ইরানের গ্যাসক্ষেত্রে ইসরায়েলি হামলা, পাল্টা আক্রমণে কাঁপছে উপসাগরীয় অঞ্চল

ইরানের গ্যাসক্ষেত্রে ইসরায়েলি হামলা, পাল্টা আক্রমণে কাঁপছে উপসাগরীয় অঞ্চল

ট্রাম্প বললেন, ইসরায়েল ‘রাগের বশে’ হামলা করেছে — আর কোনো আক্রমণ নয়; কাতার ও সৌদি আরবে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র


রয়টার্স : মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। ইসরায়েল ইরানের অন্যতম প্রধান গ্যাসক্ষেত্র সাউথ পার্সে হামলা চালানোর পর পাল্টা জবাবে ইরান কাতার ও সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামোয় ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এই ঘটনায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে অভূতপূর্ব সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইসরায়েল ‘রাগের বশে’ এই হামলা চালিয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র এ বিষয়ে আগে থেকে কিছু জানত না। তিনি সামাজিক মাধ্যম এক্সে লেখেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে যা ঘটেছে তার ক্রোধে ইসরায়েল সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে তীব্র হামলা চালিয়েছে।’ তবে ইরান যদি নতুন করে আক্রমণ না করে, তাহলে ইসরায়েল আর হামলা করবে না বলেও তিনি ঘোষণা দেন।

ট্রাম্প একই সঙ্গে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ইরান যদি কাতারে আঘাত হানা অব্যাহত রাখে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ‘ইসরায়েলের সম্মতি ছাড়াই’ সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্র সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেবে।

কাতার ও সৌদি আরবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি
কাতারের রাষ্ট্রীয় জ্বালানি প্রতিষ্ঠান কাতারএনার্জি জানিয়েছে, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় রাস লাফান শিল্প নগরীতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সুবিধাগুলোতে বড় আগুন লেগেছে। এই শিল্পকেন্দ্রটি বিশ্বের মোট গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ প্রক্রিয়া করে।

সৌদি আরব জানিয়েছে, রিয়াদ লক্ষ্য করে ছোড়া চারটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও পূর্বাঞ্চলের একটি গ্যাস স্থাপনায় ড্রোন হামলার চেষ্টা তারা প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানের ‘সন্ত্রাসী হামলার’ পর তার হাবশান গ্যাস সুবিধাটি বন্ধ করে দিয়েছে।

মুসলিম দেশগুলোর নিন্দা
রিয়াদে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ১২টি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ইরানের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। বাসস্থান ও বেসামরিক অবকাঠামোতে ইরানের আঘাতকে ‘কোনো পরিস্থিতিতেই ন্যায়সঙ্গত নয়’ বলে উল্লেখ করে তাঁরা অবিলম্বে হামলা বন্ধের আহ্বান জানান।

সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফরহান বলেন, এই চাপ ইরানের জন্য রাজনৈতিক ও নৈতিকভাবে উল্টো ফল বয়ে আনবে এবং প্রয়োজনে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকার তাঁরা সংরক্ষণ করেন।

প্রাণহানি ও মানবিক বিপর্যয়
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হরানার তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েলি অভিযান শুরুর পর থেকে ইরানে তিন হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। লেবাননে নিহতের সংখ্যা ৯০০ ছাড়িয়েছে এবং ৮ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ইরাক ও উপসাগরীয় দেশগুলোতেও ইরানি হামলায় বেসামরিক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। এ পর্যন্ত কমপক্ষে ১৩ জন মার্কিন সামরিক সদস্য নিহত হয়েছেন।

পরিস্থিতি সামাল দিতে ট্রাম্প প্রশাসন মধ্যপ্রাচ্যে আরও হাজার হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েনের বিষয়টি বিবেচনা করছে বলে জানা গেছে। বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের এক-পঞ্চমাংশের পথ হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে এই সেনারা কাজে লাগানো হতে পারে।