গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : রংপুর বিভাগে তীব্র শীতের প্রভাবে ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে গত তিন দিনে ১০৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ঠান্ডাজনিত বিভিন্ন রোগে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৪২১ জন রোগী।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার আশিকুর রহমান সংবাদ মাধ্যমকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, শীত বেড়ে যাওয়ায় হাসপাতালের মেডিসিন ও শিশু বিভাগে রোগীর চাপ বেড়েছে। গত তিন দিনে এই দুই বিভাগে মোট ৩৭ জন রোগীর মৃত্যু হয়েছে।
এদিকে রংপুর আবহাওয়া অফিস সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছে, শনিবার সকালে বিভাগটির বিভিন্ন জেলায় তাপমাত্রা ছিল অত্যন্ত কম। নীলফামারীর সৈয়দপুরে সর্বনিম্ন ১০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, পঞ্চগড়ে ১০ দশমিক ৬, ঠাকুরগাঁওয়ে ১০ দশমিক ৭, রংপুরে ১১ দশমিক ২, কুড়িগ্রামে ১১ দশমিক ৫, গাইবান্ধায় ১১ দশমিক ৮ এবং লালমনিরহাটে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী পাঁচ দিন ঘন কুয়াশা অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
রংপুর আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোস্তাফিজার রহমান সংবাদ মাধ্যমকে জানান, হিমালয়ের নিকটবর্তী হওয়ায় দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় রংপুর বিভাগে শীতের প্রকোপ বেশি অনুভূত হয়। গত কয়েক দিনে বরফশীতল বাতাস ও ঘন কুয়াশার কারণে প্রচণ্ড শীত পড়েছে। উত্তরাঞ্চলে রাত থেকে সকাল পর্যন্ত মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা থাকতে পারে।
তিনি আরও বলেন, রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে, তবে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে। দিন ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য কম থাকায় শীতের তীব্রতা বেশি অনুভূত হচ্ছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, শীতের কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে তিস্তা, ধরলা ও যমুনা নদী তীরবর্তী নিম্নআয়ের মানুষজন বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন। গবাদিপশু, পোলট্রি ও চিড়িয়াখানার প্রাণীদের সুরক্ষায় ভিটামিন সরবরাহ ও শেড ঢেকে রাখাসহ বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা গোলাম কিবরিয়া সংবাদ মাধ্যমকে জানান, ইতোমধ্যে ১২ হাজার ৫০০টি কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি শীতজনিত দুর্ভোগ লাঘবে আটটি উপজেলায় উষ্ণ পোশাক বিতরণের জন্য ৪৮ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
সূত্র: ইউএনবি