের শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

হাসপাতালের উপপরিচালক মোহাম্মদ আব্দুস সালাম সরকার জানান, মোট ৫৫ জন চিকিৎসা নিয়েছেন—যাদের মধ্যে ৬ জন পুরুষ, ৪৯ জন নারী ও একজন শিশু রয়েছে।

জরুরি কন্ট্রোল রুম

ভূমিকম্পের পর জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলায় গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নগর ভবনে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে।

কন্ট্রোল রুমের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহিন পারভেজ জানান, এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের বড় ক্ষয়ক্ষতির রিপোর্ট পাওয়া যায়নি।

গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক মোহাম্মদ মামুন জানান, চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় ডিভাইন টেক্স কারখানায় শ্রমিক আহত হওয়ার খবর পেয়ে তারা সেখানে গিয়ে ২২ জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান। বিকেল পর্যন্ত জেলার অন্য কোথাও কোনো অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি।

অপরদিকে শ্রীপুরে ভূমিকম্পের সময় কেওয়া পূর্বখণ্ড গারোপাড়া এলাকায় বহুতল ভবনে ডেনিমেক নামের একটি পোশাক কারখানায় থেকে তাড়াহুড়া করে নামতে গিয়ে দেড় শতাধিক শ্রমিক আহত হয়েছেন।

কারখানার শ্রমিকরা জানান, ভূমিকম্পের সময় সাততলা ভবনের ওই কারখানায় কর্মরত শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় কারখানার ফায়ার অ্যালার্ম বেজে উঠলে কর্মরত শ্রমিকরা ফ্লোর থেকে নামার সময় পদদলিত হয়ে অনেক শ্রমিক আহত হন।

শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সাইয়িদা আফরোজ ইমা সংবাদ মাধ্যমকে জানান, ৭০ থেকে ৮০ জন শ্রমিক হাসপাতালে এসেছেন। তবে বেড স্বল্পতার কারণে স্বজনরা তাদের এই হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছেন।