গাজীপুর কণ্ঠ, আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর এবার যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেই হামলার আশঙ্কা করছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। গত শনিবার ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় খামেনি নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত হওয়ার পর তেহরান ও তার মিত্র গোষ্ঠীগুলো এই পাল্টা আঘাত হানতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
রয়টার্সের হাতে আসা যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির (ডিএইচএস) এক গোয়েন্দা মূল্যায়ন প্রতিবেদনে এই আশঙ্কার কথা জানানো হয়।
২৮ ফেব্রুয়ারির ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান ও তাদের মদতপুষ্ট ছায়া গোষ্ঠীগুলো (প্রক্সি) যুক্তরাষ্ট্রে ‘টার্গেটেড অ্যাটাক’ বা সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর সক্ষমতা রাখে।
মূল উদ্বেগের কেন্দ্রে সাইবার হামলা
মার্কিন গোয়েন্দারা মনে করছেন, স্বল্প মেয়াদে ইরানপন্থী হ্যাকাররা যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন নেটওয়ার্কে সাইবার হামলা চালাতে পারে। এর মধ্যে সরকারি ওয়েবসাইট বিকৃত করা বা ডিস্ট্রিবিউটেড ডিনায়াল-অব-সার্ভিস (DDoS)-এর মতো বিঘ্ন সৃষ্টিকারী কার্যক্রমের আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘যদিও বড় ধরনের কোনো শারীরিক হামলার সম্ভাবনা কম, তবে খামেনেইর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়ার পর ইরান ও তার মিত্ররা নিশ্চিতভাবেই প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নেবে।’
অস্টিনে বন্দুকধারী ও ইরান-সংযোগ
এদিকে গত রোববার টেক্সাসের অস্টিনে একটি পানশালায় বন্দুকধারীর গুলিতে অন্তত দুজন নিহতের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিশি অভিযানে নিহত ওই বন্দুকধারীর পোশাকে ইরানের পতাকা এবং ‘প্রপার্টি অব আল্লাহ’ লেখা ছিল বলে জানা গেছে। তবে এই হামলার পেছনে খামেনেইর মৃত্যুর কোনো সরাসরি যোগসূত্র আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে এফবিআই।
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে
শনিবার থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েল ও মার্কিন বিমান হামলা সোমবার আরও বিস্তৃত হয়েছে। হিজবুল্লাহর রকেট হামলার জবাবে ইসরায়েল লেবাননে আক্রমণ চালিয়েছে। অন্যদিকে, উপসাগরীয় দেশগুলোতে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত রেখেছে তেহরান।
মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি ক্রিস্টি নোম এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘আমরা আমাদের গোয়েন্দা ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে সরাসরি সমন্বয় করছি। দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষায় যেকোনো সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় আমরা প্রস্তুত।’
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের যে আহ্বান জানিয়েছেন, তার প্রেক্ষাপটে ইরানি বিক্ষোভের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করা হতে পারে বলেও গোয়েন্দা প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে।