মঙ্গলবার সকাল ৭টায় শেষ হচ্ছে নির্বাচনী প্রচারণা

মঙ্গলবার সকাল ৭টায় শেষ হচ্ছে নির্বাচনী প্রচারণা

গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের সব ধরনের নির্বাচনী প্রচারণা মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টায় শেষ হচ্ছে।

বিধান অনুযায়ী, ভোটগ্রহণের ৪৮ ঘণ্টা আগে থেকে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের সব ধরনের প্রচারণা কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকবে।

রোববার (০৮ ফেব্রুয়ারি) এ তথ্য জানিয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, “আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। ওই দিন সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত সারাদেশের ২৯৯টি সংসদীয় আসনে একযোগে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ করা হবে।”

ইসি সচিব বলেন, “১ হাজার ৫০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোতায়েন থাকবেন। মূলত মোবাইল কোর্ট পরিচালনার জন্য তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এ সময় জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদেরও মাঠে রাখা হবে। এছাড়া ইলেক্টোরাল এনকোয়ারি অ্যান্ড এডজুডিকেশন কমিটি ইতোমধ্যে মাঠে কাজ করছে।”

‘নির্বাচন স্থগিত এমন গুজব মিথ্যা’

আসন্ন গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন স্থগিত হওয়া নিয়ে গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) ইসির জনসংযোগ পরিচালক মো. রুহুল আমিন মল্লিকের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ কেউ আসন্ন গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন স্থগিত হওয়ার বিষয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছেন। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট করেছে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি শেরপুর-৩ আসন ব্যতীত ২৯৯টি সংসদীয় আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এ ধরনের অপপ্রচারে কান না দেওয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে ইসি।

স্থগিত ‘পাশা’কে কার্ড দিতে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের ইসির চিঠি

আগে অনুমোদন স্থগিত হওয়া সত্ত্বেও পিপলস অ্যাসোসিয়েশন ফর সোশ্যাল অ্যাডভান্সমেন্টকে (পাশা) পর্যবেক্ষক কার্ড দিতে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

এর আগে, পাশাকে ১০ হাজারের বেশি পর্যবেক্ষক দিয়ে নির্বাচন পর্যবেক্ষণের অনুমোদন দেওয়া হলেও সমালোচনার মুখে সে সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে ইসি।

তবে অনুমোদন বাতিলের পরও ইসির জনসংযোগ শাখা সংস্থাটিকে পুনরায় পর্যবেক্ষক কার্ড দিতে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নির্দেশ পাঠিয়েছে। রোববার ইসির জনসংযোগ পরিচালক মো. রুহুল আমিন মল্লিক স্বাক্ষরিত চিঠির মাধ্যমে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

এই নির্বাচনে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ নীতিমালা, ২০২৫ অনুসরণ করে নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধিত ৮১টি পর্যবেক্ষক সংস্থার মোট ৫৫ হাজার ৪৫৪ জন পর্যবেক্ষককে নির্বাচন পর্যবেক্ষণের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে কেন্দ্রীয়ভাবে ৭ হাজার ৯৯৭ জন এবং সংসদীয় আসনভিত্তিক স্থানীয় পর্যায়ে ৪৭ হাজার ৪৫৭ জন পর্যবেক্ষক রয়েছেন।

পর্যবেক্ষক পরিচয়পত্র ও গাড়ির স্টিকার ইস্যুর ক্ষেত্রে কমিশন কিছু নির্দেশনা দিয়েছে। সেই নির্দেশনা অনুসরণ করে স্থগিত সংস্থাকে পর্যবেক্ষণের জন্য কার্ড ইস্যু করতে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের রোববার নির্দেশনা পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি পিপলস অ্যাসোসিয়েশন ফর সোশ্যাল অ্যাডভান্সমেন্টকে (পাশা) ৪৩০ জন কেন্দ্রীয় এবং ১০ হাজার ১২৯ জন স্থানীয় পর্যবেক্ষকের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। এ নিয়ে মোট পর্যবেক্ষকের সংখ্যা ছিল ৫৫ হাজার ৪৫৪ জন।

ইসির নির্বাচনী কারিগরি সহায়তায় কানাডার ২০ লাখ ডলার

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কারিগরি সহায়তায় ২০ লাখ ডলার অনুদান দিচ্ছে কানাডা।

রোববার ইসির সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর শেষে এ তথ্য জানান বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডিয়ান হাইকমিশনার এইচ. ই. অজিত সিং। এ সময় ইউএনডিপি বাংলাদেশের আবাসিক প্রতিনিধি স্টিফান লিলার উপস্থিত ছিলেন।

কানাডিয়ান হাইকমিশনার বলেন, “বিশ্বাসযোগ্য, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও স্বচ্ছ নির্বাচনের জন্য বাংলাদেশের অগ্রগতিতে আমি গর্বিত। কানাডা বাংলাদেশের দীর্ঘস্থায়ী অংশীদার ও বন্ধু। আমরা আপনাদের স্বাধীনতাকে স্বীকৃতি দেওয়া প্রথম দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম।”

তিনি আরও বলেন, “বর্তমানে এক লাখেরও বেশি বাংলাদেশি-কানাডিয়ান দুই দেশের সম্পর্কের সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করছেন।”

১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে বিশ্বের অন্যতম ‘বৃহৎ নির্বাচন’ হিসেবে উল্লেখ করে অজিত সিং বলেন, “বাংলাদেশে কী ঘটে, তা কানাডা ও বিশ্বজুড়ে গুরুত্বপূর্ণ। কানাডা বাংলাদেশে একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন প্রত্যাশা করে।”

ইউএনডিপি বাংলাদেশের আবাসিক প্রতিনিধি স্টিফান লিলার বলেন, নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে জাতিসংঘের এই কনসোর্টিয়ামকে সমর্থন দেওয়ায় তিনি কানাডার করদাতাদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছেন।

তিনি বলেন, “গত এক বছর ধরে ইউনেস্কো, জাতিসংঘ নারী, ইউএনওডিসি ও ইউএনডিপি—এই চারটি সংস্থা নির্বাচন কমিশনের অনুরোধে কারিগরি সহায়তা দিয়ে আসছে।”

কানাডার নতুন এই তহবিল সেই প্রচেষ্টাকে আরও জোরদার করবে বলে জানান তিনি।

উল্লেখ্য, ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটকে সামনে রেখে ইউএনডিপির সহায়তায় ‘ব্যালট’ নামে একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। পরে এ বিষয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, “নির্বাচন কমিশনের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে এই অর্থ ব্যয় করা হবে।”