গাজীপুর কণ্ঠ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্ক : যুক্তরাজ্যের শক্তিশালী এক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই সুপারকম্পিউটারকে চোখের গবেষণায় ব্যবহার করতে যাচ্ছেন গবেষকরা। এ গবেষণার বাজেট বা খরচ প্রায় ১৫ লাখ ডলার।
গবেষণায় মানসিক ক্লান্তি ও মনোযোগ হারানো চোখের মাধ্যমে প্রকাশ পায় কি না তা পরীক্ষা করবেন ‘ইউনিভার্সিটি অফ এসেক্স’-এর গবেষকরা।
এজন্য তারা ১০ হাজার ঘণ্টা সময়ের জন্য ‘ইসাম্বার্ড-এআই’ নামের সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত অত্যাধুনিক প্রযুক্তির কম্পিউটার ব্যবহার করতে পারবেন বলে প্রতিবেদনে লিখেছে বিবিসি।
এ গবেষণার প্রধান ড. হাভিয়ের আন্দ্রেউ-পেরেজ বলেছেন, কম্পিউটারটি মানুষের আচরণ নিয়ে ‘নতুন ধারণা’ দিতে সাহায্য করবে।
বড় ধরনের মডেল চালাতে ও পরীক্ষা করতে ব্যবহৃত হবে কম্পিউটারটি, যা মানুষের আচরণ ও তাদের আশপাশের পরিবেশের তথ্য একসঙ্গে দেখে নতুন ধারণা খুঁজে বের করবে।
ড. আন্দ্রেউ-পেরেজ বলছেন, এর মাধ্যমে চোখ কীভাবে কাজ করে, কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায় ও মানসিক প্রতিক্রিয়া চোখের ওপর কীভাবে প্রভাব ফেলে তা বিস্তারিতভাবে বোঝার সুযোগ পাবেন তারা।
“আমাদের এ প্রকল্পের আওতায় বাস্তব পরিস্থিতিতে মানুষের চোখের গতিবিধি সংগ্রহ করে তা পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ করবো আমরা।
“এআই সুপারকম্পিউটারের কারণে আমরা দ্রুত চোখের ক্লান্তির মাত্রা মূল্যায়ন ও পূর্বাভাস দিতে পারব এবং জানতে পারব কীভাবে মানসিক চাপ মানুষের আচরণের ওপর প্রভাব ফেলে।”
বিবিসি লিখেছে, লাউটিংয়ে ২০০ কোটি পাউন্ডের নতুন ডেটা সেন্টার নির্মিত হলে যুক্তরাজ্যের এআই উদ্ভাবনের নেতৃত্ব দেবে এসেক্স।
‘আইওয়ার্ন’ নামের এ গবেষণা প্রকল্পে সহযোগিতা করছেন যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন জায়গা থেকে আসা গবেষক, বিজ্ঞানী ও এআই কোম্পানি ‘সলভমেড গ্রুপ এসেক্স’।
‘ইউনিভার্সিটি অফ এসেক্স’ বলেছে, ‘আমরা চাইছি আমাদের গবেষণা কেবল পরীক্ষাগারেই সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তব পরিস্থিতিতেও প্রয়োগ হোক’।
কম্পিউটার বিজ্ঞানের শিক্ষক ড. আন্দ্রেউ-পেরেজ বলেছেন, “এ প্রকল্প যুক্তরাজ্যের মানবকেন্দ্রিক এআই সংক্রান্ত বৈজ্ঞানিক প্রচেষ্টায় গুরুত্বপূর্ণ এক অগ্রগতির প্রতিনিধিত্ব করবে।”
‘আইওয়ার্ন প্রকল্পটি মানুষের বিভিন্ন দিক– যেমন ক্লান্তি ও চোখের মাধ্যমে তার শরীরে প্রভাব সম্পর্কে আমাদের বোঝাপড়া বাড়ানো ও পর্যবেক্ষণের ওপর জোর দেবে।”