দেড় যুগের নির্বাসন ভেঙে দেশে ফিরতে ট্রাভেল পাস পেলেন তারেক রহমান

দেড় যুগের নির্বাসন ভেঙে দেশে ফিরতে ট্রাভেল পাস পেলেন তারেক রহমান

গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : দেড় যুগের নির্বাসন ভেঙে দেশে ফেরার প্রস্তুতিতে এক দিনেই লন্ডনে বাংলাদেশ হাই কমিশন থেকে ট্রাভেল পাস পেয়ে গেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) রাতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, “উনি কাল আবেদন করেছিলেন। আমার জানা মতে হয়ে গেছে।”

আগামী ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরার কথা রয়েছে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেকের। তাকে স্বাগত জানাতে বড় আয়োজন করতে যাচ্ছে বিএনপি।

যুক্তরাজ্য বিএনপির একজন জ্যেষ্ঠ নেতা শুক্রবার সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, “সব পরিকল্পনা মতই এগোচ্ছে। উনি ট্রাভেল পাসও পেয়েছে গেছেন।”

২০০৭-০৮ সালের সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে খালেদা জিয়ার মত তার বড় ছেলে তারেক রহমানকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। মুক্তি পাওয়ার পর তিনি পরিবার নিয়ে লন্ডনে চলে যান, দেশে আর ফেরেননি।

২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে যেদিন জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হল, সেদিনই বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে তারেককে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

এরপর গত সাত বছর ধরে লন্ডন থেকে ভিডিও কলেই তিনি দল চালাচ্ছেন। আর দেশে ঝড়-ঝাপটা সামলে বিএনপিকে টিকিয়ে রেখেছেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল আলমগীরসহ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা।

২০২০ সালে আওয়ামী লীগ সরকার খালেদা জিয়াকে নির্বাহী আদেশে সাময়িক মুক্তি দেয়। কিন্তু দুই শর্তের কারণে তিনি কার্যত বন্দি ছিলেন বাসা আর হাসপাতালের জীবনে। রাজনৈতিক কোনো কর্মকাণ্ডে তাকে আর দেখা যায়নি।

৫ অগাস্ট ক্ষমতার পট পরিবর্তনের পর রাষ্ট্রপতি সাজা মওকুফ করে খালেদা জিয়াকে পুরোপুরি মুক্তি দেন। পরে উচ্চ আদালতও তাকে দুর্নীতির অভিযোগ থেকে খালাস দেয়।

আওয়ামী লীগের আমলে দেওয়া বিভিন্ন রায়ে তারেকেরও সাজা হয়েছিল। সেসব মামলায় তারেকও খালাস পান। তাতে তার দেশে ফেরার ক্ষেত্র প্রস্তুত হয়।

এ বছর জানুয়ারিতে লন্ডনে গিয়ে চিকিৎসা নেন খালেদা জিয়া। সেখানে দীর্ঘদিন পর ছেলের সঙ্গে তার দেখা হয়। চিকিৎসা শেষে খালেদা জিয়া দেশে ফিরলেও তারেক ফেরেননি।

এর মধ্যে বিএনপি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের জন্য আংশিক প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে। সেখানে জানানো হয়, বগুড়া-৬ আসনে প্রথমবারের মত ভোট করবেন তিনি। ওই ঘোষণার পর তারেকের দেশে ফেরার সম্ভাবনা জোরালো হয়।

২৩ নভেম্বর ফের অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন খালেদা জিয়া। এ অবস্থায় তারেক কেন ফিরছেন না, সেই প্রশ্ন আবার সামনে আসে।

২৯ নভেম্বর তারেক রহমানের এক বক্তব্যের পর পরিস্থিতি আরো ঘোলাটে হয়। এক ফেইসবুক পোস্টে তিনি বলেন, “এমন সঙ্কটকালে মায়ের স্নেহ স্পর্শ পাবার তীব্র আকাঙ্ক্ষা যে কোনো সন্তানের মত আমারও রয়েছে। কিন্তু অন্য আর সকলের মত এটা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আমার একক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ অবারিত ও একক নিয়ন্ত্রণাধীন নয়।”

তারেক রহমানের দেশে ফিরতে বাধা কোথায়, সেই প্রশ্ন তখন জোরেশোরে উঠতে থাকে। তিনি লন্ডনে রাজনৈতিক আশ্রয়ে আছেন কি না, সেখানে তার ‘স্ট্যাটাস’ কী, সেসব প্রশ্নও তোলেন কেউ কেউ।

গতমাসে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, তারেক রহমানের এখন পাসপোর্ট নেই, তবে তিনি চাইলেই ট্র্যাভেল পাসের ব্যবস্থা করা হবে।

তবে সে সময় সেরকম কোনো আবেদন তিনি তখন করেননি। তার বদলে অসুস্থ মাকে তিনি লন্ডনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এক পর্যায়ে চিকিৎসকরাও অনুমতি দেন।

কিন্তু গোল বাধে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে। তারপর খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটলে তার লন্ডনযাত্রা অনির্দিষ্টকালের জন্য পিছিয়ে যায়।

খালেদা জিয়া এখনো হাসপাতালেই আছেন। এর মধ্যে দেশে এসেছেন তারেকের স্ত্রী জুবায়দা রহমান।

খালেদা জিয়ার লন্ডনযাত্রা অনিশ্চিত হয়ে ওঠার মধ্যে গত ১২ ডিসেম্বর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঘোষণা দেন, তাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ২৫ ডিসেম্বর দেশে আসবেন।

এরপর তার জন্য ঢাকায় বাসা ও অফিস গোছানোর খবর আসে। মির্জা ফখরুল বলেন, বিমানবন্দরে তাদের নেতাকে এমন সংবর্ধনা দেওয়া হবে, যা আগে কোনো রাজনীতিবিদ পাননি।

বিজয় দিবস উপলক্ষে গত মঙ্গলবার লন্ডনের সিটি প্যাভিলিয়নে লন্ডন বিএনপির আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে যোগ দেন তারেক রহমান। সেই অনুষ্ঠান কার্যত তার বিদায় অনুষ্ঠানে পরিণত হয়।

প্রবাসী বিএনপিকর্মীদের উদ্দেশে তারেক বলেন, “২৫ তারিখে ইনশাআল্লাহ আপনাদের দোয়ায় আমি দেশে ফিরে যাব। সকলের কাছে দোয়া চেয়ে যাচ্ছি। আপনারা দয়া করে দোয়া করবেন। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া করবেন।”

সূত্র: বিডিনিউজ