বিশেষ প্রতিনিধি : গাজীপুরে ধাপে ধাপে কারখানা ছুটি শুরু হওয়ায় ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যানবাহন ও যাত্রীর চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) বিকেল ৪টা থেকে মহাসড়কে এই চিত্র দেখা যাচ্ছে। সন্ধ্যার পর থেকে চাপ বেড়েছে যানবাহন ও যাত্রীদের। যার ফলে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক ও চন্দ্রা-নবীনগরে ১২ কিলোমিটারজুড়ে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে।
গাজীপুর শিল্প পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খলিলুর রহমান জানান, সোমবার ৬২টি এবং মঙ্গলবার ৪৪৪টি শিল্পকারখানা ছুটি হয়েছে। বুধবার ১ হাজার ৪১৪টি এবং বৃহস্পতিবার ৮৩৩টি কারখানা ছুটি হবে। তবে ৮১টি কারখানা আংশিক খোলা থাকবে।
বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বাসন সড়ক এলাকায় দেখা যায়, ছুটির পর শ্রমিকরা বাসের জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। কলম্বিয়া পোশাক কারখানার শ্রমিক মশিউর রহমান বলেন, ‘আমি ময়মনসিংহে গ্রামের বাড়ি যাব। আগে থেকে টিকিট কাটা ছিল না। এখন বাসে ওঠার চেষ্টা করছি।’
হেমস পোশাক কারখানার শ্রমিক শাহনাজ পারভীন জানান, দুপুর ১২টায় কারখানা ছুটি হয়েছে। ছুটির পর বাড়ি গিয়ে ব্যাগ নিয়ে এসেছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা তিনজন একসঙ্গে যাব। বাসের জন্য অপেক্ষা করছি। সড়কে বাস একেবারে কম।’

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা এলাকায় উত্তরবঙ্গগামী যাত্রীদের ভিড় লক্ষ করা গেছে। বিকেল ৩টার পর থেকে যাত্রীদের ঢল আরও বেড়েছে। ঈদ উদ্যাপনে পরিবার-পরিজনের সঙ্গে মিলিত হতে ব্যাগ-বস্তা নিয়ে ঘরমুখো হয়েছেন উত্তরবঙ্গের মানুষ। সন্ধ্যার পর থেকে চাপ বেড়েছে কয়েকগুন বেশি। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের সফিপুর থেকে চন্দ্রা টার্মিনাল পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার ও চন্দ্রা-নবীনগর সড়কের কবিরপুর থেকে চন্দ্রা টার্মিনাল পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার সড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে।
কাউন্টারগুলো বন্ধ থাকায় যাত্রীরা নিজ নিজ উদ্যোগে বাসে উঠছে। যার কারণে টার্মিনালে জটলা বেঁধেছে। তবে আগে-পরে সড়ক ফাঁকা। চন্দ্রা বাস টার্মিনাল অনেক গুরুত্বপূর্ণ এলাকা এ জন্যেই হালকা যানজট থাকে।
নাওজোর হাইওয়ে পুলিশের ওসি শওকত উল আলম জানান, বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যাত্রীচাপ বাড়ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। মহাসড়কে নিরাপত্তা জোরদার করতে ৬টি চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে এবং ৪টি মোবাইল টিম সার্বক্ষণিক টহলে রয়েছে।
বিকেল সাড়ে ৪টায় মাওনা হাইওয়ে পুলিশের ওসি কামরুজ্জামান বলেন, পোশাক কারখানার ছুটি হওয়ায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে হঠাৎ চাপ বেড়ে গেছে।
গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসেন জানান, জেলার মোট ২ হাজার ৮৩৪টি কারখানার মধ্যে প্রায় ৯৫ শতাংশে শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রায় ১০ শতাংশ কারখানায় মার্চ মাসের আংশিক বেতন দেওয়া হয়েছে।